ইয়ামাল থেকে রদ্রি, ব্যালন ডি’অরে বার্সার বড় উপস্থিতি
বিশ্বকাপের পর ব্যালন ডি’অরের দৌড়ে বার্সার তিনজন
লামিনে ইয়ামাল, পাউ কুবার্সি ও রদ্রি— বার্সেলোনার তিন খেলোয়াড়ই এখন ২০২৬ সালের ব্যালন দর পুরস্কারের অন্যতম শীর্ষ দাবিদার হিসেবে আলোচনায় উঠে এসেছেন। ফরাসি ম্যাগাজিন ফ্রান্স ফুটবল আজ, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে, মধ্য ইউরোপীয় সময় সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৪টার মধ্যে বিশ্বের সেরা ৩০ জন ফুটবলারের একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা প্রকাশ করার কথা রয়েছে, আর সেই তালিকা থেকেই অক্টোবরে চূড়ান্ত বিজয়ী বাছাই হবে।
এই তিনজন খেলোয়াড় মূলত এবারের বিশ্বকাপে স্পেনের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুবাদেই আলোচনার কেন্দ্রে এসেছেন। গত জুলাইয়ে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে অতিরিক্ত সময়ে ১-০ গোলে জিতে স্পেন দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জেতে, আর এই জয় গোটা দলের ব্যালন দর সম্ভাবনাকে নতুন করে জাগিয়ে তোলে। রদ্রি এই টুর্নামেন্টে সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জিতে নিজের নাম আবার পুরস্কারের দৌড়ে সামনে নিয়ে আসেন।
বিশ্বকাপের পরপরই রদ্রির ক্লাব-জীবনে বড় একটা পরিবর্তন আসে। সাত বছর ম্যানচেস্টার সিটিতে খেলার পর তিনি বার্সেলোনায় যোগ দেন। আগস্টের শুরুতে দুই ক্লাবের মধ্যে দর কষাকষি শুরু হয়, সিটি প্রথমে চল্লিশ মিলিয়ন এবং পরে পঞ্চান্ন মিলিয়ন পাউন্ডের প্রস্তাব ফিরিয়ে দেয়, শেষে বার্সার তৃতীয় প্রস্তাবে রাজি হয়। ১৮ আগস্ট চুক্তি চূড়ান্ত হয়, মোট মূল্য প্রায় পঁয়ষট্টি থেকে সাতাত্তর মিলিয়ন ইউরোর মধ্যে, ভবিষ্যৎ অর্জনভিত্তিক বাড়তি অর্থসহ। রিয়াল মাদ্রিদের আগ্রহ থাকলেও রদ্রি বার্সেলোনাকেই বেছে নেন এবং চার বছরের চুক্তিতে সই করেন। তিনি বলেছিলেন, বার্সেলোনায় খেলা তার জন্য “স্বপ্নের মতো”, কারণ ক্লাবের মূল্যবোধ ও খেলার ধরন তাকে বরাবরই আকর্ষণ করত। এখন তিনি ইয়ামাল ও কুবার্সির সঙ্গে একই ড্রেসিংরুমে বার্সেলোনার হয়ে খেলছেন।
লামিনে ইয়ামাল বিশ্বকাপে মাত্র একটি গোল করলেও, তিনিই প্রথম খেলোয়াড় যিনি বিশ বছর বয়স হওয়ার আগেই একটি ইউরো ফাইনাল এবং একটি বিশ্বকাপ ফাইনাল উভয়েই খেলেছেন এবং দুটোই জিতেছেন। ফ্রান্সের বিরুদ্ধে সেমিফাইনালে তার আদায় করা পেনাল্টি ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল, আর পুরো টুর্নামেন্টে তিনি লিওনেল মেসির চেয়েও বেশি সফল ড্রিবল করেছেন। ক্লাব মৌসুমেও তিনি লা লিগা জয়ী বার্সেলোনার হয়ে আঠাশটি গোলে সরাসরি অবদান রেখেছেন।
পাউ কুবার্সির গল্পটা আরও চমকপ্রদ। বিশ্বকাপের আগে সবার নজর ছিল ইয়ামালের ওপর, কিন্তু টুর্নামেন্ট চলাকালীন তাকে ছাপিয়ে যান একই ক্লাবের এই তরুণ সেন্টার-ব্যাক। মাত্র ঊনিশ বছর বয়সী কুবার্সি পুরো প্রতিযোগিতায় স্পেনের রক্ষণভাগের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হিসেবে বিবেচিত হন, এবং ফাইনালের পর তাকে টুর্নামেন্টের সেরা তরুণ খেলোয়াড় ঘোষণা করা হয়। তার নেতৃত্বে স্পেনের রক্ষণভাগ পুরো বিশ্বকাপে প্রতিপক্ষের লক্ষ্যে মাত্র দশটি শট এবং একটি গোল হজম করেছিল। ক্লাব মৌসুমেও বার্সেলোনার লিগ জয়ে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন।
তবে এই তিনজনই যে চূড়ান্তভাবে পুরস্কার জিতবেন, এমন নিশ্চয়তা এখনও নেই। বর্তমানে বেশিরভাগ পূর্বাভাস ও জুয়ার বাজারে বায়ার্ন মিউনিখের হ্যারি কেইনকে এগিয়ে রাখা হচ্ছে, কারণ তিনি গত মৌসুমে বুন্দেসলিগা ও ইউরোপীয় সোনার বুট জিতে অসাধারণ গোলসংখ্যা করেছেন। ইয়ামাল ও রদ্রিকে ধরা হচ্ছে তার সবচেয়ে কাছের প্রতিদ্বন্দ্বী, আর কুবার্সির সম্ভাবনাকেও অনেকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন। কিলিয়ান এমবাপে ও লিওনেল মেসির নামও এখনও আলোচনায় আছে।
চূড়ান্ত বিজয়ী নির্ধারিত হবে বিশ্বের শীর্ষ একশটি দেশের সাংবাদিকদের ভোটের মাধ্যমে, যেখানে প্রতিটি ভোট আলাদা পয়েন্ট অনুযায়ী গণনা করা হয়। বিচারের মূল তিনটি মাপকাঠি হলো— আগের মৌসুমে ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স, দলের সাফল্য এবং খেলোয়াড়ি আচরণ। ৭০তম এই আসরের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান আগামী ২৬ অক্টোবর, সোমবার, লন্ডনে অনুষ্ঠিত হবে— যা সাধারণত প্যারিসে হলেও এবার প্রথম বিজয়ী স্ট্যানলি ম্যাথিউজকে সম্মান জানাতে লন্ডনে সরিয়ে আনা হয়েছে। সেদিন একই সঙ্গে সেরা তরুণ খেলোয়াড়, সেরা গোলরক্ষক, সেরা কোচ ও সেরা ক্লাবসহ মোট বারোটি ভিন্ন বিভাগের নাম ঘোষণা করা হবে।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
