আমাদের Telegram চ্যানেলে যুক্ত হোন

মেগা প্রকল্প নয় ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডেই গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার

প্রকাশিত: 10-05-2026 7:10 AM
মেগা প্রকল্প নয় ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডেই গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার

নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে সামাজিক নিরাপত্তাভিত্তিক বিভিন্ন কর্মসূচিতে জোর দেওয়া হচ্ছে। বড় অবকাঠামো প্রকল্পের পরিবর্তে সাধারণ মানুষের সরাসরি উপকারে আসে—এমন উদ্যোগগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে সরকার। সেই ধারাবাহিকতায় চালু হওয়া ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডকে সরকারের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে তুলে ধরেছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

আরও পড়ুন-জ্বালানি ছাড়াই প্রতিদিন ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ, তিস্তা সোলার প্রকল্পে চমক

রবিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অনানুষ্ঠানিক খাতের উন্নয়নে পিকেএসএফ এবং বিশ্বব্যাংকের যৌথ প্রকল্প ‘রেইজ’-এর দ্বিতীয় পর্যায়ের কার্যক্রম উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সরকারি কর্মকর্তা, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকার এখন এমন প্রকল্পে গুরুত্ব দিচ্ছে, যেগুলোর সুফল সরাসরি সাধারণ মানুষের জীবনে প্রভাব ফেলে। তার ভাষায়, ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের মতো উদ্যোগের মাধ্যমে নিম্নআয়ের পরিবার এবং কৃষকদের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে, যাতে তারা অর্থনৈতিকভাবে আরও শক্তিশালী হতে পারেন।

তিনি জানান, দেশের একটি বড় জনগোষ্ঠী এখনও মূলধারার অর্থনৈতিক ব্যবস্থার বাইরে রয়েছে। সরকার সেই জনগোষ্ঠীকে অর্থনীতির মূল স্রোতে নিয়ে আসতে চায়। শুধু রাজনৈতিক গণতন্ত্র নয়, অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও সমান সুযোগ নিশ্চিত করাকে সরকার গুরুত্বপূর্ণ মনে করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

অর্থমন্ত্রী বলেন, “গণতন্ত্র শুধু ভোট বা রাজনৈতিক অংশগ্রহণের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে হবে না। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। সমাজের পিছিয়ে থাকা মানুষদের উন্নয়নের মূলধারায় যুক্ত না করতে পারলে টেকসই অর্থনৈতিক অগ্রগতি সম্ভব নয়।”

সরকারি সূত্রগুলো বলছে, ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে নিম্নআয়ের পরিবারগুলোকে বিভিন্ন ধরনের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। একইভাবে কৃষক কার্ডের আওতায় কৃষকদের জন্য ভর্তুকি, কৃষিঋণ এবং বিভিন্ন সরকারি সেবা সহজ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মাঠপর্যায়ে এই দুটি কর্মসূচির ইতিবাচক প্রভাব দেখা যাচ্ছে বলেও দাবি সংশ্লিষ্টদের।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বড় বড় অবকাঠামো প্রকল্পের তুলনায় সামাজিক নিরাপত্তাভিত্তিক কর্মসূচি সাধারণ মানুষের জীবনে দ্রুত প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে দ্রব্যমূল্যের চাপ, আয় বৈষম্য এবং কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তার সময় এ ধরনের উদ্যোগ নিম্ন ও মধ্যবিত্ত জনগোষ্ঠীর জন্য কিছুটা স্বস্তি তৈরি করতে পারে।

তবে এসব কর্মসূচির অর্থ বরাদ্দ ও বাস্তবায়ন নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা রয়েছে। কেউ কেউ প্রশ্ন তুলছেন, বড় উন্নয়ন প্রকল্প কমিয়ে সামাজিক কর্মসূচিতে বেশি ব্যয় করলে দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতিতে কী প্রভাব পড়তে পারে। এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকার যেকোনো প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে নির্দিষ্ট মানদণ্ড বিবেচনা করছে।

তিনি জানান, যেসব প্রকল্প অর্থনৈতিকভাবে কার্যকর নয় বা জনগণের জন্য প্রত্যাশিত সুফল বয়ে আনবে না, সেগুলো বাস্তবায়নে সরকার আগ্রহী নয়। বরং সীমিত সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে এমন প্রকল্পই বেছে নেওয়া হবে।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, দেশের অনানুষ্ঠানিক খাত এখনো বিশাল জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের প্রধান উৎস। এই খাতকে আরও দক্ষ ও সংগঠিত করতে পারলে জাতীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। পিকেএসএফ ও বিশ্বব্যাংকের যৌথ প্রকল্প ‘রেইজ’ সেই লক্ষ্য নিয়েই কাজ করছে বলে জানানো হয়।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমান সময়ে শুধু বড় অবকাঠামো নয়, সামাজিক সুরক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নও সমান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী করতে কৃষক ও নিম্নআয়ের মানুষের হাতে সরাসরি সহায়তা পৌঁছে দেওয়া জরুরি।

অর্থনীতিবিদদের মতে, সামাজিক নিরাপত্তাভিত্তিক কর্মসূচি কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ক্রয়ক্ষমতা বাড়বে এবং স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। তবে এসব প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও সঠিক উপকারভোগী নির্বাচন নিশ্চিত করা বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবেও দেখছেন তারা।

সরকার বলছে, ভবিষ্যতেও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সরাসরি প্রভাব ফেলে—এমন প্রকল্পকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। একই সঙ্গে উন্নয়ন কার্যক্রমে জবাবদিহি ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করতেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

সূত্র: অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্য।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

আরও পড়ুন-পল্লী বিদ্যুতের মিটার স্থানান্তরের নিয়ম ধাপে ধাপে সম্পূর্ণ আবেদন প্রক্রিয়া(আপডেট)

👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।

✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔

📌 পোস্টটি শেয়ার করুন! 🔥

স্টাফ রিপোর্টার

স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে আমি 'টেক বাংলা নিউজ' (ssitbari.com)-এ নিয়মিত বিভিন্ন তথ্যভিত্তিক ও আপডেটেড কনটেন্ট প্রকাশ করি। প্রযুক্তি, মোবাইল, গ্যাজেটসহ প্রয়োজনীয় অন্যান্য বিষয় সহজ ও বোধগম্য ভাষায় পাঠকদের কাছে তুলে ধরা আমার লক্ষ্য। নির্ভরযোগ্য তথ্য, বিশ্লেষণ ও উপকারী টিপসের মাধ্যমে পাঠকদের সঠিক দিকনির্দেশনা দেওয়ার চেষ্টা করি।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now