বাংলাদেশে কোন ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ড সবচেয়ে ভালো?
২০২৬ সালে বাংলাদেশে বিভিন্ন ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ডে রয়েছে নানা ধরনের সুবিধা।
বাংলাদেশে ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে। কেনাকাটা, অনলাইন পেমেন্ট, কিস্তি সুবিধা, ভ্রমণ, রেস্টুরেন্টে ছাড় এবং বিভিন্ন ধরনের বিশেষ অফারের কারণে অনেক গ্রাহকের কাছে ক্রেডিট কার্ড এখন ব্যাংকিং সেবার গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ। তবে কোন ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ড সবচেয়ে ভালো—এ প্রশ্নের একক কোনো উত্তর নেই। কারণ একজন গ্রাহকের জন্য যে কার্ড সুবিধাজনক, অন্যজনের জন্য সেটি নাও হতে পারে। কার্ড বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে বার্ষিক ফি, সুদমুক্ত সময়, কিস্তি সুবিধা, রিওয়ার্ড, ক্যাশব্যাক, লাউঞ্জ সুবিধা এবং ব্যবহারকারীর প্রয়োজন বিবেচনা করা গুরুত্বপূর্ণ।
২০২৬ সালে বাংলাদেশের বিভিন্ন ব্যাংক তাদের ক্রেডিট কার্ডে বিভিন্ন ধরনের সুবিধা দিচ্ছে। এর মধ্যে ইস্টার্ন ব্যাংক (EBL), ব্র্যাক ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংকসহ বেশ কয়েকটি ব্যাংকের কার্ডে দৈনন্দিন কেনাকাটা ও ভ্রমণকেন্দ্রিক সুবিধা দেখা যাচ্ছে। ইস্টার্ন ব্যাংকের কার্ড পোর্টফোলিওতে Visa Classic, Visa Gold, Visa Platinum এবং Visa Infinite-এর মতো বিভিন্ন কার্ড রয়েছে। ব্যাংকটির অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী, কিছু কার্ডে সর্বোচ্চ ৪৫ দিন পর্যন্ত সুদমুক্ত সময় এবং নির্দিষ্ট কার্ডে রিনিউয়াল ফি না দেওয়ার সুবিধা রয়েছে।
ভ্রমণ ও প্রিমিয়াম সুবিধাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া গ্রাহকদের জন্য EBL-এর উচ্চস্তরের কার্ডগুলোও উল্লেখযোগ্য। উদাহরণ হিসেবে EBL Visa Infinite কার্ডে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে রিনিউয়াল ফি মওকুফের সুবিধা রয়েছে। একই সঙ্গে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্দিষ্ট লাউঞ্জ ব্যবহারের সুবিধাও দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া কার্ডটির সঙ্গে ভ্রমণ ও কেনাকাটাসংক্রান্ত কিছু অফার যুক্ত রয়েছে। তবে এসব সুবিধার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য শর্ত ও ফি আগে যাচাই করা প্রয়োজন।
ব্র্যাক ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ডগুলোর মধ্যেও বিভিন্ন ধরনের সুবিধা রয়েছে। ব্যাংকের Visa Signature কার্ডে বছরে নির্দিষ্ট সংখ্যক আন্তর্জাতিক এয়ারপোর্ট লাউঞ্জ ব্যবহারের সুবিধা, ঢাকার বালাকা লাউঞ্জে কার্ডধারী ও নির্দিষ্ট সংখ্যক সঙ্গীর প্রবেশ এবং বছরে নির্দিষ্ট সংখ্যক পিক-অ্যান্ড-ড্রপ ও মিট-অ্যান্ড-গ্রিট সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি P@yflex সুবিধার মাধ্যমে নির্দিষ্ট পার্টনার মার্চেন্টে কেনাকাটা কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগ রয়েছে। নতুন কার্ডধারীদের জন্য নির্দিষ্ট খরচ পূরণ করলে রিওয়ার্ড পয়েন্ট পাওয়ার সুবিধাও রয়েছে।
বার্ষিক ফি কমানো বা মওকুফের বিষয়টিও ক্রেডিট কার্ড বাছাইয়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। ব্র্যাক ব্যাংকের ২০২৬ সালের একটি ক্যাম্পেইনে নির্দিষ্ট নতুন গ্রাহকদের জন্য প্রথম বছরের ১০০ শতাংশ বার্ষিক ফি ওয়েভারের সুবিধা দেওয়া হয়েছিল। তবে এ ধরনের অফার নির্দিষ্ট সময়, কার্ডের ধরন এবং নির্ধারিত খরচের শর্তের সঙ্গে যুক্ত থাকে। তাই শুধু কোনো প্রচারণা দেখে কার্ড নেওয়ার পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের বর্তমান শর্ত ও চার্জ যাচাই করা জরুরি।
অন্যদিকে প্রাইম ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ড পোর্টফোলিওতেও দৈনন্দিন ব্যবহার ও কিস্তি সুবিধাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ব্যাংকের Visa Standard Credit Card-এ দ্বৈত মুদ্রার ক্রেডিট সীমা, সর্বোচ্চ ৫০ দিন পর্যন্ত সুদমুক্ত সময়, ০ শতাংশ সুদের EMI সুবিধা, অটো-ডেবিট, ই-স্টেটমেন্ট, এসএমএস অ্যালার্ট এবং রিওয়ার্ড সুবিধার কথা উল্লেখ রয়েছে। কার্ডটির যোগ্যতার ক্ষেত্রে আয়, বয়স, TIN এবং অন্যান্য শর্ত প্রযোজ্য।
প্রাইম ব্যাংকের আরেকটি উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ হলো ‘Zero by Prime Bank’ ক্রেডিট কার্ড। ব্যাংকের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এটি Visa Signature কার্ড এবং এতে ইস্যু ফি, বার্ষিক ফি, রিনিউয়াল ফি, EMI প্রসেসিং ফি ও MFS ট্রান্সফার ফি না থাকার সুবিধার কথা বলা হয়েছে। তবে যেকোনো কার্ড ব্যবহারের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের সর্বশেষ Schedule of Charges ও প্রযোজ্য শর্ত দেখে নেওয়া প্রয়োজন, কারণ ফি ও শর্ত সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে। প্রাইম ব্যাংক ২০২৬ সালের জুলাই–ডিসেম্বর সময়ের জন্য ক্রেডিট কার্ড সেবার নতুন Schedule of Charges প্রকাশ করেছে।
তাহলে ২০২৬ সালে বাংলাদেশের কোন ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ড সবচেয়ে ভালো—এর উত্তর নির্ভর করবে গ্রাহকের প্রয়োজনের ওপর। যারা ভ্রমণ ও বিমানবন্দর লাউঞ্জ সুবিধাকে বেশি গুরুত্ব দেন, তাদের জন্য প্রিমিয়াম কার্ডের সুবিধা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। যারা নিয়মিত কেনাকাটা করেন, তাদের জন্য রিওয়ার্ড, ক্যাশব্যাক, মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট ও EMI সুবিধা বেশি কার্যকর হতে পারে। আবার যারা কার্ডের অতিরিক্ত ফি কম রাখতে চান, তাদের জন্য বার্ষিক ও রিনিউয়াল ফি, ওয়েভারের শর্ত এবং অন্যান্য চার্জ আগে দেখা প্রয়োজন।
ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সময়মতো বিল পরিশোধ করা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বকেয়া পরিশোধ না করলে সুদ ও অন্যান্য চার্জ প্রযোজ্য হতে পারে। একই সঙ্গে শুধু অফার বা উচ্চ ক্রেডিট লিমিট দেখে কার্ড বেছে না নিয়ে নিজের প্রয়োজন, পরিশোধের সক্ষমতা, বার্ষিক ফি, সুদের হার, EMI শর্ত এবং অন্যান্য চার্জ যাচাই করা উচিত। সবদিক বিবেচনায় ২০২৬ সালে EBL, ব্র্যাক ব্যাংক ও প্রাইম ব্যাংকসহ বিভিন্ন ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ডে আকর্ষণীয় সুবিধা থাকলেও ‘সবার জন্য এক নম্বর’ কোনো একটি কার্ড নির্ধারণ করা ঠিক হবে না। বরং গ্রাহকের ব্যবহার অনুযায়ী সবচেয়ে উপযোগী কার্ডটিই তার জন্য ভালো ক্রেডিট কার্ড হতে পারে।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
