মালয়েশিয়ায় বিদেশি শ্রমিক নিয়োগে আসছে নতুন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম খরচ ও ঝুঁকি নিয়ে বাড়ছে প্রশ্ন

প্রকাশিত: 30-03-2026 2:37 PM
মালয়েশিয়ায় বিদেশি শ্রমিক নিয়োগে আসছে নতুন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম খরচ ও ঝুঁকি নিয়ে বাড়ছে প্রশ্ন

মালয়েশিয়ায় বিদেশি শ্রমিক নিয়োগ ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও স্বচ্ছ করতে নতুন একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম চালুর পরিকল্পনা করছে সরকার। প্রস্তাবিত এই সিস্টেমটির নাম হতে পারে “ইউনিভার্সাল রিক্রুটমেন্ট অ্যাডভান্স প্ল্যাটফর্ম”, যা চালু হলে শ্রমবাজারে বড় পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে এ নিয়ে ইতোমধ্যেই সংশ্লিষ্ট মহলে শুরু হয়েছে আলোচনা, প্রশ্ন এবং উদ্বেগ।

আরও পড়ুন-বিশ্ব পাসপোর্ট র‍্যাংকিংয়ে দুই ধাপ উন্নতি বাংলাদেশের

বিদেশি শ্রমিক নিয়োগ প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন ধরেই উচ্চ ব্যয়, জটিলতা এবং নানা প্রশাসনিক ধাপের কারণে সমালোচিত। নতুন প্ল্যাটফর্মের লক্ষ্য হলো এসব জটিলতা কমিয়ে একটি স্বচ্ছ ও কার্যকর নিয়োগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা। তবে শিল্পখাতের অনেকেই আশঙ্কা করছেন, এটি বিদ্যমান ব্যবস্থাকে সহজ করার বদলে বরং আরও একটি অতিরিক্ত স্তর তৈরি করতে পারে।

মালয়েশিয়ার ৭০০-এর বেশি বেসরকারি নিয়োগ সংস্থার সংগঠন Persatuan Agensi Pekerjaan Malaysia (PAPA) এই প্রস্তাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংগঠনটির সহ-সভাপতি সুরেশ তান বলেন, বিদেশি শ্রমিক নিয়োগ একটি জটিল প্রক্রিয়া, যেখানে ডকুমেন্টেশন, স্বাস্থ্য পরীক্ষা, ভিসা এবং প্রশিক্ষণসহ বহু ধাপ জড়িত।

তিনি প্রশ্ন তুলেছেন—নিয়োগ প্রক্রিয়ার ঝুঁকি কে নেবে, প্রাথমিক খরচ কে বহন করবে এবং শ্রমিক অযোগ্য হলে বা পালিয়ে গেলে দায়ভার কার ওপর পড়বে? তার মতে, লাইসেন্সপ্রাপ্ত এজেন্সিগুলোর ভূমিকা কমিয়ে দিলে পুরো ব্যবস্থার দায়বদ্ধতা কমে যেতে পারে।

সুরেশ তান আরও দাবি করেন, আন্তর্জাতিক সংস্থা যেমন International Labour Organization এবং International Organization for Migration-এর সুপারিশ সঠিকভাবে বোঝা হচ্ছে না। এসব সংস্থা সরাসরি নিয়োগ প্রক্রিয়া পরিচালনা করে না, বরং নীতিনির্ধারণ ও তদারকির ভূমিকা পালন করে।

এদিকে, মালয়েশিয়ায় ২০০৭ সাল থেকে চালু থাকা সরকার-টু-সরকার (G2G) পদ্ধতির সফলতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের আশঙ্কা, উৎস দেশের লাইসেন্সপ্রাপ্ত এজেন্সি বাদ পড়লে মানবপাচারের ঝুঁকি বাড়তে পারে এবং নিয়োগ প্রক্রিয়া আরও অনিয়ন্ত্রিত হয়ে উঠতে পারে।

ইমিগ্রেশন বিভাগের তথ্যমতে, নতুন এই সিস্টেম চালু হলে একজন শ্রমিক নিয়োগে খরচ হতে পারে প্রায় ১,০০০ মার্কিন ডলার বা প্রায় ৪,০০০ রিঙ্গিত। এতে বিমান ভাড়া, প্রসেসিং ফি এবং সার্ভিস চার্জ অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এতে সবচেয়ে বেশি চাপ পড়তে পারে ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের ওপর।

বর্তমানে মালয়েশিয়ায় বিদেশি শ্রমিক ব্যবস্থাপনা মূলত দুটি বড় সিস্টেমের ওপর নির্ভরশীল—ফরেন ওয়ার্কার সেন্ট্রালাইজড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (FWCMS) এবং ন্যাশনাল ইন্টিগ্রেটেড ইমিগ্রেশন সিস্টেম (NIIS)। সরকার ইতোমধ্যে এই দুটি প্রকল্পে বিপুল অর্থ ব্যয় করেছে, যার মধ্যে FWCMS-এ ৩৮১ মিলিয়ন রিঙ্গিত এবং NIIS প্রকল্পে প্রায় ১.০১ বিলিয়ন রিঙ্গিত বিনিয়োগ করা হয়েছে।

এই অবস্থায় নতুন আরেকটি প্ল্যাটফর্ম চালুর যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। অনেকেই মনে করছেন, বিদ্যমান সিস্টেম উন্নত করাই বেশি কার্যকর হতে পারে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এখন পর্যন্ত এই নতুন প্ল্যাটফর্ম নিয়ে মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি। ফলে বিষয়টি এখনো পরিকল্পনা পর্যায়েই রয়েছে।

সব মিলিয়ে বলা যায়, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে স্বচ্ছতা ও আধুনিকায়নের লক্ষ্যে নতুন এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ হলেও এর বাস্তবায়ন, কাঠামো এবং কার্যকারিতা নিয়ে এখনই স্পষ্টতা প্রয়োজন।

আরও পড়ুন-বাংলাদেশে একের পর এক উপদেষ্টা লাল কূটনৈতিক পাসপোর্ট ফেরত দিয়ে সাধারণ পাসপোর্টের আবেদন

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।

✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔

📌 পোস্টটি শেয়ার করুন! 🔥

স্টাফ রিপোর্টার

স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে আমি 'টেক বাংলা নিউজ' (ssitbari.com)-এ নিয়মিত বিভিন্ন তথ্যভিত্তিক ও আপডেটেড কনটেন্ট প্রকাশ করি। প্রযুক্তি, মোবাইল, গ্যাজেটসহ প্রয়োজনীয় অন্যান্য বিষয় সহজ ও বোধগম্য ভাষায় পাঠকদের কাছে তুলে ধরা আমার লক্ষ্য। নির্ভরযোগ্য তথ্য, বিশ্লেষণ ও উপকারী টিপসের মাধ্যমে পাঠকদের সঠিক দিকনির্দেশনা দেওয়ার চেষ্টা করি।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now