আর্থিকভাবে অসচ্ছল কিন্তু মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য বড় সুখবর এসেছে। সরকার স্নাতক (পাস) ও সমমান পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য উপবৃত্তি কার্যক্রম শুরু করেছে। প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের আওতায় পরিচালিত এই কর্মসূচির মাধ্যমে নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা উপবৃত্তির পাশাপাশি টিউশন ফি ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা পাবেন।
রোববার (১৭ মে) সকাল থেকে অনলাইনে আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে। আবেদন করা যাবে আগামী ১৪ জুন রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত। এ বিষয়ে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও অধিভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ইতোমধ্যে নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে।
আরও পড়ুন- নারীদের স্বাবলম্বী করার ওপর জোর দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
গত ১৪ মে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক স্মৃতি কর্মকার স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়। একইসঙ্গে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়-এর ওয়েবসাইটেও এ সংক্রান্ত নির্দেশনা প্রকাশ করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এবং ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত বিভিন্ন কলেজ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা এই উপবৃত্তির জন্য আবেদন করতে পারবেন।
বিশেষ করে ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (পাস) ও সমমান পর্যায়ের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের জন্য এই সুবিধা চালু করা হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের আওতায় নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা আর্থিক সহায়তা পাবেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
আবেদন করতে আগ্রহীদের নির্ধারিত ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে অনলাইনে ফরম পূরণ করতে হবে। পুরো আবেদন প্রক্রিয়া অনলাইনভিত্তিক হওয়ায় কোনো হার্ড কপি বা কাগজপত্র জমা দেওয়ার প্রয়োজন হবে না।
শিক্ষার্থীদের আবেদন সম্পন্ন হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানরা শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও বাছাই কমিটির রেজুলেশন সফটওয়্যারে আপলোড করে আবেদন ফরওয়ার্ড করবেন। প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য আবেদন যাচাই ও ফরওয়ার্ড করার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫ জুন সকাল ৯টা থেকে ২১ জুন রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত।
উপবৃত্তি পাওয়ার জন্য কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শর্তও নির্ধারণ করা হয়েছে। আবেদনকারীকে নিয়মিত শিক্ষার্থী হতে হবে এবং শ্রেণিকক্ষে কমপক্ষে ৭৫ শতাংশ উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে।
এছাড়া নির্বাচিত শিক্ষার্থীর অভিভাবকের বার্ষিক আয় এক লাখ টাকার কম হতে হবে। সিটি করপোরেশন এলাকায় বসবাসকারী পরিবারের ক্ষেত্রে জমির পরিমাণ ০.০৫ শতাংশের কম এবং অন্যান্য এলাকার ক্ষেত্রে ০.৭৫ শতাংশের কম হতে হবে।
শিক্ষাসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, উচ্চশিক্ষায় আর্থিক সংকটে থাকা শিক্ষার্থীদের জন্য এই ধরনের উপবৃত্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে অনেক শিক্ষার্থী অর্থাভাবে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে হিমশিম খাচ্ছেন। এ ধরনের সহায়তা তাদের শিক্ষাজীবন অব্যাহত রাখতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
উপবৃত্তি সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট এবং ই-স্টাইপেন্ড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের নোটিশ বোর্ডে পাওয়া যাবে।
সূত্র: প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞপ্তি
আরও পড়ুন- মাত্র ১১৫ দিন ক্লাস করেই বসতে হবে ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষায়










