১৪৫ পেরিয়ে নতুন মাইলফলক, ক্যারিবিয়ান লিগের সিংহাসনে ইমরান তাহির

প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩৪ অপরাহ্ণ
১৪৫ পেরিয়ে নতুন মাইলফলক, ক্যারিবিয়ান লিগের সিংহাসনে ইমরান তাহির

সুনিল নারিনের ১৪৫ উইকেটের রেকর্ড ভেঙে ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগের শীর্ষে ইমরান তাহির

ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারির রেকর্ড এখন দক্ষিণ আফ্রিকার অভিজ্ঞ স্পিনার ইমরান তাহিরের দখলে। ২০২৬ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর বার্বাডোজের কেনসিংটন ওভালে জ্যামাইকা কিংসমেনের বিপক্ষে কোয়ালিফায়ার-২ ম্যাচে এই রেকর্ড গড়েন গায়ানা অ্যামাজন ওয়ারিয়র্সের অধিনায়ক। ম্যাচে জ্যামাইকার ওপেনার কির্ক ম্যাকেঞ্জিকে আউট করে ক্যারিবিয়ান লিগে নিজের উইকেটসংখ্যা ১৪৬-এ নিয়ে যান তাহির। এর মধ্য দিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে ১৪৫ উইকেট নিয়ে শীর্ষে থাকা সুনিল নারিনকে ছাড়িয়ে যান। ৪৭ বছর বয়সী তাহির ১০২ ম্যাচে ১৪৬ উইকেট নিয়ে এই রেকর্ড গড়েছেন। তাঁর বোলিং গড় ১৮-এর নিচে এবং ইকোনমি রেটও ৬.৬৫-এর কাছাকাছি, যা তাঁর দীর্ঘস্থায়ী কার্যকারিতার প্রমাণ দেয়।

এই রেকর্ডের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, তাহির খুব কম ম্যাচ খেলেই সুনিল নারিনের উইকেটসংখ্যা ছাড়িয়ে গেছেন। নারিন ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগে ১৩৬ ম্যাচের ১৩৪ ইনিংসে ১৪৫ উইকেট নিয়েছেন। বিপরীতে তাহির ১০২ ম্যাচেই ১৪৬ উইকেটে পৌঁছেছেন। অর্থাৎ উইকেটসংখ্যায় মাত্র একটি ব্যবধানে এগিয়ে গেলেও ম্যাচসংখ্যার হিসাবে তাহিরের অর্জনটি আলাদা গুরুত্ব বহন করছে। তাঁর সামনে থাকা নারিন বহু বছর ধরে প্রতিযোগিতাটির অন্যতম সফল বোলার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

কিন্তু ২০২৬ মৌসুমে তাহিরের ধারাবাহিক পারফরম্যান্স তাঁকে সেই রেকর্ড অতিক্রম করার সুযোগ এনে দেয়। শেষ পর্যন্ত জ্যামাইকার বিপক্ষে একটি উইকেট নিয়েই তিনি ১৪৫ থেকে ১৪৬-এ পৌঁছে যান এবং সিপিএলের সর্বকালের উইকেট তালিকায় এককভাবে শীর্ষস্থান দখল করেন।

রেকর্ডটি এসেছে এমন এক সময়ে, যখন ইমরান তাহিরের বয়স ৪৭ বছর। আধুনিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে যেখানে অধিকাংশ খেলোয়াড় তুলনামূলক কম বয়সে শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিযোগিতা থেকে সরে যান, সেখানে তাহির এখনও নিয়মিত মাঠে নেমে উইকেট সংগ্রহ করছেন। ২০২৬ সালের সিপিএল মৌসুমেও তাঁর পারফরম্যান্স ছিল উল্লেখযোগ্য। জ্যামাইকা কিংসমেনের বিপক্ষে রেকর্ড গড়া ম্যাচে চার ওভারে ৩৪ রান দিয়ে একটি উইকেট নেন তিনি। পুরো ২০২৬ মৌসুমে ১২ ম্যাচে তাঁর সংগ্রহ ১৬ উইকেট। এর আগে ১০ সেপ্টেম্বর সেন্ট লুসিয়া কিংসের বিপক্ষে ১৭ রান দিয়ে পাঁচ উইকেট নিয়ে পুরুষদের টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে সবচেয়ে বেশি বয়সে পাঁচ উইকেট নেওয়ার বিশ্বরেকর্ডও গড়েছিলেন তিনি।

তাহিরের এই সাফল্যের পেছনে তাঁর দীর্ঘদিনের লেগস্পিন দক্ষতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। দ্রুতগতির গুগলি, ফ্লাইট, পরিবর্তিত গতি এবং ব্যাটসম্যানকে ভুল শট খেলতে বাধ্য করার ক্ষমতা তাঁর বোলিংয়ের বড় বৈশিষ্ট্য। সিপিএলের মতো টি-টোয়েন্টি প্রতিযোগিতায় অভিজ্ঞ স্পিনারদের জন্য পরিস্থিতি বোঝার দক্ষতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, আর তাহির সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে বছরের পর বছর উইকেট নিয়েছেন। তাঁর ক্যারিয়ারে একাধিক দলের হয়ে সিপিএলে খেলার অভিজ্ঞতাও রয়েছে।

২০২৬ সালে গায়ানা অ্যামাজন ওয়ারিয়র্সের নেতৃত্ব দেওয়ার পাশাপাশি তিনি দলের বোলিং আক্রমণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। সুনিল নারিনের মতো দীর্ঘদিনের রেকর্ডধারীকে ছাড়িয়ে যাওয়া তাই শুধু একটি উইকেটের হিসাব নয়, বরং সিপিএলে তাহিরের দীর্ঘস্থায়ী উপস্থিতি ও সাফল্যেরও প্রতিফলন।

তবে ব্যক্তিগত রেকর্ডের রাতটি গায়ানা অ্যামাজন ওয়ারিয়র্সের জন্য পুরোপুরি আনন্দের হয়নি। কোয়ালিফায়ার-২ ম্যাচে তাহির একটি উইকেট নিয়ে নিজের রেকর্ড গড়লেও গায়ানা শেষ পর্যন্ত জ্যামাইকা কিংসমেনের কাছে হেরে প্রতিযোগিতা থেকে বিদায় নেয়। গায়ানা প্রথমে ২০৭ রানের বড় লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিল। কিন্তু জ্যামাইকা ১৯.৪ ওভারে সেই লক্ষ্য অতিক্রম করে ফাইনালে জায়গা করে নেয়। ফলে অধিনায়ক তাহিরের ব্যক্তিগত অর্জনের সঙ্গে দলের ফলাফলের মধ্যে পার্থক্য তৈরি হয়।

পুরো মৌসুমে গায়ানা লিগ পর্বে ১০ ম্যাচের আটটিতে জিতে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে ছিল। কিন্তু পরপর দুটি কোয়ালিফায়ার ম্যাচে হারায় তাদের শিরোপা জয়ের পথ থেমে যায়। তবু তাহিরের ব্যক্তিগত রেকর্ডটি থেকে যায় সিপিএল ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে।

ইমরান তাহিরের ১৪৬তম উইকেট তাই শুধু তাঁর ব্যক্তিগত পরিসংখ্যানের একটি সংখ্যা নয়; এটি ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসে একটি নতুন মাইলফলক। ৪৭ বছর বয়সে ১০২ ম্যাচে ১৪৬ উইকেট নিয়ে তিনি সুনিল নারিনের ১৪৫ উইকেটের রেকর্ড অতিক্রম করেছেন। তাঁর পেছনে এখন নারিন ১৪৫ উইকেট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে, আর ডোয়াইন ব্রাভো ১২৯ উইকেট নিয়ে পরের অবস্থানে রয়েছেন।

একই মৌসুমে পাঁচ উইকেটের বিশ্বরেকর্ড এবং সিপিএলের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারির রেকর্ড—দুটি বড় অর্জনই তাহিরের ২০২৬ অভিযানকে আলাদা করে তুলেছে। বয়স বাড়লেও প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে তাঁর উপস্থিতি এবং উইকেট নেওয়ার সক্ষমতা এখনও স্পষ্ট। সিপিএলে তাঁর নতুন রেকর্ড এখন তাঁকে প্রতিযোগিতাটির ইতিহাসের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👍 আমাদের অফিসিয়াল Facebook Page