দেশের কোটি কোটি প্রিপেইড বিদ্যুৎ গ্রাহকের জন্য স্বস্তির খবর আসতে পারে খুব শিগগিরই। দীর্ঘদিন ধরে ভোক্তাদের অভিযোগ ছিল—বিদ্যুৎ ব্যবহারের বাইরে অতিরিক্ত নানা চার্জ দিতে হচ্ছে। বিশেষ করে ডিমান্ড চার্জ ও মিটার ভাড়া নিয়ে অসন্তোষ ছিল সবচেয়ে বেশি। এবার সেই দুই ধরনের চার্জ বাতিলের বিষয়টি সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছে সরকার, যা বাস্তবায়িত হলে গ্রাহকদের মাসিক খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বর্তমানে বাংলাদেশে প্রিপেইড বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় প্রতি কিলোওয়াট (kW) লোডের বিপরীতে মাসিক ডিমান্ড চার্জ আদায় করা হয়। এই চার্জ সাধারণত ৩৫ থেকে ৪২ টাকার মধ্যে থাকে, যদিও অনেক ক্ষেত্রে এটি ৪৫ টাকাও নির্ধারিত হতে পারে। অর্থাৎ, গ্রাহক যত ইউনিট বিদ্যুৎই ব্যবহার করুন না কেন, তার সংযোগে নির্ধারিত লোডের ওপর ভিত্তি করে এই নির্দিষ্ট চার্জ দিতে হয়।
আরও পড়ুন-অনলাইনে পুরাতন বিদ্যুৎ মিটার পরিবর্তনের আবেদন করার নিয়ম(মাত্র ২৭৬ টাকা)
এছাড়া রয়েছে মিটার ভাড়া। সিঙ্গেল ফেজ প্রিপেইড মিটারের ক্ষেত্রে মাসে প্রায় ৪০ টাকা করে ভাড়া কেটে নেওয়া হয়। অনেক গ্রাহকের অভিযোগ, তারা নিজের অর্থে মিটার স্থাপন করলেও নিয়মিত এই ভাড়া দিতে হচ্ছে, যা তাদের জন্য বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি করছে।
শুধু এখানেই শেষ নয়, এসব চার্জের ওপর আবার ৫ শতাংশ হারে ভ্যাটও যুক্ত হয়। ফলে মাস শেষে গ্রাহকদের মোট ব্যয় আরও বেড়ে যায়। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষদের জন্য এই অতিরিক্ত খরচ একটি বড় বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্রিপেইড মিটারের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—এই চার্জগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে কেটে নেওয়া হয়। সাধারণত প্রতি মাসের প্রথম রিচার্জ থেকেই ডিমান্ড চার্জ ও মিটার ভাড়া কেটে নেওয়া হয়। আর যদি কোনো মাসে রিচার্জ না করা হয়, তাহলে পরবর্তী রিচার্জের সময় আগের সব বকেয়া একসঙ্গে কেটে নেওয়া হয়। ফলে অনেক সময় হঠাৎ করেই বড় অঙ্কের টাকা কেটে যাওয়ায় গ্রাহকরা বিভ্রান্ত হয়ে পড়েন।
এই প্রেক্ষাপটে সরকার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। বিশেষ করে বিদ্যুতের ক্রমবর্ধমান ব্যয় এবং সাধারণ মানুষের ওপর আর্থিক চাপ কমানোর লক্ষ্যে ডিমান্ড চার্জ ও মিটার ভাড়া বাতিলের পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি এই দুই ধরনের চার্জ বাতিল করা হয়, তাহলে গ্রাহকদের মাসিক বিদ্যুৎ বিল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে। এতে করে বিদ্যুৎ ব্যবহারে স্বচ্ছতা বাড়বে এবং গ্রাহকের মধ্যে আস্থাও বৃদ্ধি পাবে।
তবে তারা এটাও মনে করছেন, এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিগুলোর আর্থিক কাঠামো ও পরিচালন ব্যয় বিবেচনায় নিতে হবে। কারণ এই চার্জগুলো অনেক ক্ষেত্রে সংস্থাগুলোর পরিচালন ব্যয়ের একটি অংশ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
এদিকে ভোক্তা অধিকার সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরেই এই চার্জ বাতিলের দাবি জানিয়ে আসছিল। তাদের মতে, বিদ্যুৎ ব্যবহারের বাইরে অতিরিক্ত কোনো চার্জ আদায় করা উচিত নয়। গ্রাহক যত ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহার করবেন, তার ভিত্তিতেই বিল নির্ধারণ হওয়া উচিত।
সব মিলিয়ে, প্রিপেইড বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় ডিমান্ড চার্জ ও মিটার ভাড়া বাতিলের সম্ভাবনা গ্রাহকদের জন্য একটি বড় স্বস্তির খবর হয়ে উঠেছে। এখন সবার নজর সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে—যা বাস্তবায়িত হলে দেশের কোটি গ্রাহকের মাসিক ব্যয়ে ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
আরও পড়ুন-পল্লী বিদ্যুতের মিটার স্থানান্তরের নিয়ম ধাপে ধাপে সম্পূর্ণ আবেদন প্রক্রিয়া(আপডেট)
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔










