ভূমি উন্নয়ন কর আদায়ের কার্যক্রম আরও দ্রুত ও স্বচ্ছ করতে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে ভূমি মন্ত্রণালয়। সেবাগ্রহীতাদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কমানো এবং ভূমি কর ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর করতে এবার নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, হোল্ডিং খোলার আবেদন যাচাই শেষে সর্বোচ্চ ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হবে। একই সঙ্গে ভূমি উন্নয়ন কর সংক্রান্ত আপত্তি নিষ্পত্তির সময়সীমাও নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি দেশের সব সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর পাঠানো এক চিঠিতে এসব নির্দেশনা দিয়েছে ভূমি মন্ত্রণালয়। এতে বলা হয়েছে, নাগরিকদের ভূমি সংক্রান্ত সেবা সহজ ও দ্রুত দিতে মাঠ প্রশাসনকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
আরও পড়ুন-দেশজুড়ে এক হাজার ভূমি সেবা কেন্দ্র এখন ঘরে বসেই মিলছে সব ভূমি সেবা
মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে, ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের জন্য কেউ নতুন হোল্ডিং খোলার আবেদন করলে সেটি যাচাই-বাছাই শেষে অনধিক ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হবে। অর্থাৎ আবেদন জমা দেওয়ার পর অযথা দীর্ঘসূত্রতা করা যাবে না। আবেদন অনুমোদনের উপযোগী হলে দ্রুত কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে, আর কোনো কারণে আবেদন গ্রহণযোগ্য না হলে সেটিও স্পষ্টভাবে জানাতে হবে।
চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, আবেদন বাতিল করা হলে উপযুক্ত কারণ উল্লেখ করতে হবে যাতে সেবাগ্রহীতা বুঝতে পারেন কেন আবেদন গ্রহণ করা হয়নি। অনেক সময় নাগরিকরা আবেদন বাতিলের কারণ জানতে না পারায় নতুন করে জটিলতায় পড়েন। নতুন নির্দেশনায় সেই সমস্যা কমানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া ভূমি উন্নয়ন করের পরিমাণ, বকেয়া সন বা জমির ব্যবহারভিত্তিক শ্রেণি নিয়ে কোনো নাগরিক আপত্তি জানালে সেটিও দ্রুত নিষ্পত্তি করতে হবে। সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কাছে এ ধরনের আপত্তি জমা হওয়ার পর সর্বোচ্চ সাত দিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে ভূমি অফিসে সেবা পেতে সাধারণ মানুষকে নানা ধরনের হয়রানি ও দীর্ঘ অপেক্ষার মুখে পড়তে হতো। বিশেষ করে হোল্ডিং খোলা, কর নির্ধারণ বা জমির শ্রেণি সংক্রান্ত জটিলতায় অনেক আবেদন মাসের পর মাস ঝুলে থাকত। এতে নাগরিক ভোগান্তির পাশাপাশি সরকারি রাজস্ব আদায়েও প্রভাব পড়ত।
ভূমি মন্ত্রণালয়ের নতুন এই পদক্ষেপকে ডিজিটাল ও জবাবদিহিমূলক ভূমি ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তারা বলছেন, নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়ায় মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের কাজের গতি বাড়বে এবং সেবাপ্রার্থীরাও দ্রুত ফল পাবেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূমি সংক্রান্ত সেবা দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নাগরিকসেবা হলেও এই খাতে দীর্ঘদিন ধরে ধীরগতি, জটিলতা ও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আবেদন নিষ্পত্তির বাধ্যবাধকতা চালু হলে সাধারণ মানুষের আস্থা বাড়বে এবং সেবা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আসবে।
তারা আরও বলছেন, বর্তমানে দেশের বিভিন্ন এলাকায় অনলাইনে ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ এবং ডিজিটাল রেকর্ড ব্যবস্থাপনা চালু হয়েছে। এর ফলে ভূমি প্রশাসন ধীরে ধীরে প্রযুক্তিনির্ভর কাঠামোয় যাচ্ছে। নতুন নির্দেশনাগুলো কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে নাগরিক সেবায় আরও ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।
এদিকে মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেবা নিশ্চিত করতে অনলাইন যাচাই ব্যবস্থা, তথ্যভান্ডার সমন্বয় এবং পর্যাপ্ত জনবলও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে আবেদনকারীদের সঠিক তথ্য প্রদান নিশ্চিত করাও প্রয়োজন।
সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, নতুন এই নির্দেশনার মাধ্যমে ভূমি উন্নয়ন কর আদায় কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে এবং সাধারণ মানুষ দ্রুত ও ঝামেলামুক্ত সেবা পাবেন। পাশাপাশি সরকারি রাজস্ব আদায় বাড়ারও সম্ভাবনা রয়েছে।
সূত্র: ভূমি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা।
আরও পড়ুন-অনলাইনে জমির খাজনা দেওয়ার নিয়ম ২০২৬
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔










