আমাদের Telegram চ্যানেলে যুক্ত হোন

সরকারি চাকরিতে ৪ লাখ ৬৮ হাজার পদ শূন্য নিয়োগে কেন স্থবিরতা

সরকারি চাকরিতে ৪ লাখ ৬৮ হাজার পদ শূন্য নিয়োগে কেন স্থবিরতা

দেশের জনপ্রশাসনে জনবল সংকট নতুন মাত্রা নিয়েছে। সরকারি হিসাবে অনুমোদিত ১৯ লাখ ১৫১টি পদের বিপরীতে বর্তমানে শূন্য রয়েছে ৪ লাখ ৬৮ হাজার ২২০টি পদ। অর্থাৎ মোট জনবলের প্রায় এক-চতুর্থাংশ পদ খালি থাকলেও সেগুলো পূরণে বড় ধরনের কোনো নিয়োগ কার্যক্রম দৃশ্যমান নয়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মামলা, পুরোনো নিয়োগবিধি, রাজনৈতিক তদবির, প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঝুঁকি এবং প্রশাসনিক অনাগ্রহ—সব মিলিয়ে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় এক ধরনের স্থবিরতা তৈরি হয়েছে।

আরও পড়ুন-BOESL-এর মাধ্যমে ফিজিতে চাকরি ,আবেদন শুরু, যোগ্যতা ও আবেদন পদ্ধতি

জনপ্রশাসনের এই পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তাদের মতে, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তরে দীর্ঘদিন ধরে পদ খালি থাকায় জনসেবা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। তবে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করলেও নানা আইনি জটিলতা এবং চাপের কারণে তা মাঝপথে থেমে যাচ্ছে।

একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নিয়োগসংক্রান্ত মামলা-মোকদ্দমা এখন বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কোনো একটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর আদালতে মামলা হলে পুরো প্রক্রিয়াই আটকে যায়। ফলে নতুন নিয়োগ দিতে গিয়ে প্রশাসন ঝুঁকি নিতে চায় না। এ বিষয়ে এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, নিয়োগে তদবির নতুন কিছু নয়, তবে এখন মামলা ও চাপের কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এএসএম সালেহ আহমেদ জানিয়েছেন, যেসব পদে আইনি জটিলতা নেই সেগুলোতে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। তবে আইনগত সমস্যা থাকলে সেগুলো এড়িয়ে চলা হচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে জটিলতা তৈরি না হয়।

জনপ্রশাসন বিশ্লেষকদের মতে, নিয়োগবিধির পুরোনো কাঠামোও বড় একটি সমস্যা। অনেক মন্ত্রণালয়ের নিয়োগবিধি ৩০ থেকে ৩৫ বছর আগের, যা বর্তমান বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ফলে নতুন করে নিয়োগ দিতে গেলে প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হচ্ছে এবং সময়ও বেশি লাগছে।

প্রশ্নপত্র ফাঁসের আশঙ্কা নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে। আগে লিখিত পরীক্ষার দায়িত্ব বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় বা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এর মতো প্রতিষ্ঠানের ওপর থাকলেও এখন অনেক ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয়গুলোকে নিজেরাই পরীক্ষা নিতে হচ্ছে। এতে করে স্বচ্ছতা বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে বলে মনে করছেন কর্মকর্তারা।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব কেএম আব্দুল ওয়াদুদ জানিয়েছেন, বর্তমানে নিয়োগ দেওয়া একটি ঝুঁকিপূর্ণ কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ উঠলে তদন্ত, গণমাধ্যমের চাপ এবং ব্যক্তিগত জবাবদিহির ঝুঁকি নিতে অনেক কর্মকর্তা আগ্রহী নন। ফলে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ধীরগতি দেখা যাচ্ছে।

রাজনৈতিক প্রভাব ও তদবির নিয়োগ প্রক্রিয়ার আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ। অনেক ক্ষেত্রে একটি পদের জন্য অসংখ্য সুপারিশপত্র (ডিও লেটার) আসে। একজন কর্মকর্তা জানান, মাত্র ৫০টি পদের জন্য ৫২টি সুপারিশপত্র এক সংসদ সদস্যই পাঠিয়েছিলেন। এতে করে নিরপেক্ষভাবে নিয়োগ দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির একটি পদের জন্য ৮০ থেকে ১২০টি পর্যন্ত সুপারিশ আসে। কোনটি গ্রহণ করা হবে আর কোনটি বাদ দেওয়া হবে—সেটিই বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। ফলে সামান্য ভুল হলেও পুরো দায় নিতে হয় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের।

এদিকে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দালালচক্রের সক্রিয়তাও উদ্বেগজনক। প্রশ্নপত্র ফাঁস বা অনিয়মের অভিযোগ উঠলে তদন্ত ও সমালোচনার মুখে পড়তে হয় সংশ্লিষ্টদের। এতে করে কর্মকর্তাদের মধ্যে এক ধরনের ভয় কাজ করছে, যা নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও ধীর করে দিচ্ছে।

সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি শূন্য পদ রয়েছে স্বাস্থ্য খাতে—৭৪ হাজার ৫৭৪টি। এর পরেই রয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, যেখানে শূন্য পদ ৪৪ হাজার ৭৯০টি। এছাড়া অর্থ, স্বরাষ্ট্র, রেলপথ, শিক্ষা, কৃষি ও মৎস্য খাতেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পদ খালি রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘদিন পদ শূন্য থাকলে জনসেবার মান কমে যায় এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা তৈরি হয়। তাই দ্রুত নিয়োগ প্রক্রিয়া সংস্কার, নিয়োগবিধি হালনাগাদ এবং প্রযুক্তিনির্ভর স্বচ্ছ পদ্ধতি চালুর ওপর জোর দিয়েছেন তারা।

সব মিলিয়ে বলা যায়, সরকারি চাকরিতে বিপুল সংখ্যক পদ খালি থাকলেও নানা জটিলতায় নিয়োগ কার্যক্রম এগোচ্ছে ধীরগতিতে। এই স্থবিরতা কাটাতে হলে আইনি জটিলতা নিরসন, স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ এবং প্রশাসনিক সাহসিকতা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সূত্র: জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট তথ্য, কর্মকর্তাদের বক্তব্য ও বিশ্লেষণ।

আরও পড়ুন-জাপানে ১৬ খাতে কর্মী নিচ্ছে বাংলাদেশ থেকে ৩ লাখের বেশি জনশক্তির বড় সুযোগ

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।

✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔

📌 পোস্টটি শেয়ার করুন! 🔥

স্টাফ রিপোর্টার

স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে আমি 'টেক বাংলা নিউজ' (ssitbari.com)-এ নিয়মিত বিভিন্ন তথ্যভিত্তিক ও আপডেটেড কনটেন্ট প্রকাশ করি। প্রযুক্তি, মোবাইল, গ্যাজেটসহ প্রয়োজনীয় অন্যান্য বিষয় সহজ ও বোধগম্য ভাষায় পাঠকদের কাছে তুলে ধরা আমার লক্ষ্য। নির্ভরযোগ্য তথ্য, বিশ্লেষণ ও উপকারী টিপসের মাধ্যমে পাঠকদের সঠিক দিকনির্দেশনা দেওয়ার চেষ্টা করি।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now