স্মার্টফোন বাজারে নতুন প্রজন্মের আইফোন নিয়ে আগ্রহ সবসময়ই তুঙ্গে থাকে। তারই ধারাবাহিকতায় আসন্ন iPhone 18 নিয়ে ইতোমধ্যে প্রযুক্তি বিশ্বে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। সর্বশেষ সাপ্লাই চেইনভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, এই সিরিজের বেস মডেলের ডিসপ্লে প্রযুক্তিতে কিছুটা পরিবর্তন আসতে পারে, যা অনেকের কাছে ‘ডাউনগ্রেড’ হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।
আরও পড়ুনঃভিভো এক্স৩০০ এফই লঞ্চঃ ৫০MP ক্যামেরা ও ৬৫০০mAh ব্যাটারি চমক
প্রকাশিত তথ্যে জানা যায়, iPhone 18-এর স্ট্যান্ডার্ড বা বেস মডেলে Samsung-এর M12+ OLED ডিসপ্লে ম্যাটেরিয়াল ব্যবহার করা হতে পারে। এই প্রযুক্তি সম্পূর্ণ নতুন নয়; বরং এটি আগে Samsung Galaxy S23 Ultra এবং iPhone 14 Pro-এর মতো ডিভাইসে ব্যবহৃত হয়েছে। যদিও এটি একটি উন্নতমানের ডিসপ্লে, তবে বর্তমান সময়ের তুলনায় এটি আর সর্বাধুনিক প্রযুক্তি হিসেবে বিবেচিত নয়।
অন্যদিকে, একই সিরিজের Pro মডেলগুলোতে আরও উন্নত Samsung M16 OLED ম্যাটেরিয়াল ব্যবহারের সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে বেস ও Pro মডেলের মধ্যে ডিসপ্লে প্রযুক্তির দিক থেকে একটি উল্লেখযোগ্য পার্থক্য তৈরি হতে পারে। প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, এই পার্থক্য মূলত দৃশ্যমান মানের চেয়ে বেশি প্রভাব ফেলবে পাওয়ার দক্ষতার ওপর।
OLED ডিসপ্লের ক্ষেত্রে নতুন প্রজন্মের ম্যাটেরিয়ালগুলো কম বিদ্যুৎ খরচে বেশি ব্রাইটনেস দিতে সক্ষম। এর ফলে ব্যাটারির ওপর চাপ কম পড়ে এবং ডিভাইসের সার্বিক পারফরম্যান্স উন্নত হয়। কিন্তু পুরোনো প্রযুক্তির ডিসপ্লে তুলনামূলক বেশি শক্তি ব্যবহার করে। তাই iPhone 18-এর বেস মডেলে যদি সত্যিই M12+ ডিসপ্লে ব্যবহার করা হয়, তাহলে ব্যাটারি পারফরম্যান্সে কিছুটা প্রভাব পড়তে পারে।
এদিকে, iPhone 18-এ Apple-এর নতুন প্রজন্মের A20 চিপ ব্যবহারের কথা শোনা যাচ্ছে, যা 2nm প্রযুক্তিতে তৈরি হতে পারে এবং শক্তি সাশ্রয়ে উল্লেখযোগ্য উন্নতি আনবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ডিসপ্লে যদি তুলনামূলক কম দক্ষ হয়, তাহলে এই চিপের পাওয়ার সেভিং সুবিধা পুরোপুরি কাজে নাও লাগতে পারে। ফলে ব্যবহারকারীরা প্রত্যাশিত ব্যাটারি ব্যাকআপ নাও পেতে পারেন।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, Apple চাইলে এই সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে বড় ব্যাটারি বা সফটওয়্যার অপ্টিমাইজেশনের মাধ্যমে সমাধান দিতে পারে। তবে সেটি মূল সমস্যার স্থায়ী সমাধান নয়, বরং একটি সমন্বয়মূলক পদক্ষেপ হিসেবেই বিবেচিত হবে।
এই সম্ভাব্য পরিবর্তন আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে নিয়ে এসেছে—Apple কি ইচ্ছাকৃতভাবে বেস ও Pro মডেলের মধ্যে ব্যবধান আরও বাড়াচ্ছে? গত কয়েক বছরে দেখা গেছে, কোম্পানিটি ধীরে ধীরে Pro মডেলকে বেশি ফিচারসমৃদ্ধ করছে। যদি ডিসপ্লের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদানেও পার্থক্য তৈরি হয়, তাহলে ভবিষ্যতে এই বিভাজন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠতে পারে।
তবে সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য এই পরিবর্তন খুব বড় কোনো সমস্যা নাও হতে পারে, কারণ দৈনন্দিন ব্যবহারে ডিসপ্লের সূক্ষ্ম পার্থক্য সবসময় চোখে পড়ে না। কিন্তু যারা দীর্ঘ সময় ভিডিও দেখা, গেমিং বা কনটেন্ট ক্রিয়েশন করেন, তারা এই পার্থক্য অনুভব করতে পারেন।
সব মিলিয়ে, iPhone 18 নিয়ে এই তথ্যগুলো এখনো নিশ্চিত নয়, বরং বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া প্রাথমিক ইঙ্গিত মাত্র। Apple আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত বিষয়টি গুঞ্জন হিসেবেই বিবেচিত থাকবে। তবে যদি এই তথ্য সত্যি হয়, তাহলে এটি Apple-এর পণ্যের কৌশলে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করবে।
সূত্র: আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি বিশ্লেষণ ও সাপ্লাই চেইন রিপোর্ট।
আরও পড়ুন- অ্যাপলের iOS 27 আপডেটে ডিভাইস সংযোগে আসছে বড় পরিবর্তন
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔







