বাংলাদেশে বিদ্যুতের চাহিদা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। গ্রামাঞ্চলে নতুন বাড়ি, দোকান, কৃষিখামার কিংবা ছোট ব্যবসা প্রতিষ্ঠা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুৎ সংযোগের প্রয়োজনীয়তাও বেড়েছে কয়েকগুণ। একসময় নতুন বিদ্যুৎ সংযোগ পেতে পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে বারবার যাওয়া, দীর্ঘ লাইনে দাঁড়ানো এবং নানা ঝামেলার মুখোমুখি হতে হতো সাধারণ মানুষকে। তবে ডিজিটাল সেবার সম্প্রসারণের ফলে এখন সেই চিত্র অনেকটাই বদলে গেছে।
বর্তমানে দেশের বেশিরভাগ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে নতুন সংযোগের আবেদন গ্রহণ করছে। ফলে ঘরে বসেই খুব সহজে আবেদন করা সম্ভব হচ্ছে। এতে সময়, খরচ ও ভোগান্তি—সবই কমেছে।
আরও পড়ুন-প্রিপেইড মিটারে ডিমান্ড চার্জ ও মিটার ভাড়া বাতিল হতে পারে জানুন বিস্তারিত
অনলাইনে আবেদন করার আগে কিছু প্রয়োজনীয় তথ্য ও কাগজপত্র প্রস্তুত রাখা জরুরি। আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয়পত্র, একটি সাম্প্রতিক ছবি, জমির মালিকানার প্রমাণপত্র এবং সঠিক ঠিকানাসহ ব্যক্তিগত তথ্য আগে থেকে প্রস্তুত থাকলে পুরো আবেদন প্রক্রিয়া ১০ থেকে ১৫ মিনিটের মধ্যেই সম্পন্ন করা যায়। অনেক ক্ষেত্রে পূর্বের বিদ্যুৎ বিল বা সংযোগ থাকলে তার তথ্যও দিতে হতে পারে।
আবেদন শুরু করতে হলে সংশ্লিষ্ট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ওয়েবসাইট বা নির্ধারিত ডিজিটাল সেবা পোর্টালে প্রবেশ করতে হয়। সেখানে নতুন ব্যবহারকারীদের জন্য প্রথমে একটি অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে হয়। নাম, মোবাইল নম্বর, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর ও ঠিকানা দিয়ে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করার পর মোবাইলে পাওয়া ওটিপি দিয়ে অ্যাকাউন্ট সক্রিয় করা যায়। এরপর লগইন করে “নতুন সংযোগ আবেদন” অপশন থেকে মূল আবেদন প্রক্রিয়া শুরু করতে হয়।
ফর্ম পূরণের সময় সংযোগের ধরন নির্বাচন করতে হয়—যেমন বাসাবাড়ি, বাণিজ্যিক, কৃষি বা শিল্প। এরপর নির্ভুলভাবে স্থাপনার ঠিকানা দিতে হয়। মালিকানা সংক্রান্ত তথ্য যুক্ত করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আপলোড করতে হয়। বিদ্যুতের প্রয়োজনীয় লোডও নির্বাচন করতে হয়, যা সাধারণত বাসাবাড়ির ক্ষেত্রে ১ থেকে ৩ কিলোওয়াট হয়ে থাকে।
সব তথ্য সঠিকভাবে পূরণ করার পর অনলাইনে আবেদন জমা দিতে হয়। এরপর আবেদনকারীর কাছ থেকে একটি নির্দিষ্ট সমীক্ষা ফি নেওয়া হয়, যা সাধারণত ৩৯০ থেকে ৪৫০ টাকার মধ্যে হয়ে থাকে। এই ফি অনলাইনেই বিকাশ, নগদ বা অন্যান্য ডিজিটাল মাধ্যমে পরিশোধ করা যায়।
আবেদন জমা দেওয়ার পর কয়েক দিনের মধ্যে পল্লী বিদ্যুতের টেকনিক্যাল টিম সরেজমিনে পরিদর্শনে যায়। তারা দেখে জায়গাটি সংযোগের উপযোগী কিনা, পোল থেকে দূরত্ব কত, তারের প্রয়োজন কতটুকু এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঠিক আছে কিনা। এই পরিদর্শনের ওপর ভিত্তি করে আবেদন অনুমোদন বা সংশোধনের নির্দেশ দেওয়া হয়।
সমীক্ষা সন্তোষজনক হলে কর্তৃপক্ষ থেকে একটি অনুমোদনপত্র জারি করা হয়, যাকে কাস্টমার মিটার অর্ডার বা সিএমও বলা হয়। এটি ইস্যু হওয়ার অর্থ হলো আবেদনটি অনুমোদিত হয়েছে এবং সংযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
এরপর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে লাইনম্যান এসে মিটার স্থাপন করে দেন। সার্ভিস তার সংযোগ, মিটার ইনস্টলেশন এবং টেস্টিং সম্পন্ন হওয়ার পর সংযোগ চালু করা হয়। পুরো প্রক্রিয়াটি সাধারণত ৩০ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টার মধ্যেই শেষ হয়ে যায়।
সংযোগ সক্রিয় হওয়ার পর আবেদনকারী একটি এসএমএস পান, যেখানে মিটার নম্বর, গ্রাহক আইডি এবং সংযোগের তারিখ উল্লেখ থাকে। এরপর থেকে নিয়মিত বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করা যায়।
পুরো প্রক্রিয়াটি সাধারণত ৭ থেকে ১৪ দিনের মধ্যে সম্পন্ন হয়, যদিও কিছু ক্ষেত্রে সময় বেশি লাগতে পারে। তবে সঠিক তথ্য প্রদান ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ঠিকভাবে জমা দিলে দ্রুত সংযোগ পাওয়া সম্ভব।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পল্লী বিদ্যুতের এই অনলাইন আবেদন ব্যবস্থা গ্রামীণ জনগণের জন্য একটি বড় সুবিধা। এতে করে সেবার স্বচ্ছতা ও গতি দুটোই বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে দুর্নীতি ও দালাল নির্ভরতা কমে এসেছে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, এখন নতুন বিদ্যুৎ সংযোগ নেওয়া আগের তুলনায় অনেক সহজ, দ্রুত এবং ঝামেলামুক্ত। সঠিকভাবে আবেদন করলে অল্প সময়েই নিজের বাড়ি বা প্রতিষ্ঠানে বিদ্যুতের আলো জ্বালানো সম্ভব।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
আরও পড়ুন-পল্লী বিদ্যুতের মিটার স্থানান্তরের নিয়ম ধাপে ধাপে সম্পূর্ণ আবেদন প্রক্রিয়া(আপডেট)
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔










