দীর্ঘ কয়েক মাসের বিলম্ব ও নানা বিতর্কের পর অবশেষে বাজারে আসছে Trump Mobile T1 স্মার্টফোন। ট্রাম্প পরিবারের ব্যবসায়িক উদ্যোগে তৈরি এই বহুল আলোচিত ফোনটির শিপিং চলতি সপ্তাহ থেকেই শুরু হবে বলে জানিয়েছে কোম্পানি।
আরও পড়ুনঃ- ঈদে ১০ হাজার টাকার মধ্যে কিনতে পারেন দারুণ ৫ স্মার্টফোন
গত বছর ১০০ ডলার অগ্রিম নিয়ে ফোনটির প্রি-অর্ডার চালু করা হলেও প্রযুক্তিগত জটিলতার কারণে নির্ধারিত সময়ে গ্রাহকদের হাতে ডিভাইস পৌঁছে দিতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি।
শুরু থেকেই বিতর্কে ট্রাম্প ফোন
৪৯৯ ডলার মূল্যের সোনালি রঙের এই অ্যান্ড্রয়েড ফোনটি শুরু থেকেই ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের দাবি, ফোনটির নকশা ও স্পেসিফিকেশন চীনা নির্মাতাদের তৈরি কমদামি স্মার্টফোনের সঙ্গে অনেকটাই মিল রয়েছে।
কেউ কেউ এমনও বলেছেন, এটি দেখতে Walmart–এ বিক্রি হওয়া ২০০ ডলারের কম মূল্যের কিছু ফোনের মতো।
‘মেড ইন ইউএসএ’ দাবি নিয়েও প্রশ্ন
শুরুতে ট্রাম্প মোবাইল ফোনটিকে “Made in USA” বলে প্রচার করেছিল। তবে পরে সেই দাবি পরিবর্তন করে বলা হয়, ফোনটি “আমেরিকান মূল্যবোধ মাথায় রেখে ডিজাইন করা হয়েছে”।
এই পরিবর্তনের পর থেকেই সমালোচনা আরও বাড়ে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, “ডিজাইনড” এবং “বিল্ট” শব্দ দুটি ইচ্ছাকৃতভাবে অস্পষ্ট রাখা হয়েছে। ফলে ডিভাইসটির প্রকৃত উৎপাদন কোথায় হয়েছে, তা এখনো পরিষ্কার নয়।
কেন দেরি হলো?
কোম্পানির প্রধান নির্বাহী প্যাট ও’ব্রায়েন জানিয়েছেন, ফোনটির মান নিয়ন্ত্রণ ও যন্ত্রাংশ পরীক্ষার কারণে বাজারজাত করতে অতিরিক্ত সময় লেগেছে।
তার দাবি, ডিভাইসটির ব্যাপক চাহিদা রয়েছে এবং দ্রুত অর্ডার সরবরাহের চেষ্টা চলছে।
রাজনৈতিক বিতর্কও বাড়ছে
এই প্রকল্পকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনেও শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা।
সমালোচকদের অভিযোগ, Donald Trump নিজের রাজনৈতিক পরিচিতি ব্যবহার করে বাণিজ্যিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছেন।
ডেমোক্র্যাট সিনেটর Elizabeth Warren এই প্রকল্পকে “আরেকটি ট্রাম্প প্রতারণা” বলেও মন্তব্য করেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রযুক্তি পণ্য বাজারে রাজনৈতিক ব্র্যান্ডিং ব্যবহার করার কারণে ফোনটি শুধু গ্যাজেট হিসেবেই নয়, বরং রাজনৈতিক প্রতীকের অংশ হিসেবেও আলোচিত হচ্ছে।
বিশেষ দামে ভয়েস ও ডেটা প্ল্যান
ফোনটির সঙ্গে থাকা ডেটা ও ভয়েস প্ল্যানের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৪৭.৪৫ ডলার।
এই সংখ্যাটি যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫তম ও ৪৭তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের রাজনৈতিক অবস্থানকে ইঙ্গিত করে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, বিতর্ক থাকলেও “ট্রাম্প ফোন” বাজারে কৌতূহল তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, ব্যবহারকারীদের কাছে এটি কতটা গ্রহণযোগ্যতা পায়।
সূত্রঃ- বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রযুক্তিবিষয়ক প্রতিবেদন ও ট্রাম্প মোবাইলের তথ্য।
আরও পড়ুনঃ- দামি স্মার্টফোন কিনলেই কি লাভ বেশি, নাকি মিড-রেঞ্জ ফোনই এখন যথেষ্ট





