দেশের বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা নারীদের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় দেওয়া ভাতা এখন আরও সহজে যাচাই করা যাচ্ছে অনলাইনে। সমাজসেবা অধিদপ্তরের ডিজিটাল সেবার মাধ্যমে ঘরে বসেই মোবাইল বা কম্পিউটার ব্যবহার করে আবেদন স্ট্যাটাস, ভাতার তালিকা এবং বিভিন্ন তথ্য দেখা সম্ভব হচ্ছে। ফলে ইউনিয়ন পরিষদ বা সমাজসেবা অফিসে ঘন ঘন যাওয়ার প্রয়োজন অনেকটাই কমেছে।
আরও পড়ুন- ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে বিধবা ভাতা কত টাকা
সমাজসেবা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে Integrated Social Protection Management Information System (ISPMIS) প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিধবা ভাতার আবেদন ট্র্যাকিং সুবিধা চালু রয়েছে। এই সেবার মাধ্যমে আবেদনকারী জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) নম্বর বা জন্ম নিবন্ধন নম্বর ব্যবহার করে নিজের ভাতার বর্তমান অবস্থা জানতে পারবেন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ডিজিটাল সেবার কারণে এখন নতুন আবেদন অনুমোদন হয়েছে কি না, তালিকায় নাম এসেছে কি না কিংবা ভাতা চালু আছে কি না—এসব তথ্য সহজেই অনলাইনে দেখা যাচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের সময় ও ভোগান্তি দুটোই কমছে।
যেভাবে অনলাইনে বিধবা ভাতার স্ট্যাটাস চেক করবেন
প্রথমে সমাজসেবা অধিদপ্তরের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে হবে।
সমাজসেবা অধিদপ্তরের ভাতা সেবা ওয়েবসাইট
এরপর “আবেদন ট্র্যাকিং” অপশনে ক্লিক করতে হবে। সেখানে আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর বা জন্ম নিবন্ধন নম্বর দিতে হবে। যদি ট্র্যাকিং আইডি থাকে, সেটিও যুক্ত করা যাবে। পরে “সার্চ” বা “প্রিভিউ” বাটনে ক্লিক করলে আবেদন বা ভাতার বর্তমান স্ট্যাটাস দেখা যাবে।
এ ছাড়া নির্দিষ্ট এলাকার ভাতাভোগীদের তালিকাও তথ্য বাতায়নের মাধ্যমে দেখা সম্ভব বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এজন্য বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়নের ওয়েবসাইটে গিয়ে বিভাগ, জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন নির্বাচন করে সংশ্লিষ্ট তালিকা দেখা যায়।
সেখানে “বিভিন্ন তালিকা” মেনুতে গেলে বিধবা ভাতাসহ বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির উপকারভোগীদের তালিকা দেখা যেতে পারে।
বিধবা ভাতা পেতে যেসব যোগ্যতা লাগে
সমাজসেবা অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী, আবেদনকারীকে বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে এবং জাতীয় পরিচয়পত্র থাকতে হবে। এছাড়া স্বামীর মৃত্যুসনদ প্রয়োজন হয়। একই সঙ্গে ভাতার টাকা গ্রহণের জন্য সচল মোবাইল ব্যাংকিং নম্বর থাকতে হবে।
বর্তমানে বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা মহিলা ভাতার পরিমাণ মাসিক ৫৫০ টাকা। সাধারণত মোবাইল ব্যাংকিং সেবার মাধ্যমে এই অর্থ বিতরণ করা হয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিগুলো এখন ধীরে ধীরে পুরোপুরি ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় আসছে। এতে উপকারভোগীরা সরাসরি সেবা পাচ্ছেন এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাবও কমছে।
তবে সংশ্লিষ্টরা সতর্ক করে বলেছেন, ভাতা সংক্রান্ত ভুয়া ফোন কল বা প্রতারণা থেকে সবাইকে সাবধান থাকতে হবে। কেউ যদি ভাতা বাড়ানো বা দ্রুত অনুমোদনের কথা বলে ব্যক্তিগত তথ্য বা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের পিন নম্বর চায়, তাহলে তা কোনোভাবেই দেওয়া যাবে না।
যদি অনলাইনে তথ্য খুঁজে পাওয়া না যায় বা কোনো জটিলতা দেখা দেয়, তাহলে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সূত্র: সমাজসেবা অধিদপ্তর, সরকারি ভাতা ব্যবস্থাপনা তথ্য ও অনলাইন সেবা নির্দেশনা।
আরও পড়ুন-বিধবা ভাতা কত টাকা?










