দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে বাংলাদেশে শুরু হলো পঞ্চম প্রজন্মের মোবাইল নেটওয়ার্ক বা ৫-জি প্রযুক্তির যাত্রা। দেশের শীর্ষ মোবাইল অপারেটর Grameenphone ও Robi বাণিজ্যিকভাবে এবং Teletalk পরীক্ষামূলকভাবে ৫-জি সেবা চালু করেছে।
আরও পড়ুনঃ- নতুন লাইন যোগ করলেই ফ্রি Samsung Galaxy A37 5G দিচ্ছে T-Mobile
প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, এটি শুধু দ্রুতগতির ইন্টারনেট নয়; বরং বাংলাদেশের ডিজিটাল অর্থনীতি, শিল্প, স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং স্মার্ট সিটি ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের পরিবর্তনের সূচনা করতে পারে।
বর্তমানে বাংলাদেশে মূলত ৩.৫ গিগাহার্টজ ব্যান্ডে ৫-জি সেবা চালু হয়েছে। এই প্রযুক্তি আগের ৪-জি নেটওয়ার্কের তুলনায় অনেক দ্রুতগতির ইন্টারনেট এবং অত্যন্ত কম লেটেন্সি প্রদান করতে সক্ষম।
বিশেষজ্ঞদের তথ্যমতে, ৫-জি নেটওয়ার্কে তাত্ত্বিকভাবে সর্বোচ্চ ২০Gbps পর্যন্ত ডাউনলোড গতি পাওয়া সম্ভব। যদিও বাংলাদেশে ব্যবহারকারীরা বর্তমানে গড়ে ১০০ থেকে ২২০Mbps পর্যন্ত গতি পাচ্ছেন। কিছু ক্ষেত্রে এই গতি ৫৫০ থেকে ৬০০Mbps-এর বেশি পৌঁছেছে।
অন্যদিকে ৪-জি নেটওয়ার্কে সাধারণত ১০ থেকে ৩০Mbps গতি পাওয়া যায়। ফলে ভিডিও স্ট্রিমিং, ক্লাউড গেমিং, ভিডিও কনফারেন্স কিংবা বড় ফাইল ডাউনলোডের অভিজ্ঞতা আরও দ্রুত ও স্মুথ হবে।
৫-জির আরেকটি বড় সুবিধা হলো কম লেটেন্সি। ৪-জির তুলনায় এতে কমান্ড পাঠানো ও রেসপন্স পাওয়ার সময় অনেক কম লাগে। ফলে অনলাইন গেমিং, স্মার্ট ডিভাইস নিয়ন্ত্রণ, এমনকি ভবিষ্যতে রিমোট সার্জারির মতো প্রযুক্তিও বাস্তবায়ন সহজ হবে।
প্রযুক্তিটি একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক ডিভাইস সংযুক্ত রাখতে সক্ষম। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতি বর্গকিলোমিটারে প্রায় ১০ লাখ ডিভাইস ৫-জি নেটওয়ার্কে যুক্ত থাকতে পারবে। এতে স্মার্ট সিটি, আইওটি ডিভাইস এবং স্বয়ংক্রিয় শিল্পকারখানার প্রসার বাড়বে।
সরকারি অপারেটর টেলিটকের পরীক্ষামূলক ৫-জি নেটওয়ার্ক স্থাপনে প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়েছে Huawei। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, ভবিষ্যতে স্পেকট্রাম বাড়ানো হলে আরও দ্রুতগতির সেবা দেওয়া সম্ভব হবে।
বর্তমানে গ্রামীণফোন দেশের আটটি বিভাগীয় শহরে ৫-জি সেবা চালু করেছে। অন্যদিকে রবি ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় এই সেবা সম্প্রসারণ করছে।
গ্রাহকদের জন্য স্বস্তির বিষয় হলো, ৫-জি ব্যবহারের জন্য আলাদা কোনো চার্জ দিতে হবে না। বিদ্যমান ৪-জি ইন্টারনেট প্যাকেজ দিয়েই এই সেবা ব্যবহার করা যাবে। তবে ব্যবহারকারীর অবশ্যই ৫-জি সমর্থিত স্মার্টফোন থাকতে হবে এবং তাকে ৫-জি কভারেজ এলাকার মধ্যে থাকতে হবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৫-জি প্রযুক্তি সফলভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে বাংলাদেশের শিল্পখাত, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা এবং পরিবহন ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে। তবে এর পূর্ণ সুবিধা পেতে হলে আরও বেশি বেস স্টেশন, ফাইবার সংযোগ এবং শক্তিশালী অবকাঠামো তৈরি করতে হবে।
📌 সূত্রঃ মোবাইল অপারেটর ও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের তথ্য
আরও পড়ুনঃ- Wi-Fi এখন 5G! বাংলাদেশে প্রথম 5G Wi-Fi চালু করল gpfi, গতি ১০০ Mbps পর্যন্ত









