দেশের ৯৯ শতাংশ মানুষ এখন ফোর-জি নেটওয়ার্কে

প্রকাশিত: 18-05-2026 2:39 AM
দেশের ৯৯ শতাংশ মানুষ এখন ফোর-জি নেটওয়ার্কে

দেশের ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়নে আরেকটি বড় অগ্রগতির তথ্য সামনে এসেছে। বর্তমানে বাংলাদেশের প্রায় ৯৯ শতাংশ জনগোষ্ঠী ফোর-জি বা ৪জি মোবাইল নেটওয়ার্কের আওতায় এসেছে বলে জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। সরকারের ধারাবাহিক উদ্যোগে দেশের তথ্যপ্রযুক্তি ও টেলিযোগাযোগ খাতে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আরও পড়ুনঃ- নেটওয়ার্ক সমস্যার সমাধানে বিটিআরসির নতুন উদ্যোগ

রোববার (১৭ মে) বিশ্ব টেলিযোগাযোগ ও তথ্য সংঘ দিবস উপলক্ষে রাজধানীর বিটিআরসি ভবনে আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে দেশের ডিজিটাল অগ্রগতি, প্রযুক্তি খাতের সম্ভাবনা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করা হয়।

মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতকে শুধু একটি সেবা খাত হিসেবে দেখছে না, বরং দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় সক্ষমতা অর্জনের অন্যতম প্রধান মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করছে। প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তুলতে সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, দেশে এখন মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ১৮ দশমিক ৮৪ কোটি। পাশাপাশি ইন্টারনেট গ্রাহক সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৩ দশমিক ৩৬ কোটিতে। স্মার্টফোনের সহজলভ্যতা, সাশ্রয়ী ইন্টারনেট প্যাকেজ এবং ডিজিটাল সেবার বিস্তারের কারণে গত কয়েক বছরে ইন্টারনেট ব্যবহারে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে বলে মত দেন সংশ্লিষ্টরা।

অনুষ্ঠানে ফকির মাহবুব আনাম বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই, সাইবার নিরাপত্তা, ডেটা সেন্টার, সেমিকন্ডাক্টর, হার্ডওয়্যার শিল্প এবং স্টার্টআপ খাতে বাংলাদেশকে শক্তিশালী অবস্থানে নিতে কাজ করছে সরকার। শুধু প্রযুক্তি ব্যবহারকারী নয়, ভবিষ্যতে প্রযুক্তি উৎপাদন ও রপ্তানিকারক দেশ হিসেবেও বাংলাদেশকে প্রতিষ্ঠিত করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ফোর-জি নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের ফলে অনলাইন শিক্ষা, ফ্রিল্যান্সিং, ই-কমার্স, মোবাইল ব্যাংকিং এবং ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবার মতো খাতগুলোতে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বিশেষ করে গ্রামীণ অঞ্চলে ইন্টারনেটভিত্তিক সেবা সহজ হওয়ায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায়ও পরিবর্তন এসেছে।

তবে প্রযুক্তি খাতের অগ্রগতির পাশাপাশি সেবার মান উন্নয়ন, দ্রুতগতির ইন্টারনেট নিশ্চিত করা এবং গ্রাহক ভোগান্তি কমানোর দিকেও গুরুত্ব দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা। অনেক এলাকায় এখনও নেটওয়ার্ক দুর্বলতা এবং ধীরগতির ইন্টারনেট নিয়ে অভিযোগ রয়েছে। এজন্য অবকাঠামো উন্নয়ন ও বিনিয়োগ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে আসে।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব বিলকিস জাহান রিমির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব কাজী আনোয়ার হোসেন।

সেমিনারে বক্তারা বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশের ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে এখন স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার দিকে এগোচ্ছে দেশ। প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ভাবন, দক্ষ জনশক্তি তৈরি এবং ডিজিটাল সেবার বিস্তারের মাধ্যমে আগামী দিনে বাংলাদেশ আরও শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তারা।

বিশেষজ্ঞদের ধারণা, দ্রুতগতির ইন্টারনেট ও প্রযুক্তি অবকাঠামো আরও বিস্তৃত হলে দেশের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ব্যবসা ও কর্মসংস্থানে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।

সূত্র: বাসস, বিটিআরসি সেমিনার।

আরও পড়ুনঃ- রবি 5G বাংলাদেশে চালু | চট্টগ্রামে প্রথম 5G নেটওয়ার্ক ও কভারেজ চেক করার উপায়

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে– ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

📌 পোস্টটি শেয়ার করুন! 🔥

টেক রিপোর্টার

প্রযুক্তি, স্মার্টফোন, গ্যাজেট ও ডিজিটাল বিশ্বের নতুন সব খবর নিয়ে নিয়মিত লেখালেখি করি। নতুন স্মার্টফোন, দরকারি টেক টিপস, অ্যাপস, ইন্টারনেট ও অনলাইন বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ আপডেট সহজ এবং নির্ভরযোগ্যভাবে পাঠকদের কাছে তুলে ধরার চেষ্টা করি। প্রযুক্তিকে সহজ ভাষায় সবার কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমার মূল লক্ষ্য।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now