টেলিটক বিক্রি নয়, নতুন বিনিয়োগকারী খুঁজছে সরকার

প্রকাশিত: 17-05-2026 3:45 AM
টেলিটক বিক্রি নয়, নতুন বিনিয়োগকারী খুঁজছে সরকার

রাষ্ট্রায়ত্ত মোবাইল অপারেটর টেলিটককে বিক্রি করার কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই বলে জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি ও বিজ্ঞান মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। তবে প্রতিষ্ঠানটির উন্নয়ন ও সম্প্রসারণে নতুন বিনিয়োগকারী খোঁজা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি। শনিবার রাজধানীতে আয়োজিত এক গোলটেবিল আলোচনায় এসব কথা বলেন মন্ত্রী।

আরও পড়ুন-টেলিটকের ফিজিক্যাল সিম এখন সহজেই ই-সিমে রূপান্তর করার সুযোগ

রাজধানীর একটি হোটেলে টেলিকম অ্যান্ড টেকনোলজি রিপোর্টার্স নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ (টিআরএনবি) দেশের টেলিকম খাতের ভবিষ্যৎ ও নতুন সরকারের পরিকল্পনা নিয়ে এই আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে সরকারি কর্মকর্তা, টেলিকম বিশেষজ্ঞ, মোবাইল অপারেটর প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট খাতের বিভিন্ন ব্যক্তিরা অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে টেলিযোগাযোগমন্ত্রী বলেন, সরকার টেলিটককে আরও আধুনিক ও প্রতিযোগিতামূলক প্রতিষ্ঠানে রূপ দিতে চায়। সে লক্ষ্যেই বিনিয়োগ আনার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি বলেন, “টেলিটককে বিক্রি করার কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই। তবে এর জন্য বিনিয়োগকারী খোঁজা হচ্ছে।”

বিশ্লেষকদের মতে, দেশের একমাত্র রাষ্ট্রীয় মোবাইল অপারেটর হিসেবে টেলিটকের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। তবে বেসরকারি মোবাইল অপারেটরগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ায় প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরেই নানা চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। বিশেষ করে নেটওয়ার্ক কাভারেজ, ইন্টারনেট গতি এবং গ্রাহকসেবার ক্ষেত্রে উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা চলছে অনেক দিন ধরেই।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, টেলিটকের প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ও অবকাঠামো সম্প্রসারণে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ প্রয়োজন। সরকারের পক্ষ থেকে নতুন বিনিয়োগকারী খোঁজার ঘোষণা সেই প্রয়োজনীয়তার দিকেই ইঙ্গিত করছে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, কৌশলগত অংশীদার বা বিনিয়োগকারী যুক্ত হলে প্রতিষ্ঠানটির সেবার মান বাড়তে পারে।

অনুষ্ঠানে টেলিকম খাতের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়। গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করে রবির হেড অব রেগুলেটরি অ্যান্ড কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স দেশের ডিজিটাল অর্থনীতি আরও শক্তিশালী করতে টেলিকম খাতে নীতিগত সংস্কারের পরামর্শ দেন।

মুখ্য আলোচকের বক্তব্যে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) এমদাদ উল বারী বলেন, নতুন লাইসেন্সিং প্রথায় কোনো একক প্রতিষ্ঠানের আধিপত্য থাকবে না। তিনি বলেন, টেলিকম খাতে প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ বজায় রাখতে সরকার কাজ করছে।

স্পেকট্রাম বরাদ্দ নিয়ে বিশেষ গোষ্ঠীকে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগও নাকচ করেন বিটিআরসি চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, “নিয়ম মেনেই টেলিটককে স্পেকট্রাম দেওয়া হয়েছে।” তার এই বক্তব্যের মাধ্যমে সাম্প্রতিক সময়ে টেলিটককে ঘিরে ওঠা বিভিন্ন আলোচনার জবাব দেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ বলেন, বর্তমানে দেশের জিডিপিতে টেলিকম খাতের অবদান প্রায় ৮ শতাংশ। ভবিষ্যতে এটিকে ১৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে সরকার। তিনি জানান, ২০৩৫ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তর এবং বিশ্বের শীর্ষ ২০টি টেলিকম দেশের তালিকায় নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে একটি দীর্ঘমেয়াদি পলিসি রোডম্যাপ তৈরি করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি। বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিজিটাল অর্থনীতি সম্প্রসারণে টেলিকম খাতকে আরও শক্তিশালী করা এখন সময়ের দাবি। দ্রুতগতির ইন্টারনেট, আধুনিক প্রযুক্তি এবং গ্রামীণ পর্যায়ে ডিজিটাল সংযোগ নিশ্চিত করা ছাড়া স্মার্ট বাংলাদেশ বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।

ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী আরও বলেন, সরকার ফাইভ-জি প্রযুক্তি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) গ্রামীণ পর্যায়ে পৌঁছে দিতে গুরুত্ব সহকারে কাজ করছে। তার মতে, ভবিষ্যতের অর্থনীতি ও প্রযুক্তিনির্ভর সমাজ গঠনে এসব প্রযুক্তির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে।

বর্তমানে দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। অনলাইন শিক্ষা, ফ্রিল্যান্সিং, ডিজিটাল পেমেন্ট এবং স্মার্ট ডিভাইস ব্যবহারের কারণে টেলিকম খাতের গুরুত্বও আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। ফলে দ্রুতগতির ও নির্ভরযোগ্য ইন্টারনেট নিশ্চিত করতে সরকার নতুন বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি উন্নয়নের ওপর জোর দিচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, টেলিটককে আরও কার্যকর ও আধুনিক করতে হলে শুধু বিনিয়োগ নয়, সেবার মান উন্নয়ন, নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ এবং গ্রাহক আস্থা বাড়ানোর দিকেও গুরুত্ব দিতে হবে। কারণ বর্তমানে মোবাইল অপারেটর বাজারে প্রতিযোগিতা অনেক বেশি।

সরকারের নতুন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে ভবিষ্যতে টেলিটক নতুনভাবে ঘুরে দাঁড়াতে পারে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে গ্রামীণ পর্যায়ে সাশ্রয়ী ইন্টারনেট এবং ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণে রাষ্ট্রীয় এই অপারেটর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

সূত্র: টিআরএনবি গোলটেবিল আলোচনা ও সংশ্লিষ্ট বক্তব্য।

আরও পড়ুন-টেলিটক জেন জি সিমের সুবিধা

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

📌 পোস্টটি শেয়ার করুন! 🔥

স্টাফ রিপোর্টার

স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে আমি 'টেক বাংলা নিউজ' (ssitbari.com)-এ নিয়মিত বিভিন্ন তথ্যভিত্তিক ও আপডেটেড কনটেন্ট প্রকাশ করি। প্রযুক্তি, মোবাইল, গ্যাজেটসহ প্রয়োজনীয় অন্যান্য বিষয় সহজ ও বোধগম্য ভাষায় পাঠকদের কাছে তুলে ধরা আমার লক্ষ্য। নির্ভরযোগ্য তথ্য, বিশ্লেষণ ও উপকারী টিপসের মাধ্যমে পাঠকদের সঠিক দিকনির্দেশনা দেওয়ার চেষ্টা করি।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now