দেশে প্রিপেইড বিদ্যুৎ মিটার ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে। নগর ও গ্রামীণ এলাকায় বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা আধুনিক করতে ধীরে ধীরে প্রচলিত পোস্টপেইড মিটারের পরিবর্তে প্রিপেইড মিটার চালু করা হচ্ছে। তবে দীর্ঘদিন ধরেই গ্রাহকদের মধ্যে একটি অভিযোগ ছিল—প্রিপেইড মিটারে মাসিক চার্জ বা মিটার ভাড়া কেটে নেওয়া হয়, যা অনেকের কাছে অতিরিক্ত বোঝা মনে হয়েছে।
আরও পড়ুন-প্রিপেইড মিটারে ডিমান্ড চার্জ ও মিটার ভাড়া বাতিল হতে পারে জানুন বিস্তারিত
এই প্রেক্ষাপটে ২০২৬ সালের মার্চ মাসে সরকার একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রিপেইড বিদ্যুৎ মিটারের মাসিক মিটার ভাড়া বা চার্জ বাতিল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে করে গ্রাহকদের জন্য বিদ্যুৎ ব্যবহারের খরচ কিছুটা কমে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এর আগে প্রিপেইড মিটারের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট হারে মাসিক চার্জ কেটে নেওয়া হতো। সাধারণত আবাসিক সিঙ্গেল ফেজ মিটারের জন্য প্রতি মাসে প্রায় ৪০ টাকা এবং থ্রি ফেজ মিটারের জন্য প্রায় ২৫০ টাকা পর্যন্ত মিটার ভাড়া দিতে হতো। এছাড়া বিভিন্ন বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানির ওপর নির্ভর করে এই চার্জ কিছু ক্ষেত্রে ৮০ টাকা পর্যন্তও হতে দেখা গেছে।
শুধু মিটার ভাড়াই নয়, এর সঙ্গে আরও কিছু চার্জ যুক্ত থাকত। যেমন—অনুমোদিত লোডের ওপর ভিত্তি করে প্রতি কিলোওয়াটে প্রায় ৪২ টাকা ডিমান্ড চার্জ নেওয়া হতো। এর সঙ্গে অতিরিক্ত ৫ শতাংশ ভ্যাটও যুক্ত হতো, যা মোট খরচকে আরও বাড়িয়ে দিত।
এই অতিরিক্ত চার্জ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে গ্রাহকদের মধ্যে অসন্তোষ ছিল। অনেকেই মনে করতেন, প্রিপেইড মিটার ব্যবহার করেও বাড়তি চার্জ দিতে হচ্ছে, যা সাশ্রয়ের উদ্দেশ্যকে ব্যাহত করছে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য এই চার্জ একটি বাড়তি চাপ হিসেবে দেখা দিত।
সরকারের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এই মাসিক মিটার ভাড়া বাতিল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা গ্রাহকদের জন্য স্বস্তির খবর হিসেবে এসেছে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া এখনো চলমান রয়েছে। ফলে সব এলাকায় তা একযোগে কার্যকর হতে কিছুটা সময় লাগতে পারে।
এদিকে ডিমান্ড চার্জ বা অন্যান্য চার্জের বিষয়ে এখনো কোনো বড় পরিবর্তনের ঘোষণা আসেনি। তাই গ্রাহকদের ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ ব্যবহারের ওপর নির্ভর করে কিছু চার্জ পূর্বের মতোই থাকতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রিপেইড মিটার ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও নিয়ন্ত্রণ বাড়লেও অতিরিক্ত চার্জের কারণে অনেক গ্রাহক অসন্তুষ্ট ছিলেন। এই নতুন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে প্রিপেইড ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা আরও বাড়বে।
এছাড়া গ্রাহকদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে—নতুন রিচার্জ করার সময় নিজ নিজ বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানির কাছ থেকে সর্বশেষ চার্জ সংক্রান্ত তথ্য জেনে নেওয়ার জন্য। কারণ বিভিন্ন এলাকায় বাস্তবায়নের সময়সূচি ভিন্ন হতে পারে।
সব মিলিয়ে, প্রিপেইড বিদ্যুৎ মিটারের মাসিক চার্জ বাতিলের সিদ্ধান্ত দেশের লাখো গ্রাহকের জন্য একটি ইতিবাচক পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। এটি বাস্তবায়িত হলে বিদ্যুৎ ব্যবহারের খরচ কিছুটা কমবে এবং গ্রাহক সন্তুষ্টি বাড়বে বলে আশা করা যাচ্ছে।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
আরও পড়ুন-পল্লী বিদ্যুতের মিটার স্থানান্তরের নিয়ম ধাপে ধাপে সম্পূর্ণ আবেদন প্রক্রিয়া(আপডেট)
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔










