বাংলাদেশে মোবাইল ফোন টাওয়ারের রেডিয়েশন মানুষের স্বাস্থ্য ও পরিবেশের ওপর কোনো ঝুঁকি তৈরি করছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনকে (বিটিআরসি) নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। আদালত ছয় মাসের মধ্যে এ বিষয়ে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) দিয়ে গবেষণা সম্পন্ন করার নির্দেশনা দিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
আরও পড়ুন-স্মার্টফোনই এখন পেমেন্ট মেশিন এমটিবির ‘মুঠো পে’ প্রযুক্তিতে নতুন যুগ
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশে মোবাইল নেটওয়ার্কের বিস্তার এবং টাওয়ারের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরেই রেডিয়েশন নিয়ে জনমনে নানা ধরনের উদ্বেগ ও আলোচনা রয়েছে। বিশেষ করে আবাসিক এলাকায় মোবাইল টাওয়ার স্থাপনকে কেন্দ্র করে অনেক সময় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে স্বাস্থ্যঝুঁকির আশঙ্কা দেখা যায়।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সালে দায়ের করা একটি রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট এই নির্দেশনা দিয়েছেন। আদালত বিটিআরসিকে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করে বৈজ্ঞানিক গবেষণার মাধ্যমে বাস্তব চিত্র তুলে ধরতে বলেছেন।
প্রযুক্তি ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, মোবাইল টাওয়ার থেকে নির্গত ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক রেডিয়েশন নিয়ে বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন সময়ে গবেষণা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনও আন্তর্জাতিকভাবে ভিন্নমত রয়েছে। কিছু গবেষণায় দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকির আশঙ্কা প্রকাশ করা হলেও, অনেক আন্তর্জাতিক সংস্থা নির্ধারিত সীমার মধ্যে থাকা রেডিয়েশনকে তুলনামূলক নিরাপদ বলেও উল্লেখ করেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশে দ্রুত 4G এবং ভবিষ্যতের 5G নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের কারণে মোবাইল টাওয়ারের সংখ্যা বাড়ছে। ফলে এই প্রযুক্তির স্বাস্থ্যগত প্রভাব নিয়ে বৈজ্ঞানিক ও নিরপেক্ষ গবেষণা এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বুয়েটের মতো প্রযুক্তি ও গবেষণাভিত্তিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে গবেষণা পরিচালিত হলে বিষয়টি নিয়ে মানুষের মধ্যে স্পষ্ট ধারণা তৈরি হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে টাওয়ার স্থাপন, নিরাপত্তা মান এবং নীতিমালা তৈরিতেও এই গবেষণার ফল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
টেলিযোগাযোগ খাত বিশ্লেষকদের মতে, আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থার জন্য মোবাইল নেটওয়ার্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে ইন্টারনেট ব্যবহার, অনলাইন শিক্ষা, মোবাইল ব্যাংকিং, ডিজিটাল সেবা এবং স্মার্ট ডিভাইস ব্যবহারের বড় অংশই মোবাইল নেটওয়ার্কনির্ভর। তাই প্রযুক্তির সুবিধা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকিও পর্যবেক্ষণে রাখা প্রয়োজন।
তারা আরও বলছেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মোবাইল টাওয়ার স্থাপনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নিরাপত্তা নীতিমালা ও আন্তর্জাতিক মান অনুসরণ করা হয়। বাংলাদেশেও ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী মান নিয়ন্ত্রণ ও পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা চালুর প্রয়োজন হতে পারে।
সাইবার ও টেলিকম বিশ্লেষকদের মতে, অনেক সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মোবাইল টাওয়ারের রেডিয়েশন নিয়ে অতিরঞ্জিত বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পড়ে। তাই বৈজ্ঞানিক গবেষণালব্ধ তথ্য প্রকাশ হলে এ বিষয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা ও পরিষ্কার ধারণা তৈরি হবে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, গবেষণার মাধ্যমে যদি কোনো স্বাস্থ্য বা পরিবেশগত ঝুঁকির বিষয় উঠে আসে, তাহলে ভবিষ্যতে টাওয়ার স্থাপনের দূরত্ব, উচ্চতা, নিরাপত্তা মান এবং রেডিয়েশন নিয়ন্ত্রণে নতুন নীতিমালা তৈরি হতে পারে।
এদিকে প্রযুক্তি খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নে মোবাইল নেটওয়ার্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তাই প্রযুক্তির উন্নয়ন অব্যাহত রাখার পাশাপাশি স্বাস্থ্য ও পরিবেশ নিরাপত্তার বিষয়টিও সমান গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।
হাইকোর্টের নির্দেশনার পর এখন ছয় মাসের গবেষণায় কী ধরনের তথ্য ও ফলাফল উঠে আসে, সেদিকেই নজর থাকবে সংশ্লিষ্ট মহলের।
সূত্র: আদালত সংশ্লিষ্ট তথ্য, টেলিযোগাযোগ খাত বিশ্লেষক ও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতামত।
আরও পড়ুন-Google Pay এখন শুধুমাত্র সিটি ব্যাংকে – অনলাইনে সহজে দেশ-বিদেশে পেমেন্ট









