বিদেশ ভ্রমণ, উচ্চশিক্ষা, চিকিৎসা কিংবা কর্মসংস্থানের জন্য পাসপোর্ট এখন অপরিহার্য একটি নথি। বাংলাদেশে বর্তমানে সম্পূর্ণ ডিজিটাল ব্যবস্থায় চালু হয়েছে ই-পাসপোর্ট, যা আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন এবং আধুনিক নিরাপত্তা প্রযুক্তিতে তৈরি। অনেকেই পাসপোর্ট করতে গিয়ে একটি সাধারণ প্রশ্ন করেন—৪৮ পৃষ্ঠা ও ৬৪ পৃষ্ঠার পাসপোর্টের মধ্যে পার্থক্য কী এবং কোনটি নেওয়া উচিত।
আরও পড়ুন-১০ বছর মেয়াদি ই-পাসপোর্ট করতে কি কি লাগে?
বাংলাদেশে ই-পাসপোর্ট ইস্যু করে ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর। তাদের অধীনে বর্তমানে দুই ধরনের পাসপোর্ট পাওয়া যায়—৪৮ পৃষ্ঠার (স্ট্যান্ডার্ড) এবং ৬৪ পৃষ্ঠার (এক্সটেন্ডেড) সংস্করণ। এখানে “পৃষ্ঠা” বলতে বোঝানো হয় ভিসা ও ইমিগ্রেশন সিল দেওয়ার জন্য ব্যবহৃত পৃষ্ঠাগুলোকে।
৪৮ পৃষ্ঠার পাসপোর্ট মূলত সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য উপযোগী। এতে মোট ৪৮টি পৃষ্ঠা থাকে, যেখানে সীমিত সংখ্যক ভিসা ও স্ট্যাম্প রাখা যায়। যারা বছরে এক বা দুইবার বিদেশে যান—যেমন পর্যটন, চিকিৎসা বা পড়াশোনার জন্য—তাদের জন্য এটি যথেষ্ট। এই পাসপোর্টের একটি বড় সুবিধা হলো এটি তুলনামূলক কম খরচে পাওয়া যায় এবং প্রসেসিং সময়ও দ্রুত।
অন্যদিকে ৬৪ পৃষ্ঠার পাসপোর্টে অতিরিক্ত ১৬টি পৃষ্ঠা যুক্ত থাকে। ফলে এতে অনেক বেশি ভিসা ও ইমিগ্রেশন স্ট্যাম্প সংরক্ষণ করা যায়। যারা নিয়মিত বিদেশ ভ্রমণ করেন—যেমন ব্যবসায়ী, প্রবাসী কর্মী, আন্তর্জাতিক সংস্থায় কর্মরত ব্যক্তি বা সরকারি কর্মকর্তা—তাদের জন্য এটি বেশি সুবিধাজনক। এতে বারবার পাসপোর্ট নবায়নের ঝামেলা কমে যায়।
দুটি পাসপোর্টের মূল পার্থক্য পৃষ্ঠার সংখ্যা হলেও মেয়াদ ও বৈধতার ক্ষেত্রে কোনো পার্থক্য নেই। উভয় ধরনের পাসপোর্টই ৫ বছর বা ১০ বছরের জন্য ইস্যু করা হয় এবং আন্তর্জাতিকভাবে সমানভাবে গ্রহণযোগ্য।
ফি-এর ক্ষেত্রেও কিছু পার্থক্য রয়েছে। সাধারণ ডেলিভারিতে ৫ বছর মেয়াদি ৪৮ পৃষ্ঠার পাসপোর্ট করতে খরচ হয় প্রায় ৪,০২৫ টাকা, যেখানে ৬৪ পৃষ্ঠার জন্য খরচ পড়ে ৬,৩২৫ টাকা। একইভাবে ১০ বছর মেয়াদে ৪৮ পৃষ্ঠার জন্য ৫,৭৫০ টাকা এবং ৬৪ পৃষ্ঠার জন্য ৮,০৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এক্সপ্রেস সার্ভিসে এই খরচ আরও কিছুটা বেশি হয়।
পাসপোর্ট নির্বাচন করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আপনার ভ্রমণের প্রয়োজন। আপনি যদি বছরে এক বা দুইবার বিদেশ যান, তাহলে ৪৮ পৃষ্ঠার পাসপোর্টই যথেষ্ট। কিন্তু যদি নিয়মিত ভ্রমণ করেন বা আপনার পেশাগত কারণে বারবার বিদেশ যেতে হয়, তাহলে ৬৪ পৃষ্ঠার পাসপোর্ট নেওয়াই বেশি সুবিধাজনক।
উভয় ধরনের ই-পাসপোর্টেই আধুনিক প্রযুক্তির সুবিধা রয়েছে। এতে বায়োমেট্রিক তথ্য যেমন আঙুলের ছাপ ও মুখের পরিচিতি সংরক্ষণ করা হয়। পাশাপাশি একটি ইলেকট্রনিক চিপ থাকে, যা আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন সিস্টেমে দ্রুত স্ক্যান করা যায়। ফলে বিমানবন্দরে সময় কম লাগে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পাসপোর্টের পৃষ্ঠা সংখ্যা বাড়ালে মেয়াদ বাড়ে না—এটি অনেকের ভুল ধারণা। পৃষ্ঠার সংখ্যা শুধু ভিসা রাখার জায়গা বাড়ায়। তাই প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক পাসপোর্ট নির্বাচন করা গুরুত্বপূর্ণ।
এছাড়া চাইলে পরবর্তীতে নতুন আবেদন করার সময় ৪৮ পৃষ্ঠা থেকে ৬৪ পৃষ্ঠার পাসপোর্টে আপগ্রেড করা সম্ভব। তবে শুরুতেই নিজের প্রয়োজন বুঝে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে সময় ও খরচ দুইই বাঁচানো যায়।
সব মিলিয়ে বলা যায়, ৪৮ ও ৬৪ পৃষ্ঠার পাসপোর্ট—দুটিই সমানভাবে বৈধ ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন। পার্থক্য শুধু ব্যবহারের ধরন ও সুবিধার জায়গায়। সচেতনভাবে সঠিক পাসপোর্ট নির্বাচন করতে পারলে দীর্ঘ সময় নিশ্চিন্তে বিদেশ ভ্রমণ করা সম্ভব।
সূত্র: ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর, ই-পাসপোর্ট সেবা তথ্য ও সরকারি নির্দেশনা।
আরও পড়ুন-পাসপোর্ট করতে কত টাকা লাগে?সর্বশেষ ফি কত?
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔










