রাণীনগরে দুই বন্ধুর উদ্যোগে ‘ইনফিনিটি একাডেমিক কোচিং’, লক্ষ্য শিক্ষার্থীদের মানসম্মত একাডেমিক সহায়তা
রাণীনগরে শিক্ষার্থীদের একাডেমিক প্রস্তুতিতে সহায়তার লক্ষ্যে যাত্রা শুরু করেছে ইনফিনিটি একাডেমিক কোচিং।
নওগাঁর রাণীনগরে স্থানীয় শিক্ষার্থীদের একাডেমিক প্রস্তুতিতে বাড়তি সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে দুই বন্ধুর উদ্যোগে যাত্রা শুরু করেছে ‘ইনফিনিটি একাডেমিক কোচিং’। ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে রাণীনগরের দুই তরুণ আমির হামজা ও আরিফ হোসেন শাওনের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম শুরু হয়।
উদ্যোক্তাদের দাবি, স্থানীয় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় আরও পরিকল্পিত প্রস্তুতি, নিয়মিত পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় শিক্ষাসামগ্রী দেওয়ার লক্ষ্যেই প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তোলা হয়েছে। নিজেদের শিক্ষাজীবনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে রাণীনগর ও আশপাশের শিক্ষার্থীদের জন্য একটি সহায়ক একাডেমিক পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করছেন তারা।
উদ্যোক্তারা জানান, তারা দুজনই রাণীনগর থেকে ২০২৩ সালে এসএসসি পাস করেন। নিজেদের এসএসসি প্রস্তুতির সময় বিভিন্ন ধরনের সুযোগ-সুবিধার ঘাটতি এবং পড়াশোনাকে আরও গুছিয়ে নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছিলেন। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই স্থানীয় শিক্ষার্থীদের জন্য পরিকল্পিত একাডেমিক সহায়তার উদ্যোগ নেওয়ার চিন্তা আসে। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালের অক্টোবরে ইনফিনিটি একাডেমিক কোচিংয়ের কার্যক্রম শুরু করা হয়।
এসএসসি পরীক্ষার্থীদের প্রস্তুতিতে বিশেষ গুরুত্ব
ইনফিনিটির প্রথম ব্যাচ ছিল ‘এসএসসি-২০২৬ ফাইনাল প্রিপারেশন ব্যাচ’। উদ্যোক্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এসএসসি পরীক্ষার শেষ কয়েক মাসে অনেক শিক্ষার্থীর সিলেবাস অসম্পূর্ণ থেকে যায়। আবার অনেক শিক্ষার্থী নিয়মিত পড়াশোনা করলেও পরীক্ষার আগে পুরো প্রস্তুতিকে সঠিকভাবে গুছিয়ে নিতে সমস্যায় পড়ে।
এ বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে ফাইনাল প্রিপারেশন ব্যাচে সিলেবাস সম্পন্ন করার পাশাপাশি নিয়মিত পরীক্ষা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের কোন বিষয়ে দুর্বলতা রয়েছে তা চিহ্নিত করে সে অনুযায়ী প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হয় বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
কোর্সের শেষ পর্যায়ে এসএসসি পরীক্ষার মানবণ্টন ও কাঠামো অনুসরণ করে মডেল টেস্টের আয়োজন করা হয়। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বাস্তব পরীক্ষার পরিবেশের সঙ্গে অভ্যস্ত করা এবং সময় ব্যবস্থাপনা ও পরীক্ষাভীতি কমানোর চেষ্টা করা হয়েছে বলে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়।
প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এসএসসি-২০২৬ ব্যাচে ২৩ জনের জিপিএ-৫
ইনফিনিটি একাডেমিক কোচিংয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তাদের এসএসসি-২০২৬ ফাইনাল প্রিপারেশন ব্যাচের ২৩ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়েছে, এসব শিক্ষার্থীর মধ্যে রাণীনগর থানার হিসেবে দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম ও ষষ্ঠ স্থান অর্জনকারী শিক্ষার্থীও রয়েছে।
তবে এসব ফলাফল ও অবস্থানের তথ্য প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক যুক্ত থাকার দাবি
বর্তমানে ইনফিনিটিতে ‘এসএসসি-২০২৭ ফাইনাল প্রিপারেশন ব্যাচ’ এবং অষ্টম শ্রেণির ‘বৃত্তি ও একাডেমিক প্রিপারেশন ব্যাচ’ পরিচালিত হচ্ছে।
উদ্যোক্তাদের দাবি, বিভিন্ন পর্যায়ের বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েট ও অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক হিসেবে যুক্ত রয়েছেন। তাদের মধ্যে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট), বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও গ্র্যাজুয়েট রয়েছেন।
এছাড়া কয়েকজন শিক্ষকের পাঁচ থেকে দশ বছর বা তারও বেশি সময়ের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা রয়েছে বলেও জানান উদ্যোক্তারা। তাদের ভাষ্য, অভিজ্ঞ শিক্ষক ও বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য বিষয়ভিত্তিক ও পরীক্ষাকেন্দ্রিক প্রস্তুতির পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে।
স্কুলশিক্ষার বিকল্প নয়, বাড়তি সহায়তাই লক্ষ্য
ইনফিনিটি একাডেমিক কোচিং নিজেদের কার্যক্রমকে বিদ্যালয়ের শিক্ষার বিকল্প হিসেবে দেখছে না বলে জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা। তাদের মতে, শিক্ষার্থীদের একাডেমিক ও পারিপার্শ্বিক জ্ঞান অর্জনের ক্ষেত্রে বিদ্যালয়ের শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই।
তারা বলেন, বিদ্যালয়ের নিয়মিত পাঠদানকে গুরুত্ব দিয়েই শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় বাড়তি একাডেমিক সহায়তা দেওয়া তাদের উদ্দেশ্য। এ কারণে স্কুল চলাকালীন সময়ে কোচিংয়ের কার্যক্রম বন্ধ রাখার নীতিও অনুসরণ করা হয় বলে জানান তারা।
উদ্যোক্তাদের মতে, বিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনাকে আরও গোছানো, নিয়মিত পরীক্ষা নেওয়া এবং পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিশ্চিত করাই তাদের কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য।
ভবিষ্যতে কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিকল্পনা
উদ্যোক্তারা জানান, বর্তমানে এসএসসি ও অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নিয়ে কার্যক্রম পরিচালিত হলেও ভবিষ্যতে এসএসসি, এইচএসসি ও অষ্টম শ্রেণির পাশাপাশি অন্যান্য শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্যও একাডেমিক সহায়তা কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
তাদের লক্ষ্য, রাণীনগর ও আশপাশের এলাকার শিক্ষার্থীদের জন্য এমন একটি শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ তৈরি করা, যেখানে তারা নিয়মিত পড়াশোনা, অনুশীলন ও মূল্যায়নের মাধ্যমে নিজেদের প্রস্তুত করতে পারে।
দুই উদ্যোক্তার ভাষ্য, নিজেদের শিক্ষাজীবনে যে সুযোগ-সুবিধার ঘাটতি তারা অনুভব করেছিলেন, পরবর্তী প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের যেন একই ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হতে না হয়—সেই চিন্তা থেকেই ইনফিনিটির কার্যক্রম শুরু করেছেন তারা।
তাদের প্রত্যাশা, ধীরে ধীরে কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার মাধ্যমে রাণীনগর ও আশপাশের শিক্ষার্থীদের একাডেমিক প্রস্তুতিতে কার্যকর সহায়তা করা সম্ভব হবে।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
