হাম আতঙ্ক বাড়ছে কীভাবে ছড়ায় কারা বেশি ঝুঁকিতে জানুন প্রতিরোধের উপায়

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:২২ অপরাহ্ণ
হাম আতঙ্ক বাড়ছে কীভাবে ছড়ায় কারা বেশি ঝুঁকিতে জানুন প্রতিরোধের উপায়

বাংলাদেশে হাম রোগের সংক্রমণ বাড়ছে। কীভাবে ছড়ায়, কারা বেশি ঝুঁকিতে এবং কীভাবে প্রতিরোধ করবেন—জানুন বিস্তারিত।

বসন্ত এলেই বাড়ে বিভিন্ন সংক্রামক রোগের প্রকোপ, আর এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত রোগগুলোর একটি হলো হাম। চলতি বছরে আগের তুলনায় রোগটির সংক্রমণ বাড়ায় জনমনে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আতঙ্ক নয়—সচেতনতা ও সঠিক তথ্যই পারে এই রোগ থেকে সুরক্ষা দিতে।

আরও পড়ুন-কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল ডাক্তার দেখানোর নিয়ম জানুন সহজ ধাপে

হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা দ্রুত একজন থেকে আরেকজনের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। আক্রান্ত ব্যক্তি হাঁচি, কাশি কিংবা কথা বলার সময় যে ক্ষুদ্র ড্রপলেট বাতাসে ছড়ায়, তার মাধ্যমেই এই রোগ সংক্রমিত হয়। এমনকি ভাইরাসটি বাতাসে বা কোনো পৃষ্ঠে প্রায় দুই ঘণ্টা পর্যন্ত সক্রিয় থাকতে পারে, যা সংক্রমণের ঝুঁকি আরও বাড়ায়।

সাধারণত ভাইরাস শরীরে প্রবেশের ১০ থেকে ১৪ দিনের মধ্যে এর লক্ষণ প্রকাশ পায়। প্রাথমিক লক্ষণগুলোকে চিকিৎসকেরা ‘৩C’ হিসেবে চিহ্নিত করেন—কফ (কাশি), কোরাইজা (সর্দি) এবং কনজাংকটিভাইটিস (চোখ লাল হওয়া)। এর সঙ্গে থাকে উচ্চমাত্রার জ্বর, মুখের ভেতরে ছোট সাদা দাগ বা কপলিক স্পট এবং কয়েকদিন পর শরীরে লালচে র্যাশ, যা মুখ থেকে শুরু হয়ে ধীরে ধীরে পুরো শরীরে ছড়িয়ে পড়ে।

বিশেষ করে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু এবং অন্তঃসত্ত্বা নারীরা এই রোগে বেশি ঝুঁকিতে থাকে। অপুষ্ট শিশুদের ক্ষেত্রে হাম মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে। জটিলতা হিসেবে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, কানে সংক্রমণ এমনকি মস্তিষ্কে প্রদাহের মতো গুরুতর সমস্যা দেখা দিতে পারে।

এ পরিস্থিতিতে সরকার জরুরি টিকাদান কর্মসূচি গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় খুব অল্প সময়ের মধ্যে একটি জাতীয় জরুরি ভ্যাকসিন ক্যাম্পেইন শুরু হতে যাচ্ছে। তিনি আরও জানান, সংক্রমণ বেশি এমন এলাকাগুলোতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিকাদান কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

আগে ৯ থেকে ১৫ মাস বয়সী শিশুদের জন্য হামের টিকা নির্ধারিত থাকলেও বর্তমানে এই সীমা বাড়ানো হয়েছে। বিশেষ এই কর্মসূচির আওতায় এখন ৬ মাস থেকে ১০ বছর বয়সী শিশু-কিশোরদের টিকা দেওয়া হবে, যা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো টিকাদান। এমআর (মিজলস-রুবেলা) বা এমএমআর (মিজলস-মাম্পস-রুবেলা) টিকা অত্যন্ত নিরাপদ এবং কার্যকর। সাধারণত নির্ধারিত সময় অনুযায়ী দুই ডোজ টিকা নিলে দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষা পাওয়া যায়।

আক্রান্ত শিশুর যত্নেও কিছু বিষয় গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। পর্যাপ্ত পানি পান করানো, পুষ্টিকর খাবার দেওয়া, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং অন্যদের সংস্পর্শ থেকে আলাদা রাখা প্রয়োজন। যদি শ্বাসকষ্ট, খিঁচুনি বা অতিরিক্ত দুর্বলতার মতো গুরুতর লক্ষণ দেখা দেয়, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, শুধু ব্যক্তিগত নয়—সামাজিক সচেতনতাও হাম প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। একটি সমাজে প্রায় ৯৫ শতাংশ মানুষ টিকা নিলে এই রোগের বিস্তার কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

সব মিলিয়ে, হাম নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন হওয়াই এখন সবচেয়ে জরুরি। সময়মতো টিকা গ্রহণ এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললেই এ রোগ থেকে নিজেকে এবং অন্যদের সুরক্ষিত রাখা সম্ভব।

আরও পড়ুন-কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল সময়সূচি: আউটডোর, ইনডোর ও জরুরি সেবা

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।

✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔

📌 পোস্টটি শেয়ার করুন! 🔥

👍 আমাদের ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন