আমাদের Telegram চ্যানেলে যুক্ত হোন

পুলিশ ভেরিফিকেশন ছাড়াই পাসপোর্ট করার নতুন নিয়ম ২০২৬

April 11, 2026 12:35 PM
পুলিশ ভেরিফিকেশন ছাড়াই পাসপোর্ট করুন অনলাইনে ঘরে বসে!

বাংলাদেশে ই-পাসপোর্ট চালুর পর থেকে পাসপোর্ট করার প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। আগে যেখানে আবেদন করার পর পুলিশ ভেরিফিকেশন ছিল একটি বাধ্যতামূলক ধাপ এবং অনেক সময় আবেদনকারীদের বাড়িতে গিয়ে পুলিশি যাচাইয়ের জন্য অপেক্ষা করতে হতো, এখন নতুন ডিজিটাল ব্যবস্থার কারণে অনেক ক্ষেত্রেই এই ধাপটি আর প্রয়োজন হচ্ছে না। এতে করে সাধারণ মানুষের সময়, খরচ ও ভোগান্তি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

আরও পড়ুন-ভোটার আইডি কার্ড নাম সংশোধন ফরম কোথায় পাওয়া যায়?

বর্তমানে পাসপোর্ট আবেদন প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত ও স্বচ্ছ করতে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর যাচাই ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে আবেদনকারীর তথ্য জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্ম নিবন্ধন, মোবাইল নম্বর, ঠিকানা এবং পারিবারিক তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে যাচাই করা হয়। ফলে তথ্যগুলো সঠিকভাবে মিল থাকলে আলাদা করে পুলিশি যাচাইয়ের প্রয়োজন হয় না এবং আবেদন সরাসরি প্রক্রিয়াকরণে চলে যায়। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, আবেদন জমা দেওয়ার পর “Enrolment in Process” থেকে সরাসরি “Passport Ready” স্ট্যাটাসে চলে যাচ্ছে, যা আবেদনকারীদের জন্য বড় স্বস্তির বিষয়।

অনলাইনে পাসপোর্ট আবেদন করার জন্য প্রথমে সরকারি ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে নির্ধারিত ফরম পূরণ করতে হয়। সেখানে আবেদনকারীর নাম, জন্মতারিখ, ঠিকানা, জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য, পিতা-মাতা বা স্বামী-স্ত্রীর তথ্য, পেশা এবং জরুরি যোগাযোগের তথ্য দিতে হয়। এই তথ্যগুলো অবশ্যই জাতীয় পরিচয়পত্রের সঙ্গে মিল থাকতে হবে, কারণ তথ্যের সামান্য অমিল থাকলেও আবেদনটি আবার পুলিশ ভেরিফিকেশনের জন্য পাঠানো হতে পারে। এরপর প্রয়োজন অনুযায়ী কাগজপত্র সংযুক্ত করতে হয়, যদিও ই-পাসপোর্টের ক্ষেত্রে কাগজপত্রের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম।

আবেদন সম্পন্ন করার পর অনলাইনে নির্ধারিত ফি পরিশোধ করতে হয়, যা বিকাশ, নগদ, রকেট বা ব্যাংক কার্ডের মাধ্যমে সহজেই দেওয়া যায়। এরপর আবেদনকারীকে একটি নির্দিষ্ট তারিখ ও সময় নির্বাচন করে পাসপোর্ট অফিসে গিয়ে বায়োমেট্রিক তথ্য প্রদান করতে হয়। এই ধাপটিই পুরো প্রক্রিয়ার একমাত্র সরাসরি উপস্থিতির অংশ। বায়োমেট্রিক সম্পন্ন হওয়ার পর যদি আবেদনকারীর তথ্য সব দিক থেকে সঠিক থাকে, তাহলে অনেক ক্ষেত্রেই পুলিশ ভেরিফিকেশন ছাড়াই পাসপোর্ট তৈরি হয়ে যায়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যাদের জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য সঠিক এবং বর্তমান ঠিকানার সঙ্গে মিল রয়েছে, যাদের পারিবারিক তথ্য একই ঠিকানায় সংযুক্ত এবং যাদের পূর্বে পাসপোর্ট ছিল বা বায়োমেট্রিক তথ্য আগে থেকেই সংরক্ষিত আছে, তাদের ক্ষেত্রে পুলিশ ভেরিফিকেশন না হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। ফলে এই শ্রেণির আবেদনকারীরা তুলনামূলকভাবে দ্রুত পাসপোর্ট পেয়ে থাকেন।

এছাড়া ই-পাসপোর্ট ব্যবস্থার আরেকটি বড় সুবিধা হলো অনলাইনে সহজেই আবেদন স্ট্যাটাস যাচাই করা যায়। আবেদনকারী তার Application ID এবং জন্মতারিখ ব্যবহার করে ঘরে বসেই জানতে পারেন তার পাসপোর্ট কোন পর্যায়ে আছে। এতে করে অপ্রয়োজনীয় দৌড়ঝাঁপ কমে যায় এবং পুরো প্রক্রিয়াটি আরও স্বচ্ছ হয়।

ই-পাসপোর্ট চালুর ফলে শুধু আবেদন প্রক্রিয়াই সহজ হয়নি, বরং পাসপোর্টের সুবিধাও বেড়েছে। দীর্ঘমেয়াদি মেয়াদ, উন্নত নিরাপত্তা ব্যবস্থা, দ্রুত ডেলিভারি এবং আন্তর্জাতিক ভ্রমণে সুবিধা—সব মিলিয়ে এটি এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি কার্যকর একটি সেবা হয়ে উঠেছে।

সব মিলিয়ে বলা যায়, নতুন এই ডিজিটাল পদ্ধতির কারণে পাসপোর্ট আবেদন এখন অনেক সহজ ও সময়সাশ্রয়ী হয়েছে। তবে একটি বিষয় অবশ্যই মনে রাখতে হবে—আবেদনের সময় দেওয়া সব তথ্য যেন জাতীয় পরিচয়পত্রের সঙ্গে হুবহু মিলে যায়। কারণ তথ্যের সামান্য ভুলের কারণেই আবেদনটি আবার পুলিশ ভেরিফিকেশনের আওতায় চলে যেতে পারে এবং এতে সময় বেশি লাগতে পারে। তাই সঠিক তথ্য দিয়ে আবেদন করলে অনেক ক্ষেত্রেই পুলিশ ভেরিফিকেশন ছাড়াই দ্রুত পাসপোর্ট পাওয়া সম্ভব হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের জন্য বড় একটি স্বস্তির খবর।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

আরও পড়ুন-এখন আর থানায় জিডি নয়! হারানো NID অনলাইনে পাবেন সহজেই

👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।

✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔

📌 পোস্টটি শেয়ার করুন! 🔥

Sanaul Bari

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমতুল্লাহ। আমি মোঃ সানাউল বারী। পেশায় আমি একজন চাকরিজীবী এবং এই ওয়েবসাইটের এডমিন। চাকরির পাশাপাশি, আমি গত ১৪ বছর ধরে আমার নিজস্ব ওয়েবসাইটে লেখালেখি করছি এবং আমার নিজস্ব ইউটিউব এবং ফেসবুকে কন্টেন্ট তৈরি করছি। বিশেষ দ্রষ্টব্য - লেখায় যদি কোনও ভুল থাকে, তাহলে দয়া করে আমাকে ক্ষমা করে দিন। ধন্যবাদ।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now