আর্জেন্টিনার স্কোয়াডে মেসি, ফেয়ারওয়েল ম্যাচের জন্য দলে রেখে স্কোয়াড ঘোষণা স্কালোনির
আর্জেন্টিনার দলে মেসি, এবার সত্যিই শেষ বিদায়ের পালা
লিওনেল মেসিকে অবশেষে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের স্কোয়াডে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা লাখো সমর্থকের দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়েছে। গত ৩১ আগস্ট এক আবেগঘন চিঠির মাধ্যমে মেসি জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছিলেন, ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে হেরে যাওয়ার পরপরই। প্রায় ২১ বছরের একটি ঐতিহাসিক আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের সমাপ্তি ঘটেছিল সেদিন। তবে সেই বিদায় শুধু কাগজে-কলমে থেমে থাকেনি। কোচ লিওনেল স্কালোনি এবং আর্জেন্টিনা ফুটবল সংস্থা মিলে পরিকল্পনা করেছিলেন, যাতে মেসি অন্তত একবার হলেও মাঠে নেমে সমর্থকদের সামনে থেকে বিদায় নিতে পারেন। সেই পরিকল্পনারই বাস্তব রূপ দেখা গেল আজকের এই স্কোয়াড ঘোষণায়।
মেসি আর্জেন্টিনাকে এনে দিয়েছেন ২০২২ বিশ্বকাপ, পরপর দুটি কোপা আমেরিকা শিরোপা এবং একটি ফিনালিসিমা ট্রফি। তার নেতৃত্বেই আর্জেন্টিনা ফুটবল দীর্ঘদিনের শিরোপাখরা কাটিয়ে বিশ্বের অন্যতম সফল জাতীয় দলে পরিণত হয়েছে। একজন খেলোয়াড় যিনি দেশকে এত কিছু দিয়েছেন, তার বিদায় শুধু একটি ঘোষণাপত্রে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়— এমনটাই মনে করেন কোটি কোটি আর্জেন্টাইন সমর্থক। মাঠে নেমে সরাসরি সমর্থকদের ভালোবাসা গ্রহণ করার সুযোগটি তৈরি করে দেওয়া হয়েছে তার জন্য, আর এই লক্ষ্যেই তুলনামূলক কম শক্তিশালী প্রতিপক্ষদের বেছে নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
আর্জেন্টিনা আসন্ন ফিফা উইন্ডোতে তিনটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে— বলিভিয়া, বুরকিনা ফাসো এবং বেনিনের বিপক্ষে। এই তিনটি ম্যাচের জন্যই ঘোষিত স্কোয়াডে মেসির নাম রয়েছে। এমিলিয়ানো মার্টিনেজ, রদ্রিগো দে পল, হুলিয়ান আলভারেজ, লাউতারো মার্টিনেজ, এনজো ফার্নান্দেজের মতো পরিচিত মুখদের পাশাপাশি কিছু নতুন খেলোয়াড়ও জায়গা পেয়েছেন এই তালিকায়। সবার দৃষ্টি অবশ্যই মেসির দিকে থাকবে, কারণ প্রতিটি ম্যাচে তিনি খেলবেন কিনা, নাকি নির্দিষ্ট কোনো একটি ম্যাচেই তার শেষ উপস্থিতি সীমাবদ্ধ থাকবে, তা সময়ই বলে দেবে।
প্রথম ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে কর্দোবা প্রদেশের মারিও আলবার্তো কেম্পেস স্টেডিয়ামে, বলিভিয়ার বিপক্ষে। এরপরের দুটি ম্যাচ— বুরকিনা ফাসো ও বেনিনের বিপক্ষে— হবে বুয়েনস আইরেসের বিখ্যাত এল মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামে। এই মাঠেই আর্জেন্টিনা জাতীয় দল সাধারণত তাদের হোম ম্যাচগুলো আয়োজন করে থাকে, এবং এখানেই মেসি অতীতে বহুবার সমর্থকদের উল্লাসধ্বনির মধ্যে খেলেছেন। তাই এই মাঠটিকেই তার শেষ বিদায়ের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত স্থান হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
পুরো আয়োজনটি সাজানো হয়েছে একেবারে নিখুঁতভাবে। বলিভিয়ার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে ৩০ সেপ্টেম্বর, বুধবার। এরপর ৩ অক্টোবর, শনিবার বুরকিনা ফাসোর বিপক্ষে এবং সবশেষে ৬ অক্টোবর, মঙ্গলবার বেনিনের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শেষ হবে এই ফিফা উইন্ডো। ২০২৬ বিশ্বকাপ জুলাই মাস পর্যন্ত গড়ানোর কারণে ফিফা এবার আন্তর্জাতিক বিরতির সময়সীমা কিছুটা বাড়িয়ে দিয়েছিল, যার ফলেই এত অল্প সময়ের মধ্যে তিনটি ম্যাচ আয়োজন করা সম্ভব হয়েছে।
এই স্কোয়াড ঘোষণার মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তারও অবসান ঘটল। মেসির অবসর ঘোষণার পর থেকেই প্রশ্ন উঠছিল, তিনি আদৌ আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে মাঠে ফিরবেন কিনা। কোচ স্কালোনি নিজেও একাধিকবার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে মেসিকে রাজি করানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করছিল খোদ মেসির ওপরই। অবশেষে তিনি রাজি হয়েছেন এবং তার নাম আনুষ্ঠানিকভাবে তালিকায় যুক্ত হয়েছে, যা আর্জেন্টিনার ফুটবলপ্রেমীদের জন্য এক স্বস্তির খবর হয়ে এসেছে।
আগামী কয়েক সপ্তাহ আর্জেন্টিনার ফুটবল ইতিহাসে এক আবেগঘন অধ্যায় হয়ে থাকবে। বুয়েনস আইরেস এবং কর্দোবার মাঠে হাজার হাজার দর্শক শেষবারের মতো তাদের প্রিয় অধিনায়ককে জাতীয় দলের জার্সি গায়ে দেখার সুযোগ পাবেন। মেসির ফুটবল ক্যারিয়ারের এই শেষ অধ্যায় শুধু একজন খেলোয়াড়ের বিদায় নয়, বরং পুরো একটি প্রজন্মের কাছে এক আবেগঘন স্মৃতি হয়ে থাকবে, যা তারা বছরের পর বছর মনে রাখবে।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
