কাবার কালো গিলাফে কত কেজি সোনা লাগে? জানুন ভেতরের অজানা ইতিহাস

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ১২:২৩ পূর্বাহ্ণ
কাবার কালো গিলাফে কত কেজি সোনা লাগে? জানুন ভেতরের অজানা ইতিহাস

??????????????????????????????????????????????????????????????

কাবা শরিফ—বিশ্ব মুসলিমের সবচেয়ে পবিত্র স্থান। প্রতি বছর হজ মৌসুমে লাখো মুসল্লির ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে মক্কা। কাবাকে কেন্দ্র করেই মুসলমানরা তাওয়াফ করেন এবং পৃথিবীর যেকোনো প্রান্ত থেকে নামাজে এই দিকেই মুখ করে দাঁড়ান।

দূর থেকে কাবার যে কালো অবয়ব চোখে পড়ে, সেটি আসলে ‘কিসওয়াহ’ নামে পরিচিত বিশেষ গিলাফ। এটি খাঁটি রেশম, সোনা ও রুপার সুতোয় তৈরি এক অসাধারণ শিল্পকর্ম।

আরও পড়ুন- তাহাজ্জুদ নামাজ সুন্নত নাকি নফল? ইসলাম কী বলে জানুন

কাবার ভেতরে কী আছে?
বাইরে থেকে জাঁকজমকপূর্ণ মনে হলেও কাবার ভেতরের অংশ অত্যন্ত সাদামাটা ও ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ। ভেতরে রয়েছে তিনটি প্রাচীন কাঠের স্তম্ভ, মার্বেল পাথরের দেয়াল ও মেঝে, এবং ছাদে ওঠার একটি সিঁড়ি।

কাবার উত্তর-পূর্ব পাশে রয়েছে প্রায় ২৮০ কেজি খাঁটি সোনা দিয়ে তৈরি দরজা। এই দরজাটি সাধারণত বছরে দুবার বিশেষ আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে খোলা হয়।

কেন কালো কাপড়ে ঢাকা থাকে কাবা?
কাবার গিলাফ বা কিসওয়াহ মূলত পবিত্র এই ঘরের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের প্রতীক। আরবি ‘কাসা’ শব্দ থেকে কিসওয়াহ নামটির উৎপত্তি, যার অর্থ ঢেকে রাখা।

বর্তমানে ব্যবহৃত কিসওয়াহ তৈরি হয় ৪৭টি রেশমি কাপড়ের খণ্ড দিয়ে। এর ওপর সোনালি ক্যালিগ্রাফিতে পবিত্র কুরআনের আয়াত লেখা থাকে।

একটি কিসওয়াহ তৈরিতে কত সোনা লাগে?
সৌদি আরবের বিশেষ কারখানায় প্রতিবছর নতুন কিসওয়াহ তৈরি করা হয়। একটি গিলাফ তৈরিতে ব্যবহার হয়—

প্রায় ৬৭০ কেজি প্রাকৃতিক রেশম

প্রায় ১২০ কেজি ২৪ ক্যারেট সোনার সুতো

প্রায় ১০০–১২০ কেজি রুপার সুতো

এই পুরো প্রক্রিয়ায় ব্যয় হয় প্রায় ২৫ মিলিয়ন সৌদি রিয়াল।

সবসময় কি কালো ছিল কিসওয়াহ?
না। ইতিহাসে কিসওয়াহর রং সবসময় কালো ছিল না। বিভিন্ন সময়ে সাদা, সবুজ, লাল ও হলুদ রঙের গিলাফও ব্যবহার করা হয়েছে। তবে আব্বাসীয় আমলের শেষভাগ থেকে কালো রং স্থায়ী পরিচয়ে পরিণত হয়।

পুরনো গিলাফের কী হয়?
প্রতি বছর হজের সময় পুরনো গিলাফ সরিয়ে নতুনটি পরানো হয়। পুরনো কিসওয়াহর সোনালি অংশগুলো সংরক্ষণ করে বিভিন্ন জাদুঘর ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের উপহার হিসেবে দেওয়া হয়।

ইসলামি ইতিহাসবিদদের মতে, কাবা শুধু একটি স্থাপনা নয়—এটি বিশ্ব মুসলিমের ঐক্য, বিশ্বাস ও ইতিহাসের প্রতীক।

আরও পড়ুন- নামাজে “সুবহানা রাব্বিয়াল আ’লা” এর অর্থ ও তাৎপর্য কোরআন-হাদিসে কী বলা হয়েছে

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
📌 পোস্টটি শেয়ার করুন! 🔥

👍 আমাদের ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন