কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ডেটা সেন্টারের বিদ্যুৎ চাহিদা। এই চাহিদা মেটাতে এবার অভিনব এক উদ্যোগ নিয়েছে চীন। পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহারের লক্ষ্য নিয়ে দেশটি সমুদ্রের নিচে তৈরি করেছে অত্যাধুনিক এআই ডেটা সেন্টার, যা সরাসরি বায়ুশক্তি থেকে বিদ্যুৎ পাচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ- তরুণ গেমারদের জন্য ‘কুরবানি রান’ টুর্নামেন্ট চালু করলো আকিজ
চীনের শাংহাই উপকূলের লিংকাং বিশেষায়িত অঞ্চলের কাছে অফশোর প্ল্যাটফর্মে স্থাপন করা হয়েছে বিশ্বের প্রথম বাণিজ্যিক আন্ডারওয়াটার ডেটা সেন্টার। প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, ভবিষ্যতের এআই অবকাঠামো উন্নয়নে এটি নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে।
প্রকল্পটিতে বিনিয়োগ করা হয়েছে প্রায় ১৬০ কোটি ইউয়ান। মূল লক্ষ্য হচ্ছে এআইভিত্তিক প্রযুক্তির কারণে ভবিষ্যতে বাড়তে থাকা বিশাল বিদ্যুৎ চাহিদা সামাল দেওয়া। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বজুড়ে ডেটা সেন্টারের বিদ্যুৎ ব্যবহার প্রায় দ্বিগুণ হতে পারে এবং এর বড় কারণ হবে এআই প্রযুক্তির বিস্তার।
চীনের নতুন এই ডেটা সেন্টারটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০ মিটার নিচে স্থাপন করা হয়েছে। এতে চারটি স্তরে মোট ১৯২টি সার্ভার র্যাক রয়েছে। বর্তমানে পরীক্ষামূলক পর্যায়ে এর বিদ্যুৎ ব্যবহার ২ দশমিক ৩ মেগাওয়াট। পুরো প্রকল্প চালু হলে সেটি বেড়ে ২৪ মেগাওয়াটে পৌঁছাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সমুদ্রের নিচে ডেটা সেন্টার তৈরির সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো প্রাকৃতিক শীতলীকরণ ব্যবস্থা। সাধারণ স্থলভিত্তিক ডেটা সেন্টারে মোট বিদ্যুতের বড় একটি অংশ সার্ভার ঠান্ডা রাখতে ব্যয় হয়। অনেক ক্ষেত্রে এই ব্যয় প্রায় ৪০ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছে যায়। কিন্তু সমুদ্রের নিচে গড় তাপমাত্রা প্রায় ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস হওয়ায় অতিরিক্ত কুলিং সিস্টেমের প্রয়োজন কম পড়ে। ফলে বিদ্যুৎ সাশ্রয় সম্ভব হয় উল্লেখযোগ্য পরিমাণে।
ডেটা সেন্টারটি নিকটবর্তী ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি বায়ু বিদ্যুৎকেন্দ্রের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। সেখানে ৫০টির বেশি উইন্ড টারবাইন রয়েছে। প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের দাবি, পুরো ব্যবস্থার ৯৫ শতাংশের বেশি বিদ্যুৎ আসছে নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎস থেকে।
চীনের হিসাব অনুযায়ী, প্রকল্পটি পূর্ণমাত্রায় চালু হলে বছরে প্রায় ৬ কোটি ১০ লাখ কিলোওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ সাশ্রয় সম্ভব হবে। একই সঙ্গে কার্বন নিঃসরণও কমবে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে। ফলে এটি শুধু প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন নয়, পরিবেশ রক্ষার ক্ষেত্রেও বড় পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
তবে সমুদ্রের নিচে এমন অবকাঠামো নির্মাণ সহজ ছিল না। প্রকৌশলীদের সমুদ্রের প্রবল ঢেউ, পানির চাপ এবং তলদেশে পলি জমার মতো নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়েছে। এজন্য নতুন ধরনের নির্মাণপ্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে বলে জানা গেছে। পুরো নির্মাণকাজ শেষ করতে সময় লেগেছে প্রায় ছয় মাস।
বিশ্লেষকদের মতে, এআই প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ উন্নয়নে বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হয়ে উঠছে। তাই চীনের এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে অন্যান্য দেশকেও অনুপ্রাণিত করতে পারে। বিশেষ করে পরিবেশবান্ধব ও কম বিদ্যুৎ ব্যয়ের ডেটা সেন্টার নির্মাণে নতুন ধারণা তৈরি করবে এই প্রকল্প।
বর্তমানে বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো এআই অবকাঠামো সম্প্রসারণে বিপুল বিনিয়োগ করছে। এর ফলে শক্তি সাশ্রয়ী প্রযুক্তির গুরুত্বও বাড়ছে। সেই বাস্তবতায় সমুদ্রের নিচে ডেটা সেন্টার তৈরির এই উদ্যোগকে প্রযুক্তি বিশ্বের অন্যতম ব্যতিক্রমী উদ্ভাবন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সূত্রঃ সিএমজি।
আরও পড়ুনঃ- এআই দিয়ে অ্যানিমেশন বানাতে গোপনে নতুন স্টুডিও চালু করলো নেটফ্লিক্স









