দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানীর যোগাযোগ আরও দ্রুত ও নিরাপদ করতে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে সরকার। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানিয়েছেন, নতুন এই সেতু নির্মাণের বিষয়ে সরকার নীতিগতভাবে এগোচ্ছে এবং এর সম্ভাব্যতা সমীক্ষাও ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এখন অর্থায়ন ও অন্যান্য প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা চলছে।
আরও পড়ুন-ওভারটাইমের ৫০ শতাংশ ভাতা ও সুদমুক্ত বাইক লোন চাইল পুলিশ সদস্যরা
সোমবার সচিবালয়ে আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে নিরাপদ ঈদযাত্রা নিশ্চিত করতে আয়োজিত প্রস্তুতি সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে দীর্ঘদিনের যানজট, দুর্ঘটনা এবং ভোগান্তির বিষয় তুলে ধরে দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, সরকার এ বিষয়ে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।
তিনি জানান, দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর জন্য বর্তমানে তিনটি সম্ভাব্য প্রস্তাবনা রয়েছে। এর মধ্যে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া রুট অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প হিসেবে বিবেচনায় আছে। এই রুটে সেতু নির্মাণ হলে দেশের অন্যতম ব্যস্ত ফেরিঘাট এলাকায় যানজট অনেকাংশে কমে আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সেতুমন্ত্রী বলেন, “দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের বিষয়ে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। সম্ভাব্যতা সমীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। এখন অর্থায়নের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে। পাশাপাশি অন্যান্য প্রাক-প্রস্তুতিমূলক কাজও চলমান রয়েছে।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান পদ্মা সেতু চালুর পর দেশের দক্ষিণাঞ্চলে অর্থনৈতিক কার্যক্রমে বড় পরিবর্তন এসেছে। তবে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া রুট এখনও দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। বিশেষ করে উত্তর ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যানবাহনের বড় অংশ এই পথে চলাচল করে।
তারা বলছেন, এই রুটে ফেরিনির্ভর যোগাযোগের কারণে প্রায়ই দীর্ঘ যানজট ও দুর্ভোগ তৈরি হয়। ঈদসহ বিভিন্ন উৎসবের সময় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। ফলে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণ হলে শুধু যাতায়াত সহজ হবে না, বরং দুর্ঘটনার ঝুঁকিও কমে আসতে পারে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন সেতুটি নির্মাণ হলে দেশের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থায় আরও ভারসাম্য আসবে। একই সঙ্গে পণ্য পরিবহন দ্রুততর হবে এবং শিল্প ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমও আরও সম্প্রসারিত হতে পারে।
পরিবহন খাত বিশ্লেষকদের মতে, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুট দীর্ঘদিন ধরেই দেশের অর্থনৈতিক প্রবাহের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কিন্তু ফেরি পারাপারে সময় নষ্ট হওয়া, অতিরিক্ত চাপ এবং আবহাওয়াজনিত কারণে প্রায়ই ভোগান্তি তৈরি হয়। সেখানে সেতু নির্মাণ হলে যাত্রী ও পণ্যবাহী যানবাহনের চলাচলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে।
তবে তারা বলছেন, এত বড় অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়নে অর্থায়ন অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে। কারণ দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণে বিপুল ব্যয় প্রয়োজন হবে। এ কারণে সরকার এখন অর্থায়নের উৎস ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিষয়গুলোও বিবেচনায় রাখছে।
সরকারি সূত্রগুলো বলছে, সম্ভাব্যতা সমীক্ষায় বিভিন্ন রুট, যানবাহনের চাপ, অর্থনৈতিক প্রভাব এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতার বিষয়গুলো বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এসব তথ্যের ভিত্তিতেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এদিকে আসন্ন ঈদযাত্রা নিয়েও সভায় আলোচনা হয়। সড়ক পরিবহনমন্ত্রী জানান, ঈদে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। সড়কে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা এবং যানজট কমাতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
বিশ্লেষকদের মতে, দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের যোগাযোগ অবকাঠামো আরও শক্তিশালী হবে। একই সঙ্গে জাতীয় অর্থনীতিতেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
সূত্র: সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় এবং সচিবালয়ে মন্ত্রীর বক্তব্য।
আরও পড়ুন-আজ থেকেই ঢাকার রাস্তায় এআই ক্যামেরায় অটো মামলা ট্রাফিক আইন চালু
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔









