দেশের সবচেয়ে বড় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চালু হয়েছে সরকারি ফ্রি ব্রডব্যান্ড ওয়াই-ফাই সেবা। এখন থেকে বিমানবন্দরে আসা দেশি-বিদেশি যাত্রীরা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে উচ্চগতির ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারবেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রতিদিন প্রায় ৩৭ হাজার যাত্রী এই সুবিধার আওতায় আসবেন।
আরও পড়ুন-স্টারলিংককে নন-ফিল্টারড ডেটা সুবিধা দিতে যাচ্ছে বিটিআরসি
বিমানবন্দরে যাত্রীসেবা আরও আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশনস কোম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল) এই ফ্রি ওয়াই-ফাই সেবা চালু করেছে। ইতোমধ্যে বিমানবন্দরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ওয়াই-ফাই হটস্পট স্থাপন করা হয়েছে। যাত্রীরা মোবাইল, ল্যাপটপ কিংবা ট্যাব ব্যবহার করে সহজেই এই ইন্টারনেট সেবায় যুক্ত হতে পারবেন।
বিমানবন্দরের ভেতরে বসানো ব্যানার ও কিউআর কোড স্ক্যান করলেই যাত্রীরা সংযোগ পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে পারছেন। সেখানে “BTCL Free WiFi Hotspot Zone” নামে উন্মুক্ত নেটওয়ার্ক ব্যবহার করার সুযোগ রাখা হয়েছে। এছাড়া নিরাপদ সংযোগের জন্য আলাদা সিকিউরড নেটওয়ার্কও রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক মানের যাত্রীসেবা নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিদেশ থেকে আসা যাত্রীদের অনেক সময় মোবাইল ডাটা ব্যবহার করতে সমস্যা হয়। আবার অনেক যাত্রী জরুরি যোগাযোগ, অনলাইন টিকেট, ইমেইল বা অ্যাপভিত্তিক সেবা ব্যবহারের জন্য ইন্টারনেটের প্রয়োজন অনুভব করেন। নতুন এই ফ্রি ওয়াই-ফাই সুবিধা তাদের জন্য বড় স্বস্তি হয়ে উঠবে বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রযুক্তি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আধুনিক বিশ্বের প্রায় সব বড় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেই ফ্রি ওয়াই-ফাই সেবা রয়েছে। বাংলাদেশের প্রধান বিমানবন্দরেও এমন সুবিধা চালু হওয়ায় দেশের ডিজিটাল অবকাঠামো আরও এগিয়ে গেল।
বিমানবন্দর ব্যবহারকারী অনেক যাত্রীও এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, বিদেশ যাত্রা বা দেশে ফেরার পর অনেক সময় মোবাইল নেটওয়ার্ক সচল হতে দেরি হয়। তখন ফ্রি ওয়াই-ফাই থাকলে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা সহজ হবে।
জানা গেছে, বিটিসিএলের এই ব্রডব্যান্ড নেটওয়ার্ক উচ্চগতির ফাইবার অপটিক সংযোগের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। ফলে একই সঙ্গে হাজারো ব্যবহারকারী সংযুক্ত হলেও ইন্টারনেটের গতি স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করা হবে।
সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনা, হাসপাতাল, রেলস্টেশন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও গণপরিবহন কেন্দ্রেও ধাপে ধাপে এমন ফ্রি ইন্টারনেট সুবিধা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ফ্রি ওয়াই-ফাই শুধু যাত্রীসেবা নয়, এটি দেশের ডিজিটাল রূপান্তরের অংশ হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ প্রযুক্তিনির্ভর সেবা ব্যবহারে মানুষের আগ্রহ বাড়লে ডিজিটাল অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে।
শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নতুন এই সেবা চালুর ফলে এখন যাত্রীরা অপেক্ষার সময় ভিডিও কল, অনলাইন চেক-ইন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার, জরুরি অফিসিয়াল কাজ কিংবা অনলাইন তথ্য অনুসন্ধান সহজেই করতে পারবেন।
সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, ফ্রি সরকারি ব্রডব্যান্ড ওয়াই-ফাই সেবা চালুর মাধ্যমে বিমানবন্দরে যাত্রীদের অভিজ্ঞতা আরও আধুনিক, সহজ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় হবে।
সূত্র: বিটিসিএল ও সংশ্লিষ্ট বিমানবন্দর সূত্র।
আরও পড়ুন-ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের দাম কমালো বিটিআরসি, কম টাকায় বেশি স্পিড










