প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পরীক্ষার ফি চালুর ঘোষণা, আসছে নতুন নির্দেশনা
প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পরীক্ষার ফি চালুর ঘোষণা, আসছে নতুন নির্দেশনা
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পরীক্ষা পরিচালনার ব্যয় নির্বাহে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নির্ধারিত হারে ফি নেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ বিষয়ে শিগগিরই বিস্তারিত নির্দেশনা জারি করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব মো. সাখাওয়াত হোসেন।
শনিবার (১৩ জুন) রাজধানীতে বাংলাদেশ গার্ল গাইডস অ্যাসোসিয়েশনের জাতীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান। অনুষ্ঠানে প্রাথমিক শিক্ষা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন- এমপিও শিক্ষকদের উৎসব ভাতা শতভাগ করার ইঙ্গিত দিলেন শিক্ষামন্ত্রী
সচিব বলেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে পরীক্ষা আয়োজনের জন্য যে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়, অনেক ক্ষেত্রে তা পর্যাপ্ত হয় না। ফলে পরীক্ষা পরিচালনা, প্রশ্নপত্র প্রস্তুত, মূল্যায়ন এবং অন্যান্য প্রশাসনিক খরচ মেটাতে সমস্যার মুখে পড়তে হয় শিক্ষকদের।
তিনি জানান, বর্তমানে প্রধান শিক্ষকদের যে স্লিপ বরাদ্দ দেওয়া হয়, তা দিয়ে সব ধরনের ব্যয় নির্বাহ করা সম্ভব হয় না। অনেক বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের ব্যক্তিগত অর্থ ব্যয় করে পরীক্ষার কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হয়। এ ধরনের পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতেই পরীক্ষার জন্য নির্ধারিত ফি আদায়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, কোন শ্রেণির শিক্ষার্থীদের কত টাকা ফি দিতে হবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে শিগগিরই একটি নীতিমালা বা নির্দেশনার মাধ্যমে ফি কাঠামো নির্ধারণ করা হবে। এরপর দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একই নিয়ম অনুসরণ করা হবে।
শিক্ষা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মতে, পরীক্ষার খরচ মেটাতে দীর্ঘদিন ধরেই বিদ্যালয়গুলো নানা ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে। বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলের অনেক বিদ্যালয়ে সীমিত বাজেটের কারণে পরীক্ষা আয়োজন করতে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়।
তবে নতুন এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অভিভাবকদের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ না পড়ে, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। ফি নির্ধারণে শিক্ষার্থীদের আর্থসামাজিক অবস্থা এবং বিদ্যালয়ের বাস্তব চাহিদা বিবেচনায় নেওয়া হতে পারে।
প্রাথমিক শিক্ষা খাত সংশ্লিষ্টদের ধারণা, সুনির্দিষ্ট নীতিমালার আওতায় ফি আদায় করা হলে পরীক্ষা ব্যবস্থাপনা আরও সুসংগঠিত হবে এবং শিক্ষকদের ব্যক্তিগত অর্থ ব্যয়ের প্রয়োজন কমে আসবে।
এদিকে সম্মেলনে গার্ল গাইডসের ‘হলদে পাখি’ কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং শিক্ষার্থীদের নেতৃত্ব ও দক্ষতা উন্নয়নের বিভিন্ন বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়।
আরও পড়ুন- মালয়েশিয়া-অস্ট্রেলিয়ার মানে নিতে বদলাচ্ছে দেশের শিক্ষাব্যবস্থা

আপনার মতামত লিখুন
Array