আমাদের Telegram চ্যানেলে যুক্ত হোন

মূল্যস্ফীতির মধ্যেও সঞ্চয়পত্রে বাড়ছে বিনিয়োগ

March 28, 2026 2:46 PM
মূল্যস্ফীতির মধ্যেও সঞ্চয়পত্রে বাড়ছে বিনিয়োগ

উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও অর্থনীতির নানা চাপে বিনিয়োগের অনিশ্চয়তা বাড়লেও সঞ্চয়পত্রে মানুষের আগ্রহ আবারও বাড়ছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত জানুয়ারি মাসে সঞ্চয়পত্রে নিট বিনিয়োগ এসেছে প্রায় ১ হাজার ৮৫১ কোটি টাকা, যা সাম্প্রতিক মাসগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ইতিবাচক প্রবণতা নির্দেশ করে।

আরও পড়ুন- সঞ্চয়পত্র নাকি এফডিআর-বর্তমান বাংলাদেশে কোথায় বিনিয়োগ করবেন?

জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, গত ছয় মাসের মধ্যে পাঁচ মাসই সঞ্চয়পত্রে নিট বিনিয়োগ ইতিবাচক ছিল। অর্থাৎ আগের বিক্রি হওয়া সঞ্চয়পত্রের আসল পরিশোধের পরও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ সরকারের কোষাগারে জমা হয়েছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, ব্যাংক খাতে আস্থাহীনতা ও শেয়ারবাজারে দীর্ঘদিনের মন্দা বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকিমুক্ত বিকল্প খুঁজতে বাধ্য করছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে অনেক বিনিয়োগকারী নিরাপদ ও নিশ্চিত আয়ের মাধ্যম হিসেবে সঞ্চয়পত্রকে বেছে নিচ্ছেন। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত, অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি, গৃহিণী ও স্বল্প আয়ের মানুষের কাছে এটি দীর্ঘদিন ধরেই একটি নির্ভরযোগ্য বিনিয়োগ মাধ্যম হিসেবে পরিচিত।

চলতি অর্থবছরের শুরুতে সঞ্চয়পত্রের সুদের হার কিছুটা কমিয়ে সর্বোচ্চ ১১ দশমিক ৯৮ শতাংশ নির্ধারণ করা হলেও বিনিয়োগে এর প্রভাব খুব বেশি পড়েনি। অন্যদিকে, ফেব্রুয়ারি মাসে দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ১৩ শতাংশে, যা কয়েক মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। তবুও তুলনামূলকভাবে বেশি মুনাফার কারণে সঞ্চয়পত্রে আগ্রহ কমেনি।

এছাড়া সরকার কিছু নীতিগত পরিবর্তন আনায় বিনিয়োগ আরও সহজ হয়েছে। চলতি অর্থবছরে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত সঞ্চয়পত্র কিনতে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা শিথিল করা হয়েছে, যা আগে ছিল ৫ লাখ টাকা। একই সঙ্গে ব্যক্তিগত বিনিয়োগকারীদের জন্য মেয়াদ শেষে পুনর্বিনিয়োগ সুবিধা চালু করা হয়েছে এবং ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংকের মেয়াদি হিসাবেও পুনর্বিনিয়োগ সুবিধা ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

ওয়েজ আর্নার ডেভেলপমেন্ট বন্ডে বিনিয়োগসীমা তুলে নেওয়া এবং পেনশনার সঞ্চয়পত্রে প্রতি তিন মাসের পরিবর্তে মাসিক মুনাফা প্রদানের সিদ্ধান্তও বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করছে। এসব সুবিধা সঞ্চয়পত্রকে আরও জনপ্রিয় করে তুলছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেনের মতে, দীর্ঘদিন উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে সাধারণ মানুষের সঞ্চয় কমে যাওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তার বিপরীত চিত্র দেখা যাচ্ছে। তিনি বলেন, ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা ও পুঁজিবাজারে আস্থার সংকটের কারণে মানুষ এখন নিরাপদ বিনিয়োগ মাধ্যম হিসেবে সঞ্চয়পত্রকে প্রাধান্য দিচ্ছে।

সরকার চলতি অর্থবছরে সঞ্চয়পত্র বিক্রি থেকে নিট ১২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। এর মধ্যে প্রথম সাত মাসে (জুলাই-জানুয়ারি) নিট বিনিয়োগ এসেছে ৪ হাজার ৩১২ কোটি টাকা। যেখানে আগের অর্থবছরের একই সময়ে নিট বিনিয়োগ ছিল ঋণাত্মক, প্রায় ৭ হাজার ১৩ কোটি টাকা।

উল্লেখ্য, আগের কয়েক অর্থবছর ধরে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ ঋণাত্মক ধারায় ছিল। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে নিট বিনিয়োগ ঋণাত্মক হয়েছিল প্রায় ২১ হাজার ১২৪ কোটি টাকা এবং ২০২২-২৩ অর্থবছরে তা ছিল ৩ হাজার ২৯৬ কোটি টাকা। তবে চলতি অর্থবছরে এই প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসার ইঙ্গিত মিলছে।

বর্তমানে দেশে চার ধরনের সঞ্চয়পত্র চালু রয়েছে—পরিবার সঞ্চয়পত্র, পেনশনার সঞ্চয়পত্র, পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র এবং তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র। এসব স্কিমে বিনিয়োগের পরিমাণ অনুযায়ী মুনাফার হার গড়ে ১১ দশমিক ৭৭ শতাংশ থেকে ১১ দশমিক ৯৮ শতাংশ পর্যন্ত নির্ধারিত রয়েছে।

সামগ্রিকভাবে অর্থনীতির অনিশ্চয়তার মধ্যেও নিরাপদ বিনিয়োগের খোঁজে সঞ্চয়পত্র আবারও জনপ্রিয় হয়ে উঠছে, যা ভবিষ্যতে সরকারি অর্থায়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

আরও পড়ুন-সঞ্চয়পত্র কি?সঞ্চয়পত্র কেনার নিয়ম(আপডেট)

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
👉টেক নিউজের সকল খবর সবার আগে পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন!

👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।

✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔

📌 পোস্টটি শেয়ার করুন! 🔥

Sanaul Bari

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমতুল্লাহ। আমি মোঃ সানাউল বারী। পেশায় আমি একজন চাকরিজীবী এবং এই ওয়েবসাইটের এডমিন। চাকরির পাশাপাশি, আমি গত ১৪ বছর ধরে আমার নিজস্ব ওয়েবসাইটে লেখালেখি করছি এবং আমার নিজস্ব ইউটিউব এবং ফেসবুকে কন্টেন্ট তৈরি করছি। বিশেষ দ্রষ্টব্য - লেখায় যদি কোনও ভুল থাকে, তাহলে দয়া করে আমাকে ক্ষমা করে দিন। ধন্যবাদ।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now