জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে অনুষ্ঠিত ২০২২ সালের প্রিলিমিনারি (মাস্টার্স) পরীক্ষায় নকলের অভিযোগে দেশজুড়ে ৮৩ শিক্ষার্থীকে শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি শাস্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী রয়েছে কুমিল্লার ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ থেকে—সংখ্যা ২৫ জন। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর শিক্ষাঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে।
আরও পড়ুন-জ্বালানি সংকটে স্কুলে ইলেকট্রিক বাস চালু অফিস সময় ৯টা–৪টা
বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. এনামুল করিম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়। এতে জানানো হয়, বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে প্রাপ্ত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শেষে এই শাস্তিমূলক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা শৃঙ্খলা কমিটির এক বৈঠকে দেশের বিভিন্ন কলেজ ও পরীক্ষাকেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, পর্যবেক্ষক এবং পরীক্ষকদের দেওয়া প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করা হয়। অভিযোগের সত্যতা যাচাই শেষে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, অধিকাংশ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে ‘ঘ’ ধারায় শাস্তি আরোপ করা হয়েছে। এর ফলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাবর্ষের পরীক্ষা সম্পূর্ণভাবে বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া কয়েকজন শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে শুধু পরীক্ষা বাতিলেই সীমাবদ্ধ রাখা হয়নি; বরং তাদের পরবর্তী এক বছর পরীক্ষায় অংশগ্রহণের ওপরও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
শাস্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের তালিকায় বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা রয়েছেন। রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে রয়েছেন ঝুমা আক্তার, আফরিন আক্তার, চয়ন সাহা, আছমা আক্তার, রাব্বি মিয়া এবং ওমর ফারুক।
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ থেকে মো. আশরাফ, শান্তা আক্তার, নিপা আক্তার ও ফাতেমা আক্তার শাস্তির মুখে পড়েছেন। এছাড়া সমাজবিজ্ঞান বিভাগের মৌসুমী আক্তার, সমাজকর্ম বিভাগের উম্মে হানি এবং অর্থনীতি বিভাগের প্রিয়াংকা দাসও একই তালিকায় রয়েছেন।
ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের সাফা মারওয়া তাহেরা এবং ব্যবস্থাপনা বিভাগের রেহেনা আক্তারকেও শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে। বিজ্ঞান অনুষদের মধ্যে রসায়ন বিভাগের মারুফা আক্তার, আব্দুল হালিম খান, মুক্তা আক্তার ও মোশারফ হোসেন শাস্তিপ্রাপ্ত হয়েছেন।
এছাড়া উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের সানজিদা আক্তার, দিপঙ্কর পাল ঐক্য ও ফাতেমা আক্তার; প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সুরাইয়া আক্তার ও লাইলি বেগম এবং গণিত বিভাগের মো. ফয়জুল্লাহর নামও তালিকায় রয়েছে।
এ বিষয়ে কলেজটির শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক গাজী মুহাম্মদ গোলাম সোহরাব হাসান বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত নীতিমালা অনুযায়ী যারা অসদুপায় অবলম্বন করেছে, তাদের বিরুদ্ধেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এতে পরীক্ষার স্বচ্ছতা ও মান বজায় রাখা সম্ভব হবে।
শিক্ষাবিদরা মনে করছেন, এ ধরনের কঠোর পদক্ষেপ ভবিষ্যতে পরীক্ষায় নকল প্রবণতা কমাতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের মধ্যে শৃঙ্খলা ও নৈতিকতার চর্চা বাড়ানোর ক্ষেত্রেও এটি ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
সব মিলিয়ে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের এই সিদ্ধান্ত একদিকে যেমন শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার বার্তা দিচ্ছে, অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের জন্য সতর্কবার্তাও হিসেবে কাজ করছে—পরীক্ষায় অনিয়মের কোনো সুযোগ নেই।
আরও পড়ুন-বাদ পড়া শিক্ষার্থীদের জন্য শেষ সুযোগ রেজিস্ট্রেশনের সময় বাড়াল মাদ্রাসা বোর্ড
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
আরও পড়ুন-প্রথমে কোন কোন আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে ফ্রি ওয়াইফাই চালুর নির্দেশ দিলেন প্রধানমন্ত্রী?
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔





