বিদেশ ভ্রমণ ও ভিসা আবেদন প্রক্রিয়াকে আরও সহজ, দ্রুত এবং স্বচ্ছ করতে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে ভিসার আবেদনের জন্য জমা দেওয়া ব্যাংক স্টেটমেন্ট, সলভেন্সি সার্টিফিকেট এবং বিনিয়োগসংক্রান্ত নথিতে বাধ্যতামূলকভাবে কিউআর কোড যুক্ত করতে হবে। এর মাধ্যমে দূতাবাস ও ভিসা সেন্টারগুলো অনলাইনে সহজেই নথির সত্যতা যাচাই করতে পারবে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
আরও পড়ুন-৬ মে থেকে শুরু ভারতীয় ট্যুরিস্ট ভিসা বাংলাদেশিদের জন্য বড় সুখবর
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিদেশে পড়াশোনা, চাকরি, চিকিৎসা কিংবা ভ্রমণের জন্য প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি নাগরিক বিভিন্ন দেশের দূতাবাসে ভিসার আবেদন করেন। এসব আবেদনের সঙ্গে আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ হিসেবে ব্যাংক স্টেটমেন্ট, সলভেন্সি সার্টিফিকেট এবং বিভিন্ন বিনিয়োগ নথি জমা দিতে হয়। তবে এতদিন এসব কাগজপত্রের সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করার কার্যকর ডিজিটাল ব্যবস্থা না থাকায় দূতাবাস ও ভিসা সেন্টারগুলোকে বাড়তি জটিলতার মুখে পড়তে হতো।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ব্যাংকগুলোকে এখন এমন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে নথিতে থাকা কিউআর কোড স্ক্যান করলেই প্রয়োজনীয় তথ্য অনলাইনে দেখা যায়। এর ফলে ভিসা আবেদন যাচাই প্রক্রিয়া আরও দ্রুত ও নির্ভুল হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, কিউআর কোড স্ক্যান করার মাধ্যমে আবেদনকারীর অ্যাকাউন্ট নম্বর, হিসাবধারীর নাম, স্টেটমেন্টের শুরুর ও শেষের স্থিতি, নথি প্রস্তুতের তারিখসহ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য যাচাই করা যাবে। ফলে জাল নথি বা ভুয়া আর্থিক তথ্য ব্যবহারের সুযোগও অনেক কমে আসবে।
ব্যাংকিং খাত সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক ভিসা আবেদন প্রক্রিয়ায় আর্থিক নথির সত্যতা যাচাই একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। অনেক দেশে ভুয়া ব্যাংক স্টেটমেন্ট বা জাল সলভেন্সি সার্টিফিকেট ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। নতুন এই কিউআরভিত্তিক যাচাই ব্যবস্থা সেই ঝুঁকি কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, ব্যাংকিং খাতে ডিজিটাল যাচাই পদ্ধতি চালু হওয়ায় শুধু দূতাবাস নয়, সাধারণ গ্রাহকরাও ভবিষ্যতে আরও নিরাপদ ও স্বচ্ছ সেবা পাবেন। একই সঙ্গে ব্যাংকিং নথি যাচাইয়ে সময় কম লাগবে এবং প্রশাসনিক জটিলতাও কমে আসবে।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, বর্তমানে বিশ্বের অনেক দেশেই ডিজিটাল ভেরিফিকেশন ব্যবস্থা ব্যবহার করা হচ্ছে। বাংলাদেশেও ধীরে ধীরে ব্যাংকিং ও সরকারি সেবায় কিউআর কোড, অনলাইন যাচাই এবং ডিজিটাল অথেনটিকেশন ব্যবস্থার ব্যবহার বাড়ছে। এটি দেশের ডিজিটাল রূপান্তরের অংশ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য ব্যাংকগুলোকে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত অবকাঠামো প্রস্তুত করতে হবে। একই সঙ্গে তথ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ হবে। কারণ গ্রাহকের আর্থিক তথ্য অনলাইনে যাচাইযোগ্য হলেও সেটি যেন নিরাপদভাবে সংরক্ষিত থাকে, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ভিসা আবেদন প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশি নাগরিকদের গ্রহণযোগ্যতা বাড়তে পারে। কারণ দূতাবাস বা ভিসা সেন্টার সহজেই নথির সত্যতা যাচাই করতে পারবে, যা পুরো প্রক্রিয়াকে আরও বিশ্বাসযোগ্য করে তুলবে।
তারা আরও বলছেন, ভবিষ্যতে শুধু ভিসা আবেদন নয়, ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতের অন্যান্য সেবাতেও কিউআরভিত্তিক ডিজিটাল যাচাই ব্যবস্থা আরও বিস্তৃত হতে পারে।
সূত্র: বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা ও সংশ্লিষ্ট ব্যাংকিং খাতের তথ্য।
আরও পড়ুন-জাপানে ১৬ খাতে কর্মী নিচ্ছে বাংলাদেশ থেকে ৩ লাখের বেশি জনশক্তির বড় সুযোগ
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।










