শিশুদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনে ২২ জেলায় হচ্ছে ‘শিশু স্বর্গ’
২২ জেলায় হচ্ছে ‘শিশু স্বর্গ’
দেশের ২২ জেলায় সরকারি উদ্যোগে ‘শিশু স্বর্গ’ গড়ে তোলা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। তিনি বলেছেন, দেশে সেরিব্রাল পালসিতে আক্রান্ত প্রায় সাড়ে তিন লাখ শিশুর সমন্বিত চিকিৎসা ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস অ্যান্ড হাসপাতালে বিশ্ব সেরিব্রাল পালসি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় স্বাস্থ্য খাতে সর্বোচ্চ বাজেট দেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে সেরিব্রাল পালসিতে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য দেশের ২২ জেলায় ‘শিশু স্বর্গ’ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, সরকারি উদ্যোগে সম্প্রতি রাজধানীর কড়াইল বস্তিতে একটি পাইলট প্রকল্পও শুরু হয়েছে। সেখানে শনাক্ত হওয়া প্রায় ৩০০ শিশুকে বিভিন্ন ধরনের সেবা দেওয়া হচ্ছে।
চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ভূমিকার প্রশংসা করে এম এ মুহিত বলেন, নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও স্বাস্থ্যকর্মীরা প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক রোগীকে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য একটি সার্বজনীন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য খাতের সংশ্লিষ্ট সবার ঐক্যবদ্ধ সহযোগিতা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিশুদের কাছে দ্রুত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে ‘কমিউনিটি বেসড আর্লি কেস ডিটেকশন’ বা প্রাথমিক পর্যায়েই রোগ শনাক্ত করার ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি। এতে সেরিব্রাল পালসিতে আক্রান্ত শিশুদের দ্রুত শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পুনর্বাসন সেবার আওতায় আনা সম্ভব হবে।
অনুষ্ঠানের আগে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস অ্যান্ড হাসপাতালের সামনে থেকে একটি সচেতনতামূলক র্যালি বের করা হয়। এতে হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্সসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশ নেন।
প্রতিবছর ৬ অক্টোবর বিশ্ব সেরিব্রাল পালসি দিবস পালিত হয়। সেরিব্রাল পালসিতে আক্রান্ত ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের অধিকার, চিকিৎসা, পুনর্বাসন, শিক্ষা এবং সামাজিক অন্তর্ভুক্তি নিয়ে সচেতনতা তৈরিতে দিনটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সেরিব্রাল পালসি শুধু শিশুর চলাফেরায় সমস্যা তৈরি করে না; আক্রান্ত ব্যক্তির ক্ষেত্রে কথা বলা, খাওয়া, দৃষ্টি, শ্রবণ, শেখা ও দৈনন্দিন কাজেও বিভিন্ন মাত্রার সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে সব শিশুর ক্ষেত্রে সমস্যার ধরন ও মাত্রা এক নয়।
স্বাস্থ্য বিভাগের এ উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সেরিব্রাল পালসিতে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনসেবা আরও সহজলভ্য করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
