রমজান মাসে রোজা রাখা ইসলামের অন্যতম ফরজ ইবাদত। তবে শরয়ি কোনো ওজরের কারণে—যেমন অসুস্থতা, সফর, ঋতুস্রাব কিংবা গর্ভকালীন ও দুগ্ধদানজনিত সমস্যার ক্ষেত্রে রোজা ভাঙার অনুমতি রয়েছে। কিন্তু এ ধরনের অবস্থায় রোজা ভেঙে ফেললেও পরবর্তীতে তা কাজা করা বাধ্যতামূলক। এ বিষয়ে ইসলামি শরিয়তে স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে, যা মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বাস্তব জীবনে অনেক সময় দেখা যায়, অজ্ঞতা, অবহেলা বা দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতার কারণে অনেকে সময়মতো কাজা রোজা আদায় করতে পারেন না। এমনকি এক রমজানের কাজা শেষ হওয়ার আগেই পরবর্তী রমজান এসে যায়। এতে করে অনেকেই দ্বিধায় পড়ে যান—তাদের করণীয় কী এবং তারা গুনাহগার কিনা।
আরও পড়ুন-অলস মন কেন শয়তানের সবচেয়ে বড় অস্ত্র, জিকিরই যেভাবে দেয় মুক্তির পথ
ইসলামি ফিকহ অনুযায়ী, রোজা কাজা করতে বিলম্ব সাধারণত দুই ধরনের হতে পারে। প্রথমত, যদি কোনো বৈধ ওজরের কারণে বিলম্ব হয়—যেমন কেউ অসুস্থ ছিলেন এবং সেই অসুস্থতা পরবর্তী রমজান পর্যন্ত স্থায়ী থাকে—তাহলে তিনি গুনাহগার হবেন না। এ ক্ষেত্রে সুস্থ হওয়ার পর সমপরিমাণ রোজা কাজা করলেই দায়িত্ব পূরণ হবে।
দ্বিতীয়ত, যদি কেউ সক্ষম থাকা সত্ত্বেও অলসতা বা অবহেলার কারণে কাজা রোজা আদায় না করে পরবর্তী রমজান পর্যন্ত বিলম্ব করেন, তাহলে শরিয়তের দৃষ্টিতে তিনি গুনাহগার হিসেবে বিবেচিত হবেন। কারণ ফরজ ইবাদত বিনা কারণে বিলম্ব করা নিষিদ্ধ। তবে এই অবস্থাতেও তার ওপর রোজার কাজা আদায়ের বাধ্যবাধকতা বহাল থাকে।
এখন প্রশ্ন আসে, যদি এক রমজানের কাজা শেষ হওয়ার আগেই পরবর্তী রমজান চলে আসে, তাহলে কী করণীয়? এ বিষয়ে ইসলামি আইনবিদদের মধ্যে ভিন্নমত রয়েছে। হানাফি মাজহাবের মতে, বিলম্বের কারণ যাই হোক না কেন, শুধুমাত্র কাজা রোজা আদায় করলেই যথেষ্ট। অতিরিক্ত কোনো ফিদইয়া বা আর্থিক জরিমানা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। এই মতের পক্ষে পবিত্র কোরআনের আয়াত উদ্ধৃত করা হয়, যেখানে বলা হয়েছে—অসুস্থ বা সফরে থাকা ব্যক্তি পরবর্তী সময়ে রোজা পূরণ করবে।
অন্যদিকে ইমাম মালেক, ইমাম শাফেয়ি এবং ইমাম আহমদের মতে, যদি কেউ বিনা ওজরে কাজা রোজা বিলম্ব করে পরবর্তী রমজানে পৌঁছে যায়, তাহলে তাকে কাজা আদায়ের পাশাপাশি প্রতিটি রোজার জন্য একজন মিসকিনকে খাদ্য প্রদান করতে হবে, যা ফিদইয়া হিসেবে বিবেচিত হয়। তাদের এই মতের পক্ষে সাহাবিদের কিছু বর্ণনা রয়েছে।
তবে কিছু সমসাময়িক আলেম, যেমন শাইখ ইবনে উসাইমিন (রহ.), মত দিয়েছেন যে কোরআনে সরাসরি ফিদইয়ার কথা উল্লেখ না থাকায় শুধুমাত্র কাজা আদায় করলেই দায়মুক্তি পাওয়া যাবে। তবে সতর্কতার জন্য কেউ যদি ফিদইয়া প্রদান করেন, তা উত্তম হিসেবে বিবেচিত হবে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, কাজা রোজা আদায়ে বিলম্ব না করে যত দ্রুত সম্ভব তা পূরণ করাই উত্তম। কারণ এটি একটি ফরজ দায়িত্ব এবং এর প্রতি অবহেলা করা উচিত নয়। সঠিক জ্ঞান অর্জন ও সময়মতো ইবাদত পালনের মাধ্যমে একজন মুসলিম তার ধর্মীয় দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে পারেন।
আরও পড়ুন-প্রচণ্ড রাগের মুহূর্তে কী করবেন ইসলাম কী বলে?
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔










