বাংলাদেশে ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ই-সিম প্রযুক্তি। স্মার্টফোনে আলাদা ফিজিক্যাল সিম ব্যবহার ছাড়াই ডিজিটালভাবে মোবাইল সংযোগ ব্যবহারের সুবিধা থাকায় প্রযুক্তিপ্রেমীদের আগ্রহ বাড়ছে দিন দিন। এই প্রযুক্তির সুবিধা দিতে দেশের রাষ্ট্রীয় মোবাইল অপারেটর টেলিটকও ই-সিম সেবা চালু করেছে। ফলে এখন টেলিটকের সাধারণ ফিজিক্যাল সিমকেও নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ই-সিমে রূপান্তর করা যাচ্ছে।
আরও পড়ুন-টেলিটক সিম কত দিন বন্ধ রাখলে রেজিষ্ট্রেশন বাতিল হয়ে যায়?
প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, ই-সিম বা এমবেডেড সিম মূলত ফোনের ভেতরে থাকা ডিজিটাল সিম প্রযুক্তি। এতে আলাদা সিম কার্ড প্রবেশ করানোর প্রয়োজন হয় না। কিউআর কোড স্ক্যানের মাধ্যমে সহজেই মোবাইল নেটওয়ার্ক চালু করা যায়। বিশেষ করে আধুনিক স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের মধ্যে এই প্রযুক্তির চাহিদা দ্রুত বাড়ছে।
টেলিটক সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে যাদের ই-সিম সমর্থিত স্মার্টফোন রয়েছে, তারা চাইলেই তাদের বিদ্যমান টেলিটক ফিজিক্যাল সিমকে ই-সিমে রূপান্তর করতে পারবেন। এজন্য নির্ধারিত গ্রাহকসেবা কেন্দ্র বা কাস্টমার কেয়ারে যেতে হবে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, ই-সিমে রূপান্তরের আগে অবশ্যই নিশ্চিত হতে হবে যে ব্যবহারকারীর স্মার্টফোনটি eSIM সাপোর্ট করে কি না। বর্তমানে Apple, Samsung, Google Pixelসহ কিছু প্রিমিয়াম স্মার্টফোনে এই সুবিধা রয়েছে। তবে সব ফোনে এখনও eSIM সুবিধা পাওয়া যায় না।
যেভাবে টেলিটক সিমকে ই-সিমে রূপান্তর করবেন
প্রথমে নিকটস্থ টেলিটক কাস্টমার কেয়ার বা নির্ধারিত সেবা কেন্দ্রে যেতে হবে। সঙ্গে জাতীয় পরিচয়পত্র এবং যে সিমটি ই-সিমে রূপান্তর করতে চান, সেটি নিতে হবে।
গ্রাহকের তথ্য যাচাইয়ের পর টেলিটক কর্তৃপক্ষ একটি QR কোড প্রদান করবে। এরপর স্মার্টফোনের সেটিংস থেকে “Mobile Network” বা “Add eSIM” অপশনে গিয়ে সেই QR কোড স্ক্যান করতে হবে। সফলভাবে স্ক্যান সম্পন্ন হলে কয়েক মিনিটের মধ্যেই ফোনে ই-সিম সক্রিয় হয়ে যাবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ই-সিম ব্যবহারের অন্যতম সুবিধা হলো একাধিক নম্বর সহজে ম্যানেজ করা যায় এবং ফিজিক্যাল সিম ট্রে খোলার প্রয়োজন পড়ে না। একই সঙ্গে বিদেশ ভ্রমণের সময়ও সহজে নতুন নেটওয়ার্ক যুক্ত করা সম্ভব হয়।
তবে তারা সতর্ক করে বলছেন, ফোন পরিবর্তন বা রিসেট করার সময় ই-সিম সংক্রান্ত তথ্য সতর্কভাবে সংরক্ষণ করতে হবে। কারণ অনেক ক্ষেত্রে পুনরায় অ্যাক্টিভেশনের জন্য আবার কাস্টমার কেয়ারে যেতে হতে পারে।
টেলিটকের পাশাপাশি দেশের আরও কিছু মোবাইল অপারেটরও ধীরে ধীরে eSIM সেবা সম্প্রসারণ করছে। প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, ভবিষ্যতে অধিকাংশ স্মার্টফোনেই eSIM প্রযুক্তি যুক্ত হবে এবং ফিজিক্যাল সিমের ব্যবহার কমে আসতে পারে।
বর্তমানে দেশে ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে মোবাইল নেটওয়ার্ক ব্যবস্থাতেও আধুনিক প্রযুক্তি যুক্ত হচ্ছে। ই-সিম সেই পরিবর্তনের অন্যতম অংশ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তবে ব্যবহারকারীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—eSIM চালুর আগে ফোনটি এই প্রযুক্তি সমর্থন করে কি না, তা যাচাই করা। অন্যথায় QR কোড স্ক্যান করলেও সিম চালু হবে না।
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, ই-সিম ব্যবহারের ফলে স্মার্টফোন ডিজাইন আরও আধুনিক ও সিমপ্লিফাইড হচ্ছে। পাশাপাশি ডিভাইসের নিরাপত্তা এবং নেটওয়ার্ক ব্যবস্থাপনাও আগের তুলনায় সহজ হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, আগামী কয়েক বছরে বাংলাদেশেও eSIM প্রযুক্তির ব্যবহার আরও দ্রুত বাড়বে এবং ডিজিটাল মোবাইল সেবায় নতুন পরিবর্তন আসবে।
সূত্র: টেলিটক গ্রাহকসেবা তথ্য, মোবাইল অপারেটর সংশ্লিষ্ট তথ্য ও প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতামত।
আরও পড়ুন-টেলিটক জেন জি সিমের সুবিধা










