বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের পণ্যে নতুন শুল্ক আরোপ করছে যুক্তরাষ্ট্র

বাণিজ্য প্রতিনিধি
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৪ জুলাই, ২০২৬, ১১:২৯ পূর্বাহ্ণ
বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের পণ্যে নতুন শুল্ক আরোপ করছে যুক্তরাষ্ট্র

বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের পণ্যে নতুন শুল্ক আরোপ করছে যুক্তরাষ্ট্র।

বাধ্যতামূলক শ্রম নিষিদ্ধের আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ না করার অভিযোগে বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৬০টি দেশের পণ্যের ওপর নতুন শুল্ক আরোপ করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন। শুক্রবার থেকে কার্যকর হতে যাওয়া এ সিদ্ধান্তের আওতায় দেশভেদে ১০ থেকে সাড়ে ১২ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক বসানো হবে।

বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রেজিস্টার-এ প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। নতুন নীতির ফলে যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি হওয়া মোট পণ্যের প্রায় ৯৯ দশমিক ৪ শতাংশই নতুন শুল্ক ব্যবস্থার আওতায় আসবে।

চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, যুক্তরাজ্য, কানাডা, মালয়েশিয়া ও মেক্সিকোসহ কয়েকটি দেশের পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। অন্যদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান ও সুইজারল্যান্ডের পণ্যে পূর্বনির্ধারিত শুল্কের সঙ্গে সমন্বয় করে মোট ১০ বা সাড়ে ১২ শতাংশ শুল্ক নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া চীনসহ আরও ৩৮টি দেশের পণ্যে সাড়ে ১২ শতাংশ শুল্ক বসানো হবে।

এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট জাতীয় জরুরি আইনের আওতায় ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপিত ১০ থেকে ৫০ শতাংশ ‘পারস্পরিক শুল্ক’ বাতিল করে দেয়। এরপর প্রশাসন ১৫০ দিনের জন্য ১০ শতাংশ অস্থায়ী শুল্ক কার্যকর করেছিল, যার মেয়াদ শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিটে শেষ হচ্ছে। ঠিক সেই সময় থেকেই নতুন শুল্ক কার্যকর হবে। তবে বর্তমানে পরিবহন বা ট্রানজিটে থাকা পণ্য আগামী ২৮ জুলাই পর্যন্ত নতুন শুল্কের আওতার বাইরে থাকবে।

নতুন শুল্ক আরোপে এবার ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ৩০১ ধারা ব্যবহার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধারার আওতায় নেওয়া সিদ্ধান্ত আদালতে চ্যালেঞ্জ করা তুলনামূলক কঠিন।

তবে সব পণ্য নতুন শুল্কের আওতায় আসছে না। তেল-গ্যাস, সার, নির্দিষ্ট কিছু খাদ্যপণ্য, জাতীয় নিরাপত্তা-সংশ্লিষ্ট ২৩২ ধারার আওতাভুক্ত গাড়ি, ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম ও তামার মতো পণ্য এবং যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো-কানাডা বাণিজ্য চুক্তি (USMCA)-এর শর্ত পূরণকারী পণ্য এ শুল্ক থেকে অব্যাহতি পাবে।

এ সিদ্ধান্তের পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। নরওয়ের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসপেন বার্থ আইদে বলেন, তাদের দেশে বাধ্যতামূলক শ্রম প্রতিরোধে কার্যকর আইন রয়েছে, তাই নতুন শুল্ক আরোপের যৌক্তিকতা নেই। অস্ট্রেলিয়া ও ব্রাজিলও এ সিদ্ধান্তকে অন্যায্য উল্লেখ করে তা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে।

অন্যদিকে কানাডার বাণিজ্যমন্ত্রী ডমিনিক লেব্ল্যাঙ্ক জানান, পারস্পরিক স্বার্থে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গঠনমূলক আলোচনা অব্যাহত থাকবে। ম্যাসাচুসেটসের গভর্নর মাউরা হিলি সতর্ক করে বলেছেন, নতুন শুল্কের ফলে পণ্যের দাম বাড়তে পারে এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো ক্ষতির মুখে পড়বে।

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি (ইউএসটিআর) জেমিসন গ্রির বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় এক শতাব্দী ধরে বাধ্যতামূলক শ্রম নিষিদ্ধ এবং এ আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হয়। এখন বাণিজ্য অংশীদার দেশগুলোরও একই ধরনের মানদণ্ড অনুসরণ করা উচিত।

বিশ্লেষকদের মতে, মানবাধিকার ইস্যুর পাশাপাশি এ পদক্ষেপের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্য কৌশলও রয়েছে। বিশেষ করে চীনের জিনজিয়াং অঞ্চলে উইঘুর মুসলিমদের বাধ্যতামূলক শ্রমে নিয়োজিত করার অভিযোগকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। নতুন শুল্ক নীতিকেও সেই বৃহত্তর বাণিজ্য কৌশলের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

👍 আমাদের ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন