আমাদের Telegram চ্যানেলে যুক্ত হোন

মেটার স্মার্ট চশমা বিতর্কে ১১০৮ কর্মী ছাঁটাই, প্রাইভেসি লঙ্ঘনের অভিযোগে তোলপাড়

May 1, 2026 8:53 PM
মেটার স্মার্ট চশমা বিতর্কে ১১০৮ কর্মী ছাঁটাই, প্রাইভেসি লঙ্ঘনের অভিযোগে তোলপাড়

প্রযুক্তি জায়ান্ট মেটাকে ঘিরে নতুন করে বিতর্কের ঝড় উঠেছে। প্রাইভেসি লঙ্ঘন এবং কর্মীদের প্রতি প্রতিহিংসামূলক আচরণের অভিযোগ সামনে আসার পর আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রশিক্ষণের কাজে নিয়োজিত কর্মীদের দিয়ে ‘আপত্তিকর ও ব্যক্তিগত’ ভিডিও দেখানোর অভিযোগ বিষয়টিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে।

আরও পড়ুন-৮ সেপ্টেম্বর থেকে হোয়াটসঅ্যাপ বন্ধ হচ্ছে যেসব ফোনে

বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কেনিয়াভিত্তিক এআই প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান Sama-এর এক হাজারের বেশি কর্মী এই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন। প্রতিষ্ঠানটির কর্মীরা দাবি করেছেন, তাদেরকে কাজের অংশ হিসেবে এমন কিছু ভিডিও দেখতে বাধ্য করা হয়েছে, যা ব্যক্তিগত ও আপত্তিকর।

অভিযোগ অনুযায়ী, এই ভিডিওগুলো ধারণ করা হয়েছিল মেটার স্মার্ট চশমা ব্যবহার করে। প্রযুক্তি কোম্পানি Meta-এর তৈরি এই ডিভাইসের মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন মুহূর্ত রেকর্ড করা হয়, যা পরবর্তীতে এআই প্রশিক্ষণের জন্য ব্যবহার করা হয়।

কেনিয়ার কর্মীরা জানিয়েছেন, তারা এমন ভিডিও দেখেছেন যেখানে ব্যক্তিগত মুহূর্ত, এমনকি টয়লেট ব্যবহার বা ঘনিষ্ঠ আচরণের দৃশ্যও ছিল। গত ফেব্রুয়ারিতে বিষয়টি প্রথম সামনে আসে, যখন সামার কর্মীরা সুইডেনের দুটি গণমাধ্যমে এ নিয়ে কথা বলেন। এতে করে কর্মপরিবেশ ও নৈতিকতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন ওঠে।

ঘটনার দুই মাসেরও কম সময়ের মধ্যে সামার সঙ্গে চুক্তি বাতিল করে মেটা। এর ফলে প্রতিষ্ঠানটির ১ হাজার ১০৮ জন কর্মী চাকরি হারানোর ঝুঁকিতে পড়েছেন। সামা জানিয়েছে, এই সিদ্ধান্ত সরাসরি তাদের কর্মীদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

তবে মেটার পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, সামা তাদের নির্ধারিত মান বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছে। এক বিবৃতিতে কোম্পানিটি জানায়, “আমাদের মানদণ্ড পূরণ না হওয়ায় আমরা তাদের সঙ্গে কাজ বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”

অন্যদিকে, সামা এই অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। প্রতিষ্ঠানটি বলছে, তারা সব সময় তাদের ক্লায়েন্টদের জন্য নির্ধারিত অপারেশনাল, নিরাপত্তা ও মানদণ্ড যথাযথভাবে অনুসরণ করেছে। তাদের দাবি, কখনোই তাদেরকে জানানো হয়নি যে তারা মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থ।

এদিকে কেনিয়ার একটি শ্রমিক সংগঠন ভিন্ন অভিযোগ তুলেছে। তাদের দাবি, কর্মীরা আপত্তিকর কনটেন্ট দেখার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় এবং বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশ করায় মেটা প্রতিশোধমূলকভাবে এই চুক্তি বাতিল করেছে।

পুরো ঘটনায় মেটার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও নির্দিষ্ট অভিযোগের বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেনি প্রতিষ্ঠানটি। এতে করে বিতর্ক আরও ঘনীভূত হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এআই প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে ডেটা সংগ্রহ ও ব্যবহারের নৈতিকতা এখন বড় একটি প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। ব্যক্তিগত তথ্য ও ভিডিও ব্যবহারের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত না করা হলে ভবিষ্যতে আরও বড় সংকট তৈরি হতে পারে।

সবশেষে বলা যায়, প্রযুক্তির উন্নয়ন যেমন নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিচ্ছে, তেমনি এর অপব্যবহার বা অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার গুরুতর মানবিক ও নৈতিক সমস্যার জন্ম দিচ্ছে। মেটা ও সামাকে ঘিরে এই বিতর্ক সেই বাস্তবতাকেই সামনে এনে দিয়েছে।

আরও পড়ুন-ভারতে গুগলের ১৫ বিলিয়ন ডলারের এআই হাব নির্মাণ শুরু

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।

✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔

📌 পোস্টটি শেয়ার করুন! 🔥

MD RIFAT SARKER

আসসালামু আলাইকুম, আমি মোঃ রিফাত সরকার। এই ওয়েবসাইটে আমি নিয়মিত বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করি এবং দরকারি তথ্য শেয়ার করার চেষ্টা করি। বিশেষ দ্রষ্টব্য: লেখায় যদি কোনো ভুল থাকে, দয়া করে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। ধন্যবাদ।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now