শিশুর মৃত্যু ঘিরে চাটখিল হাসপাতালে ভাঙচুর, তদন্তের নির্দেশ

প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:২৯ অপরাহ্ণ
শিশুর মৃত্যু ঘিরে চাটখিল হাসপাতালে ভাঙচুর, তদন্তের নির্দেশ

দুই মাস বয়সী শিশুর মৃত্যুর পর চাটখিল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।

নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন দুই মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যুর পর হাসপাতালটিতে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত কয়েক দফায় হাসপাতালের বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুর চালান শিশুটির স্বজনসহ স্থানীয় বাসিন্দারা। এ ঘটনায় শিশুটির চিকিৎসায় কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মারা যাওয়া শিশুটির নাম ফাতেমা হাসান রিমি। সে উপজেলার হাটপুকুরিয়া ঘাটলাবাগ ইউনিয়নের বক্তারপুর মুন্সিমিয়া চৌকিদার বাড়ির রবিউল হাসান ও উম্মে সালমা দম্পতির মেয়ে। সোমবার বেলা আড়াইটার দিকে তাকে চাটখিল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এর প্রায় আধা ঘণ্টা পর বেলা তিনটার দিকে শিশুটির মৃত্যু হয়।

শিশুটির স্বজনদের দাবি, হাসপাতালে ভর্তির পর কর্তব্যরত নার্স তাকে ইনজেকশন ও স্যালাইন দেন। এরপর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। একপর্যায়ে শিশুটির অক্সিজেন প্রয়োজন হলে হাসপাতালে অক্সিজেন নেই বলে জানানো হয়। পরে শিশুটির মৃত্যু হয়। শিশুটির মা উম্মে সালমা ভুল চিকিৎসা ও অবহেলার কারণে মেয়ের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ করেন।

শিশুটির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ক্ষুব্ধ স্বজনেরা হাসপাতালে ভাঙচুর শুরু করেন বলে স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে। হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তার (আরএমও) কক্ষসহ বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুর করা হয়। খবর পেয়ে চাটখিল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ শিশুটির সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে।

এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শিশুটির পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন।

চাটখিল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা চিকিৎসক শাহরিন আক্তার জানান, শিশুটি প্রায় এক মাস ধরে অসুস্থ ছিল। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনার আগে বিভিন্ন হাসপাতালে তার চিকিৎসা চলছিল। হামের উপসর্গ নিয়ে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় শিশুটিকে হাসপাতালে আনা হলে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়।

শাহরিন আক্তারের ভাষ্য, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, স্যালাইন চলার সময় শিশুটির মা তাকে বুকের দুধ খাওয়াচ্ছিলেন। ওই সময় বুকের দুধ শিশুটির শ্বাসনালিতে আটকে যাওয়ায় তার অবস্থার অবনতি ঘটে। পরে শিশুটির মৃত্যু হয়।

হাসপাতালে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় তৃতীয় কোনো পক্ষের ইন্ধন থাকতে পারে বলেও ধারণা করছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা। তাঁর দাবি, শিশুটির চিকিৎসায় কোনো ধরনের ত্রুটি ছিল না এবং যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তবে মৃত্যুর পর স্বজনদের সঙ্গে আরও কিছু লোক ভাঙচুরে অংশ নেন বলে তিনি জানান।

এদিকে শিশুটির মৃত্যুর ঘটনায় চিকিৎসায় কারও গাফিলতি ছিল কি না, তা তদন্তে একটি কমিটি গঠনের জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছেন জেলা সিভিল সার্জন মো. আনোয়ার হোসেন। তিনি জানান, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন শিশুর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে রোগীর স্বজন ও কিছু উৎসাহী ব্যক্তি ‘মব’ তৈরি করে ভাঙচুর চালিয়েছেন। তাঁদের অভিযোগ ছিল, শিশুটিকে ভুল চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। পরে তাঁদের বুঝিয়ে শান্ত করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👍 আমাদের অফিসিয়াল Facebook Page