দেশের কৃষিখাতে ডিজিটাল রূপান্তর আনতে বড় পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে সরকার। এর অংশ হিসেবে আগামী ১৪ এপ্রিল ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রমের প্রি-পাইলট উদ্বোধন করবেন তারেক রহমান। টাঙ্গাইল সদরের শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে সকাল ১০টায় এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
আরও পড়ুন-পহেলা বৈশাখে সারা দেশে কৃষক কার্ড বিতরণ শুরু করবেন প্রধানমন্ত্রী
রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করেন মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। তিনি জানান, কৃষকদের জন্য আধুনিক, স্বচ্ছ ও প্রযুক্তিনির্ভর সেবা নিশ্চিত করতে ‘কৃষক কার্ড’ চালু করা হচ্ছে। এই কার্ডের মাধ্যমে প্রতিটি কৃষককে একটি ইউনিক ডিজিটাল পরিচয় প্রদান করা হবে, যা ভবিষ্যতে কৃষি খাতে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি এবং সেবা প্রাপ্তি সহজ করবে।
সরকারের এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো কৃষকদের সরকারি সহায়তা, ভর্তুকি ও অন্যান্য সুবিধা সরাসরি এবং স্বচ্ছভাবে পৌঁছে দেওয়া। পাশাপাশি কৃষি খাতে অনিয়ম ও দুর্নীতি কমিয়ে একটি আধুনিক ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা। কৃষিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই কৃষকদের জন্য একটি নিরাপদ ও ডিজিটাল পেমেন্ট উপযোগী কার্ড চালুর নির্দেশনা দেন।
এই প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য দেশের কৃষকদের পাঁচটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে—ভূমিহীন, প্রান্তিক, ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বড় কৃষক। জমির পরিমাণ ও মালিকানার ভিত্তিতে এই শ্রেণিবিন্যাস করা হয়েছে, যাতে প্রত্যেক শ্রেণির কৃষককে আলাদাভাবে চিহ্নিত করে উপযুক্ত সহায়তা দেওয়া যায়।
কার্ড বিতরণ কার্যক্রমটি তিনটি ধাপে সম্পন্ন করা হবে। প্রথম ধাপে প্রি-পাইলটিং বা প্রাথমিক যাচাই, দ্বিতীয় ধাপে পাইলটিং বা পরীক্ষামূলক বাস্তবায়ন এবং তৃতীয় ধাপে দেশব্যাপী চূড়ান্ত বাস্তবায়ন করা হবে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের মাধ্যমে প্রকল্পের কার্যকারিতা যাচাই করা সহজ হবে এবং ত্রুটি থাকলে তা দ্রুত সংশোধন করা যাবে।
প্রাথমিক পর্যায়ে দেশের ৮টি বিভাগের ১০টি জেলার ১১টি উপজেলার ১১টি ব্লককে এই কর্মসূচির আওতায় আনা হয়েছে। এই তালিকায় টাঙ্গাইল সদরসহ পঞ্চগড়, বগুড়া, ঝিনাইদহ, পিরোজপুর, কক্সবাজার ও কুমিল্লার কয়েকটি এলাকা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এই কার্ডের আওতায় শুধু ফসল উৎপাদনকারী কৃষকরাই নয়, মৎস্যচাষি, গবাদিপশু ও দুগ্ধ খামারি এবং উপকূলীয় অঞ্চলের লবণচাষিরাও অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। ফলে কৃষি খাতের বিস্তৃত একটি জনগোষ্ঠী এই ডিজিটাল সেবার আওতায় আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ‘কৃষক কার্ড’ চালু হলে কৃষকদের তথ্য একটি কেন্দ্রীয় ডাটাবেজে সংরক্ষিত থাকবে। এর ফলে কৃষকদের প্রকৃত সংখ্যা, তাদের চাহিদা ও উৎপাদন সম্পর্কিত তথ্য সহজে জানা যাবে। এতে কৃষি পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন আরও কার্যকর হবে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই উদ্যোগ সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে কৃষি খাতে ডিজিটালাইজেশন আরও ত্বরান্বিত হবে। একই সঙ্গে কৃষকদের আর্থিক নিরাপত্তা ও সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধিতেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সব মিলিয়ে, ‘কৃষক কার্ড’ প্রকল্পটি দেশের কৃষি ব্যবস্থাকে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
আরও পড়ুন-চালু হচ্ছে কৃষি কার্ড, কর্মসূচি উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔










