বর্তমানে অধিকাংশ স্মার্টফোনেই ফেস লক বা ফেস আনলক প্রযুক্তি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। দ্রুত ফোন আনলক করার সুবিধার কারণে অনেক ব্যবহারকারী পাসওয়ার্ড বা পিনের বদলে এই ফিচার ব্যবহার করছেন। তবে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সব ধরনের ফেস লক সমান নিরাপদ নয়। ভুলভাবে ব্যবহার করলে ব্যক্তিগত তথ্য চুরি থেকে শুরু করে আর্থিক জালিয়াতির মতো বড় ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।
আরও পড়ুনঃ- স্মার্টফোনে সবসময় ব্লুটুথ অন রাখছেন? যেসব ঝুঁকিতে পড়তে পারেন
বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেক অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনে ফেস লক প্রযুক্তি কেবল সামনের ক্যামেরার ওপর নির্ভর করে কাজ করে। ফলে এসব ফোনে নিরাপত্তা তুলনামূলক দুর্বল হয়। কিছু ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীর ছবি বা ভিডিও দেখিয়েও ফোন আনলক করা সম্ভব হয়, যা বড় ধরনের ঝুঁকির কারণ হতে পারে।
বর্তমানে বাজারে থাকা অনেক বাজেট স্মার্টফোনে ফেস আনলক প্রযুক্তি শুধুমাত্র ২ডি ছবি বিশ্লেষণ করে মুখ শনাক্ত করে। এতে বাস্তব মুখ ও ছবির মধ্যে পার্থক্য নির্ণয়ের সক্ষমতা কম থাকে। ফলে কেউ যদি ব্যবহারকারীর ছবি সংগ্রহ করতে পারে, তাহলে সেই ছবি ব্যবহার করেও ডিভাইস আনলক করার ঝুঁকি তৈরি হয়।
প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, নিরাপদ ফেস লকের জন্য ৩ডি সেন্সরভিত্তিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা উচিত। বিশেষ করে অ্যাপলের ফেস আইডি প্রযুক্তিতে ইনফ্রারেড সেন্সর ও থ্রিডি ডেপথ ম্যাপ ব্যবহার করা হয়, যা সাধারণ ২ডি ফেস আনলকের তুলনায় অনেক বেশি নিরাপদ।
তবে শুধু ফোন আনলক নয়, বর্তমানে অনেকেই ব্যাংকিং অ্যাপ, মোবাইল ওয়ালেট বা গুরুত্বপূর্ণ অ্যাপেও ফেস লক ব্যবহার করছেন। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে ফিঙ্গারপ্রিন্ট বা শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার করাই বেশি নিরাপদ। কারণ সব ব্যাংকিং অ্যাপ ফেস আনলক প্রযুক্তিকে সমানভাবে নিরাপদ হিসেবে বিবেচনা করে না।
আরেকটি বড় সমস্যা হলো দেখতে মিল থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে। অনেক সময় স্মার্টফোনের সেন্সর একই ধরনের মুখ সঠিকভাবে আলাদা করতে পারে না। ফলে ভুল ব্যক্তি ফোন আনলক করে ফেলতে পারেন। এছাড়া কম আলো, সানগ্লাস, মাস্ক বা পরিবর্তিত চেহারার কারণেও ফেস লক সঠিকভাবে কাজ নাও করতে পারে।
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা আরও সতর্ক করেছেন নতুন ধরনের কিছু ঝুঁকি নিয়ে। কিছু ফেস লক প্রযুক্তিতে ব্যবহারকারীর চোখ খোলা আছে কি না, সেটি যাচাই করা হয় না। ফলে কেউ ঘুমিয়ে থাকলেও তার মুখ সামনে ধরেই ফোন আনলক করা সম্ভব হতে পারে।
এই ঝুঁকি এড়াতে “Require eyes to be open” বা “Eyes must be open” অপশন চালু রাখার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এতে ব্যবহারকারীর চোখ খোলা না থাকলে ফোন আনলক হবে না।
নিয়মিত সফটওয়্যার আপডেট করাও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন প্রযুক্তিবিদরা। কারণ পুরোনো সফটওয়্যারে নিরাপত্তা দুর্বলতা থেকে যেতে পারে, যা হ্যাকারদের জন্য সুযোগ তৈরি করতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, স্মার্টফোন সুরক্ষিত রাখতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অনুসরণ করা জরুরি। যেমন— শক্তিশালী পিন বা পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা, ফিঙ্গারপ্রিন্ট লক চালু রাখা এবং গুরুত্বপূর্ণ অ্যাপের জন্য অতিরিক্ত নিরাপত্তা স্তর ব্যবহার করা।
এছাড়া ব্যক্তিগত ছবি ও তথ্য অনলাইনে অতিরিক্ত শেয়ার না করারও পরামর্শ দিয়েছেন তারা। কারণ অনেক সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে থাকা ছবিও অপব্যবহারের শিকার হতে পারে।
প্রযুক্তি যত উন্নত হচ্ছে, নিরাপত্তা ঝুঁকিও তত বাড়ছে। তাই শুধু সুবিধার কথা না ভেবে ফেস লক ব্যবহারে সচেতন হওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সূত্রঃ- প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ ও বিভিন্ন প্রযুক্তিবিষয়ক প্রতিবেদন।
আরও পড়ুনঃ- অজান্তেই যেসব কারণে নষ্ট হচ্ছে স্মার্টফোনের চার্জার









