প্রযুক্তির ব্যবহার যত বাড়ছে, ততই বাড়ছে ডিজিটাল হয়রানি ও গোপন নজরদারির ঘটনা। তবে উদ্বেগজনক বিষয় হলো—অনেক মানুষ এখনো বুঝতেই পারছেন না যে তারা প্রযুক্তিনির্ভর নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন।
আরও পড়ুনঃ- স্মার্টফোনে ফেস লক ব্যবহার করছেন? জেনে নিন কতটা নিরাপদ
এমন তথ্য উঠে এসেছে গ্লোবাল সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান Kaspersky–এর সাম্প্রতিক এক গবেষণায়।
প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, অনলাইনে হয়রানি, গোপনে নজরদারি, পরিচয় ভুয়া হিসেবে ব্যবহার, ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস কিংবা ডিজিটাল স্টকিংয়ের মতো ঘটনা দিন দিন বাড়লেও অধিকাংশ মানুষ এগুলোকে এখনো গুরুতর নির্যাতন হিসেবে দেখছেন না।
গবেষণাটি পরিচালনায় সহযোগিতা করেছে University College London বা ইউসিএল। সচেতনতা বাড়াতে তারা বিভিন্ন কর্মশালা ও শিক্ষামূলক কার্যক্রমও পরিচালনা করছে।
কী ধরনের হয়রানি বাড়ছে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রযুক্তিনির্ভর হয়রানির মধ্যে সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে অনলাইন হ্যারাসমেন্ট, গোপন নজরদারি, লোকেশন ট্র্যাকিং, সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন করা এবং ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশের ঘটনা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে এসব আচরণ অনেক সময় “স্বাভাবিক” হিসেবে ধরে নেওয়া হয়। ফলে ভুক্তভোগীরা অনেক ক্ষেত্রেই বুঝতে পারেন না যে তারা নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন।
ইউসিএলের কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর ড. লিওনি মারিয়া ট্যানজার বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর নির্যাতন এখনো সমাজে যথেষ্ট গুরুত্ব পাচ্ছে না।
তার ভাষায়, অনেক মানুষই জানেন না কোন ধরনের আচরণকে প্রযুক্তিনির্ভর নির্যাতন বলা হয়। ফলে অসংখ্য ভুক্তভোগীর অভিজ্ঞতা প্রকাশই পায় না এবং তারা প্রয়োজনীয় সহায়তাও পান না।
গবেষণায় যা উঠে এসেছে
ক্যাসপারস্কির গবেষণায় দেখা গেছে, মাত্র ৩২ শতাংশ মানুষ “টেক-ফ্যাসিলিটেটেড অ্যাবিউজ” সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা রাখেন।
অথচ প্রায় ৪৫ দশমিক ৭ শতাংশ অংশগ্রহণকারী জানিয়েছেন, তারা নিজেরাই কোনো না কোনো ধরনের প্রযুক্তিনির্ভর হয়রানির শিকার হয়েছেন।
অনেকেই একই সঙ্গে একাধিক ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে অনলাইন স্টকিং, ডক্সিং, সামাজিক বিচ্ছিন্নতা এবং পরিচয় অপব্যবহার।
স্টকারওয়্যার নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ
গবেষণায় “স্টকারওয়্যার”–কে বড় ধরনের সাইবার ঝুঁকি হিসেবে উল্লেখ করেছে ক্যাসপারস্কি।
স্টকারওয়্যার হলো এমন এক ধরনের গোপন সফটওয়্যার, যা অজান্তেই কারও স্মার্টফোনে ইনস্টল করে তার অবস্থান, কল, মেসেজ এবং অনলাইন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা যায়।
ক্যাসপারস্কির গ্লোবাল রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস টিমের লিড সিকিউরিটি রিসার্চার তাতিয়ানা শিশকোভা বলেন, এই ধরনের সফটওয়্যার খুব সহজেই ডাউনলোড ও ইনস্টল করা যায়।
তিনি জানান, স্টকারওয়্যার সাধারণত ব্যাকগ্রাউন্ডে গোপনে কাজ করে। ফলে অধিকাংশ ভুক্তভোগী বুঝতেই পারেন না যে তাদের প্রতিটি কার্যক্রম নজরদারিতে রয়েছে।
কীভাবে নিরাপদ থাকবেন?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্মার্টফোনে অস্বাভাবিক আচরণ দেখা গেলে সতর্ক হতে হবে।
যেমন—হঠাৎ ব্যাটারি দ্রুত শেষ হওয়া, ফোন অতিরিক্ত গরম হওয়া, অজানা অ্যাপ দেখা যাওয়া বা অস্বাভাবিক ডাটা ব্যবহার বৃদ্ধি স্টকারওয়্যারের লক্ষণ হতে পারে।
ক্যাসপারস্কি ব্যবহারকারীদের নিয়মিত নিরাপত্তা সফটওয়্যার ব্যবহার, সন্দেহজনক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে দ্রুত নিরাপদ সহায়তা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।
এছাড়া প্রতিষ্ঠানটি “Coalition Against Stalkerware”–এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে প্রযুক্তিনির্ভর নির্যাতন মোকাবিলায় বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে কাজ করছে।
সূত্রঃ- ক্যাসপারস্কির গবেষণা প্রতিবেদন ও ইউসিএলের তথ্য।
আরও পড়ুনঃ- ফোনের ক্যামেরা গোপনে কেউ চালু করেছে? যেসব লক্ষণ দেখলেই সতর্ক হবেন






