১০ জনের সিটিকেও থামাতে পারল না ইউনাইটেড, হালান্ডের গোলে বাজিমাত ম্যানচেস্টার সিটির
১০ জনে নেমেও ওল্ড ট্রাফোর্ডে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে ১-০ গোলে হারাল ম্যানচেস্টার সিটি
ম্যানচেস্টার ডার্বিতে নাটকীয় জয় পেয়েছে ম্যানচেস্টার সিটি। ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রোববার, ওল্ড ট্রাফোর্ডে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে ১-০ গোলে হারিয়েছে পেপ গার্দিওলার দল। ম্যাচের ২৩তম মিনিটে ফিল ফোডেন লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়ার পর প্রায় পুরো ম্যাচের বাকি সময় ১০ জন নিয়ে খেলতে হয় সিটিকে। একজন খেলোয়াড় কম নিয়েও শেষ পর্যন্ত এরলিং হালান্ডের গোলে জয় নিশ্চিত করে সফরকারীরা এবং ওল্ড ট্রাফোর্ড থেকে তিন পয়েন্ট নিয়ে ফেরে।
ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলের মধ্যে ছিল তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা। নিজেদের মাঠে খেলা হওয়ায় ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলার চেষ্টা করে। অন্যদিকে ম্যানচেস্টার সিটিও বলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে সুযোগ তৈরির চেষ্টা চালায়। তবে ২৩তম মিনিটে ম্যাচের চিত্র বদলে যায়। ফিল ফোডেনকে সরাসরি লাল কার্ড দেখানো হলে সিটি ১০ জনের দলে পরিণত হয়। সিদ্ধান্তটি ভিএআরের মাধ্যমে পর্যালোচনা করা হলেও লাল কার্ড বহাল থাকে এবং সিটিকে দীর্ঘ সময় একজন কম নিয়ে খেলতে হয়।
লাল কার্ডের পর ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড স্বাভাবিকভাবেই আক্রমণের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়। সংখ্যায় এগিয়ে যাওয়ার সুবিধা কাজে লাগিয়ে স্বাগতিকরা সিটির রক্ষণে চাপ তৈরি করার চেষ্টা করে। তবে সিটি নিজেদের রক্ষণভাগকে দ্রুত সংগঠিত করে এবং ইউনাইটেডের আক্রমণ ঠেকানোর পাশাপাশি সুযোগ পেলেই পাল্টা আক্রমণে ওঠে। প্রথমার্ধে ইউনাইটেড বাড়তি খেলোয়াড়ের সুবিধা পেলেও সেই সুবিধা থেকে গোল আদায় করতে পারেনি। ফলে বিরতিতে দুই দল গোলশূন্য অবস্থায় মাঠ ছাড়ে।
দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের গতি আরও বাড়ে। একজন খেলোয়াড় কম থাকায় সিটির ওপর চাপ বাড়লেও তারা নিজেদের পরিকল্পনা থেকে সরে যায়নি। রক্ষণে মনোযোগ রাখার পাশাপাশি সুযোগ পেলেই হালান্ডকে সামনে রেখে দ্রুত আক্রমণে যাওয়ার চেষ্টা করে তারা। অন্যদিকে ইউনাইটেড ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেওয়ার চেষ্টা চালায়। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পাচ্ছিল না স্বাগতিকরা। এমন পরিস্থিতিতেই ৬০তম মিনিটে ম্যাচের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তটি আসে এবং স্কোরলাইন বদলে যায়।
৬০তম মিনিটে এরলিং হালান্ড ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে জয়সূচক গোলটি করেন। সিটির আক্রমণ থেকে পাওয়া সুযোগ দারুণভাবে কাজে লাগিয়ে নরওয়েজিয়ান স্ট্রাইকার বল জালে পাঠান। গোলের পর সেটি অফসাইড ছিল কি না, তা নিয়ে ভিএআর পর্যালোচনা করা হয়। দীর্ঘ পর্যালোচনার পর গোলটি বৈধ ঘোষণা করা হলে সিটি ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। ১০ জন নিয়ে খেলা দলের জন্য গোলটি ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ তখন তাদের সামনে ছিল ম্যাচের লিড ধরে রাখার কঠিন চ্যালেঞ্জ।
গোল হজমের পর ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড দ্রুত সমতায় ফেরার চেষ্টা শুরু করে। ঘরের মাঠে সমর্থকদের সমর্থন কাজে লাগিয়ে তারা আক্রমণের গতি বাড়ায় এবং সিটির রক্ষণভাগের ওপর চাপ তৈরি করে। তবে সিটির খেলোয়াড়রা নিজেদের মধ্যে ভালো সমন্বয় রেখে একের পর এক আক্রমণ প্রতিহত করতে থাকে। সংখ্যায় কম থাকার কারণে সিটি মূলত রক্ষণ জমাট রেখে সুযোগ পেলে পাল্টা আক্রমণে যাওয়ার কৌশল নেয়। ফলে ইউনাইটেড বলের নিয়ন্ত্রণ পেলেও গোল করার মতো কার্যকর সুযোগ তৈরি করতে পারেনি।
ম্যাচের শেষ দিকে ইউনাইটেডের চাপ আরও বাড়ে। সমতায় ফেরার জন্য স্বাগতিকরা একাধিকবার সিটির রক্ষণভাগে ঢোকার চেষ্টা করে। কিন্তু সিটি নিজেদের লিড ধরে রাখতে রক্ষণে খেলোয়াড়দের অবস্থান আরও শক্ত করে। গোলরক্ষক ও ডিফেন্ডারদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ইউনাইটেডের আক্রমণগুলো প্রতিহত হয়। সময় যত গড়াতে থাকে, ততই সিটির জয় নিশ্চিত হওয়ার সম্ভাবনা বাড়তে থাকে। শেষ বাঁশি বাজার আগ পর্যন্ত ইউনাইটেড সমতাসূচক গোল করতে না পারায় সিটি ১-০ ব্যবধান ধরে রাখতে সক্ষম হয়।
এই ম্যাচে ম্যানচেস্টার সিটির জয়ের অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক ছিল প্রতিকূল পরিস্থিতিতে তাদের লড়াই। মাত্র ২৩ মিনিটের মাথায় একজন খেলোয়াড় হারানোর পরও দলটি ম্যাচ থেকে নিজেদের সরিয়ে নেয়নি। বরং রক্ষণে শৃঙ্খলা বজায় রেখে সঠিক সময়ে আক্রমণে কার্যকর হয়েছে তারা। হালান্ডের গোল সেই পরিকল্পনাকে সফল করে। অন্যদিকে একজন খেলোয়াড় বেশি নিয়ে দীর্ঘ সময় খেলার পরও ইউনাইটেড গোল করতে না পারায় ম্যাচের ফল তাদের পক্ষে যায়নি।
শেষ পর্যন্ত ফিল ফোডেনের লাল কার্ড, ১০ জনের সিটির লড়াই, হালান্ডের জয়সূচক গোল এবং ভিএআরের সিদ্ধান্ত—সব মিলিয়ে এবারের ম্যানচেস্টার ডার্বি ছিল নাটকীয়তায় ভরা। ওল্ড ট্রাফোর্ডে নিজেদের সমর্থকদের সামনে ইউনাইটেড গোল করতে পারেনি। বিপরীতে ম্যানচেস্টার সিটি প্রতিকূল পরিস্থিতি সামলে ১-০ ব্যবধানের জয় তুলে নেয়। হালান্ডের গোলেই নির্ধারিত হয় ম্যাচের ভাগ্য এবং সিটি গুরুত্বপূর্ণ তিন পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়ে। ম্যাচের ফলের পর ম্যানচেস্টার সিটির সমর্থকদের উদযাপনে ফিরে আসে পরিচিত স্লোগান—“Manchester is Blue.”
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
