ইরানের হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি, বহু বিমান ও ড্রোন ধ্বংস
ইরানের হামলায় ৩০টি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোনসহ যুক্তরাষ্ট্রের বহু সামরিক সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে
ইরানের ধারাবাহিক হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বহু সামরিক বিমান, ড্রোন ও ঘাঁটি ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের ইন্সপেক্টর জেনারেলের একটি প্রতিবেদনে। ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত যুদ্ধের পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে মার্কিন সামরিক সক্ষমতা ও গোলাবারুদের মজুত নিয়েও উদ্বেগের কথা উঠে এসেছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাসহ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো প্রতিবেদনের তথ্য তুলে ধরেছে। এটি ইরান যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের প্রথম আনুষ্ঠানিক হিসাবগুলোর একটি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের হামলায় কুয়েত, বাহরাইন, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, ইরাক, ওমান ও জর্ডানে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোর শত শত ভবন ও স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। এসব হামলার পর মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডকে জনবল, সামরিক সরঞ্জাম ও মজুত ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনতে হয়েছে।
মার্কিন সামরিক সরঞ্জামের ক্ষয়ক্ষতির মধ্যে অন্তত ৩০টি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোনের কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া চারটি এফ-১৫ই যুদ্ধবিমান এবং সাতটি কেসি-১৩৫ জ্বালানি সরবরাহকারী বিমানসহ কয়েক ডজন সামরিক উড়োজাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। অন্যান্য প্রতিবেদনে চারটি এএইচ-৬ হেলিকপ্টারের ক্ষয়ক্ষতির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের উন্নত অস্ত্রের মজুত নিয়েও উদ্বেগের কথা বলা হয়েছে। যুদ্ধ চলাকালে বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ ব্যবহারের ফলে গুরুত্বপূর্ণ কিছু অস্ত্রের কৌশলগত মজুত ঘাটতিতে পড়েছে। একই সঙ্গে নতুন করে অস্ত্র উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থায় শিল্পভিত্তিক নানা জটিলতা বা ‘বটলনেক’ তৈরি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইরানের হামলায় মার্কিন নৌবাহিনীর মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ লজিস্টিক ঘাঁটিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে মার্কিন বাহিনীকে ভারত মহাসাগরের দিয়েগো গার্সিয়াসহ অপেক্ষাকৃত দূরের অবস্থান থেকে সরবরাহ ব্যবস্থাপনা করতে হয়েছে। এতে সামরিক সরঞ্জাম ও রসদ পৌঁছানোর সময়ও বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
মার্কিন কূটনৈতিক স্থাপনাগুলোও হামলার বাইরে থাকেনি। ইরাক, কুয়েত, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক স্থাপনাগুলোতে ইরানের হামলায় আনুমানিক ১৮ কোটি ৪০ লাখ ডলারের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে ইরাকে ক্ষতির পরিমাণই সবচেয়ে বেশি, প্রায় ১৫ কোটি ৭০ লাখ ডলার। কুয়েতে ক্ষতি ১ কোটি ৪০ লাখ ডলারের বেশি এবং সৌদি আরবে প্রায় ১ কোটি ১৫ লাখ ডলার বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
রিয়াদে মার্কিন দূতাবাসে ইরানি ড্রোন হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। দুবাইয়ে মার্কিন কনস্যুলেটের একটি ইউটিলিটি ভবনও হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কুয়েতে মার্কিন দূতাবাসে হামলার পর সেখানে কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়েছিল। ইরাকে মার্কিন কূটনৈতিক স্থাপনাগুলোতে ৬০০টির বেশি হামলার তথ্যও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
যুদ্ধের প্রথম কয়েক মাসে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক সদস্যদের হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে। আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে ওই সময় অন্তত ১১ জন মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার কথা বলা হয়েছে।
প্রতিবেদনটি মূলত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত সময়ের ক্ষয়ক্ষতি তুলে ধরেছে। ফলে পরবর্তী সময়ের ক্ষয়ক্ষতি এতে অন্তর্ভুক্ত নয়। সামরিক ঘাঁটি ও সরঞ্জামের ক্ষতির পাশাপাশি গোলাবারুদের মজুত ঘাটতি এবং সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর চাপ—সব মিলিয়ে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রস্তুতির ওপর উল্লেখযোগ্য চাপ পড়েছে বলে মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের পর্যবেক্ষণ সংস্থার প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
