ক্রেডিট কার্ড পাওয়ার যোগ্যতা (আপডেট) ,বাংলাদেশে কারা, কীভাবে পাবেন?
ক্রেডিট কার্ড পেতে বয়স, আয় ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের শর্ত পূরণ করতে হয়।
বাংলাদেশে ক্রেডিট কার্ড এখন শুধু কেনাকাটার মাধ্যম নয়, বরং বিভিন্ন পণ্য ও সেবার মূল্য পরিশোধ, অনলাইন লেনদেন, কিস্তি সুবিধা এবং নির্দিষ্ট কিছু অফার পাওয়ার একটি জনপ্রিয় ব্যাংকিং সেবা। তবে চাইলেই যে কেউ ক্রেডিট কার্ড পেয়ে যাবেন—বিষয়টি এমন নয়। আবেদনকারীর বয়স, আয়, পেশা, আর্থিক সক্ষমতা, কর শনাক্তকরণ নম্বর এবং ব্যাংকের নির্ধারিত অন্যান্য শর্ত বিবেচনা করেই সাধারণত কার্ড অনুমোদন করা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রুডেনশিয়াল গাইডলাইনে ক্রেডিট কার্ডের প্রাথমিক যোগ্যতার কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে।
সর্বশেষ নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রধান বা Primary Credit Card পাওয়ার জন্য সাধারণত আবেদনকারীর বয়স ২১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে হতে হয়। আর Supplementary বা অতিরিক্ত কার্ডের ক্ষেত্রে বয়স সাধারণত ১৮ থেকে ৭০ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ নিজের নামে একটি Primary Credit Card নিতে হলে বয়সের শর্ত পূরণ করা অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। একই সঙ্গে কার্ড সাধারণত ৭০ বছরের বেশি বয়সী ব্যক্তিদের জন্য ইস্যু করা হয় না।
ক্রেডিট কার্ডের জন্য আবেদনকারীর নাগরিকত্ব বা বৈধ অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ ব্যাংকের গাইডলাইনে বাংলাদেশি নাগরিকদের পাশাপাশি বৈধ ওয়ার্ক পারমিটধারী কিছু বিদেশি ব্যক্তির জন্যও কার্ড ইস্যুর সুযোগের কথা বলা হয়েছে। তবে বিদেশি নাগরিকদের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বৈদেশিক মুদ্রা ও অন্যান্য বিধিবিধান প্রযোজ্য হতে পারে। ফলে শুধু বয়স পূরণ করলেই কার্ড নিশ্চিত নয়; আবেদনকারীর পরিচয় ও বৈধ অবস্থানও যাচাই করা হয়।
আয়ের বিষয়টিও ক্রেডিট কার্ড পাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ ব্যাংকের গাইডলাইনে বেতনভোগী ও স্বনিযুক্ত ব্যক্তিদের ক্রেডিট কার্ডের সম্ভাব্য গ্রাহক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। গাইডলাইনে সাধারণভাবে ন্যূনতম মাসিক মোট আয় ৫ হাজার টাকা উল্লেখ থাকলেও একই সঙ্গে ব্যাংককে প্রয়োজন অনুযায়ী এই সীমা বেশি বা কম নির্ধারণের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। ফলে বাস্তবে একটি ব্যাংকের নির্ধারিত ন্যূনতম আয় অন্য ব্যাংকের তুলনায় ভিন্ন হতে পারে। বিশেষ করে Gold, Platinum বা অন্যান্য প্রিমিয়াম কার্ডের ক্ষেত্রে আয় ও যোগ্যতার শর্ত আরও বেশি হতে পারে।
চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে ব্যাংক সাধারণত চাকরির ধরন, মাসিক আয় এবং আয় প্রমাণের নথি বিবেচনা করতে পারে। অন্যদিকে ব্যবসায়ী বা স্বনিযুক্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ব্যবসার অস্তিত্ব ও আয়সংক্রান্ত তথ্য গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ ব্যাংকের বর্তমান গাইডলাইনে স্বনিযুক্ত ব্যক্তির ব্যবসার ক্ষেত্রে সাধারণত অন্তত এক বছর ব্যবসা পরিচালনার শর্ত উল্লেখ রয়েছে। তবে কোন ব্যাংক কী ধরনের কাগজপত্র চাইবে, তা তাদের নিজস্ব ক্রেডিট নীতির ওপর নির্ভর করে।
ক্রেডিট কার্ডের আবেদন করার সময় সাধারণত জাতীয় পরিচয়পত্র, ছবি, আয়সংক্রান্ত কাগজপত্র, ব্যাংক স্টেটমেন্ট, কর শনাক্তকরণসংক্রান্ত নথি এবং ঠিকানার প্রমাণের মতো কাগজপত্র প্রয়োজন হতে পারে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় বৈধ ETIN বা কর শনাক্তকরণ নম্বর এবং পরিষ্কার বা নতুন CIB রিপোর্টের বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে। পাশাপাশি ব্যাংককে KYC বা Know Your Customer প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আবেদনকারীর পরিচয় ও তথ্য যাচাই করতে হয়। তবে প্রয়োজনীয় নথির তালিকা ব্যাংক ও আবেদনকারীর পেশা অনুযায়ী পরিবর্তিত হতে পারে।
ক্রেডিট কার্ড পাওয়ার ক্ষেত্রে CIB রিপোর্টও গুরুত্বপূর্ণ। কোনো ব্যক্তির আগের ঋণ বা ক্রেডিট সংক্রান্ত তথ্য যদি ব্যাংকের কাছে ঝুঁকিপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়, তাহলে আবেদন অনুমোদনে সমস্যা হতে পারে। তাই নতুন করে ক্রেডিট কার্ড নেওয়ার আগে আগের ঋণ বা ক্রেডিট সংক্রান্ত দায় নিয়মিত পরিশোধ করা হয়েছে কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। ব্যাংক আবেদনকারীর আর্থিক সক্ষমতা ও পরিশোধের সামর্থ্য বিবেচনা করেই ক্রেডিট সীমা নির্ধারণ করতে পারে।
আবেদনের পদ্ধতি সাধারণত ব্যাংকভেদে ভিন্ন হলেও বর্তমানে অনেক ব্যাংক শাখার পাশাপাশি অনলাইন আবেদন সুবিধাও দিয়ে থাকে। আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের কার্ডের যোগ্যতা, ন্যূনতম আয়, বার্ষিক ফি, সুদের হার, বিল পরিশোধের নিয়ম এবং অন্যান্য চার্জ সম্পর্কে জানা উচিত। আবেদন জমা দেওয়ার পর ব্যাংক প্রয়োজনীয় তথ্য ও নথি যাচাই করে এবং নিজস্ব নীতিমালা অনুযায়ী আবেদন অনুমোদন বা প্রত্যাখ্যান করতে পারে। তাই যোগ্যতা পূরণ করলেই কার্ড পাওয়া নিশ্চিত—এমনটা বলা যায় না।
সব মিলিয়ে, বাংলাদেশে ক্রেডিট কার্ড পাওয়ার ক্ষেত্রে বয়স, আয়, পেশা, আর্থিক সক্ষমতা, ETIN, CIB রিপোর্ট এবং KYC যাচাই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সর্বশেষ বাংলাদেশ ব্যাংকের গাইডলাইন অনুযায়ী Primary Credit Card-এর জন্য সাধারণ বয়সসীমা ২১ থেকে ৭০ বছর। তবে প্রতিটি ব্যাংক নিজেদের নীতিমালা অনুযায়ী অতিরিক্ত যোগ্যতা ও শর্ত নির্ধারণ করতে পারে। তাই ক্রেডিট কার্ডের জন্য আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের সর্বশেষ নিয়ম ও চার্জ যাচাই করাই সবচেয়ে ভালো।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
