রিমোটের এক ক্লিকেই চোখের সামনে হাজির হয় সংবাদ, টকশো আর ধারাবাহিক নাটক। কিন্তু সেই একই পর্দায় শিশুদের জন্য উপযোগী কোনো অনুষ্ঠান খুঁজতে গেলে দেখা যায় এক ধরনের শূন্যতা। দেশে টেলিভিশন চ্যানেলের সংখ্যা বাড়লেও শিশুদের জন্য মানসম্মত কনটেন্টের অভাব নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে জাতির ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আসলে কতটা জায়গা রাখা হয়েছে?
আরও পড়ুনঃ দূর্বল ইন্টারনেটেও স্থির ভিডিও কল, যেভাবে কাজ করে ইমোর গোপন প্রযুক্তি
বর্তমানে দেশে প্রায় ৪২টি টেলিভিশন চ্যানেল নিয়মিত সম্প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যে খবরভিত্তিক, বিনোদন, খেলাধুলা কিংবা ধর্মীয় নানা ধরনের অনুষ্ঠান থাকলেও শিশুদের জন্য পরিকল্পিত ও ধারাবাহিক কনটেন্ট খুবই সীমিত। গুটিকয়েক অনুষ্ঠান ছাড়া শিশুদের মানসিক ও সৃজনশীল বিকাশে সহায়ক দীর্ঘমেয়াদি কোনো প্রোগ্রাম চোখে পড়ে না বললেই চলে।
সম্প্রতি বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)-এর একটি প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, শিশুদের জন্য টেলিভিশনে কনটেন্টের এই ঘাটতি ক্রমেই প্রকট হয়ে উঠছে। বিশেষ করে শহরাঞ্চলের শিশুদের একটি বড় অংশ এখন টিভি কিংবা ডিজিটাল স্ক্রিনের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।
কিন্তু তাদের বয়স উপযোগী কনটেন্ট না থাকায় তারা বাধ্য হয়ে বড়দের অনুষ্ঠান দেখছে, যা তাদের মানসিক বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
প্রযুক্তির সহজলভ্যতার কারণে এখন শিশুরা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি সময় কাটাচ্ছে স্ক্রিনের সামনে। শুধু টেলিভিশন নয়, স্মার্টফোন, ট্যাব কিংবা ইউটিউবসহ বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মেও তাদের উপস্থিতি বেড়েছে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, শিশুরা বাবা-মায়ের চেয়েও বেশি সময় ধরে স্ক্রিনে ব্যস্ত থাকে। কিন্তু সেই সময়টিকে শিক্ষণীয় ও বিনোদনমূলকভাবে কাজে লাগানোর মতো কনটেন্টের অভাব থেকেই যাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুদের জন্য আলাদা করে তৈরি করা অনুষ্ঠান, গেমস বা অ্যাপ না থাকলে তাদের মানসিক ও সামাজিক বিকাশ ব্যাহত হতে পারে। কারণ, শিশুদের একটি বড় বৈশিষ্ট্য হলো তারা অনুকরণপ্রিয়। তারা যা দেখে, তা বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করার চেষ্টা করে। ফলে যদি তারা বড়দের জন্য তৈরি নাটক, টকশো বা সহিংস দৃশ্য বেশি দেখে, তাহলে তার প্রভাব তাদের আচরণে পড়তে পারে।
মনোবিজ্ঞানীদের মতে, শিশুদের জন্য বিনোদন মানেই শুধু সময় কাটানো নয়; এটি তাদের শেখার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। গল্প, কার্টুন, শিক্ষামূলক অনুষ্ঠান কিংবা সৃজনশীল কার্যক্রমভিত্তিক কনটেন্ট শিশুদের কল্পনাশক্তি বাড়াতে এবং নৈতিক শিক্ষা গড়ে তুলতে সহায়তা করে। কিন্তু এই ধরনের কনটেন্টের ঘাটতি থাকলে তারা সঠিক দিকনির্দেশনা থেকে বঞ্চিত হয়।
অন্যদিকে, টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, শিশুতোষ অনুষ্ঠান তৈরি করলেও তা দীর্ঘদিন ধরে চালিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। কারণ, এসব অনুষ্ঠানে বিজ্ঞাপনদাতা বা স্পন্সর খুব কম আগ্রহ দেখায়।
ফলে বাণিজ্যিক দিক থেকে লাভজনক না হওয়ায় অনেক চ্যানেলই শিশুদের অনুষ্ঠান বন্ধ করতে বাধ্য হয়। এই অর্থনৈতিক চাপই ধীরে ধীরে শিশুদের জন্য নির্মল বিনোদনের জায়গাকে সংকুচিত করে ফেলছে।
শুধু বাণিজ্যিক চিন্তা দিয়ে শিশুদের কনটেন্ট তৈরি করা সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে সরকার, বেসরকারি খাত এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। শিশুদের জন্য আলাদা চ্যানেল, নির্দিষ্ট সময়সূচি কিংবা বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে এই ঘাটতি অনেকটাই পূরণ করা যেতে পারে।
এছাড়া, অভিভাবকদের ভূমিকাও এখানে গুরুত্বপূর্ণ। তারা যদি সচেতনভাবে শিশুদের জন্য উপযুক্ত কনটেন্ট বেছে দেন এবং স্ক্রিন টাইম নিয়ন্ত্রণ করেন, তাহলে নেতিবাচক প্রভাব অনেকটাই কমানো সম্ভব।
সব মিলিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায় যে, বাণিজ্যের দোহাই দিয়ে আমরা কি আগামী প্রজন্মকে উপেক্ষা করছি? নাকি এখনই সময় শিশুদের জন্য মানসম্মত, শিক্ষামূলক ও আনন্দদায়ক কনটেন্ট তৈরিতে নতুন করে উদ্যোগ নেওয়ার? ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুস্থ বিকাশ নিশ্চিত করতে এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করা এখন সময়ের দাবি।
আরও পড়ুন- স্বল্প খরচে বেশি ডাটা টেলিটকের নতুন প্যাকেজে
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔







