বাংলাদেশের টেলিকম ও আইসিটি খাতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর টেলিকম ও আইসিটি বিষয়ক উপদেষ্টা Rehan Asif Asad। তিনি জানিয়েছেন, আগামী পাঁচ বছরে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) এই খাতের অবদান ১৫ শতাংশে নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার।
আরও পড়ুনঃ- টেলিকম লাইসেন্সিং নীতিমালা ২০২৫ সংশোধন করছে সরকার
শনিবার রাজধানীর InterContinental Dhaka–তে আয়োজিত ‘টেলিকম খাতের ভবিষ্যৎ : নতুন সরকার কী ভাবছে’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে Telecom and Technology Reporters Network Bangladesh (টিআরএনবি)।
উপদেষ্টা বলেন, বর্তমানে টেলিকম ও আইসিটি খাতের জিডিপিতে অবদান বিভিন্ন হিসাবে ১ থেকে ৬ শতাংশের মধ্যে ধরা হয়। তবে সঠিক নীতি ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন হলে আগামী কয়েক বছরে এই খাত দেশের অর্থনীতিতে আরও বড় ভূমিকা রাখবে।
তিনি জানান, গ্রাহকসংখ্যার দিক থেকে বাংলাদেশ বিশ্বের শীর্ষ ২০ দেশের মধ্যে থাকলেও সেবার মানের সূচকে দেশের অবস্থান এখনো ৯০-এর পরে। আগামী পাঁচ বছরে এই অবস্থার বড় পরিবর্তন আনতে চায় সরকার।
কর কাঠামো নিয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে মোবাইল অপারেটরদের কার্যকর করহার প্রায় ৫৫ থেকে ৫৬ শতাংশ, যা বৈশ্বিক গড়ের তুলনায় অনেক বেশি। ফলে আসন্ন বাজেটে গ্রাহক স্বার্থ বিবেচনায় কিছু পরিবর্তনের ইঙ্গিতও দিয়েছেন তিনি।
বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে দীর্ঘমেয়াদি নীতিমালা ও পূর্বানুমানযোগ্য রোডম্যাপ তৈরির কথাও জানিয়েছেন উপদেষ্টা। তার মতে, বর্তমানে বাংলাদেশে এফডিআই-জিডিপি অনুপাত মাত্র ০.৩৪ শতাংশ, যা প্রযুক্তিখাতের সম্ভাবনার তুলনায় অনেক কম।
দেশে স্মার্টফোন ব্যবহারের হার বাড়াতে ৫ থেকে ৬ হাজার টাকার মধ্যে স্থানীয়ভাবে স্মার্টফোন উৎপাদনের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি। পাশাপাশি সহজ কিস্তিতে ফোন কেনার সুবিধা দিতে মোবাইল অপারেটর ও ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলেও জানান।
স্পেকট্রাম নীতির বিষয়ে তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য শুধু রাজস্ব আয় নয়, বরং ডেটা সেন্টার, ক্লাউড অবকাঠামো, কনটেন্ট ডেলিভারি ও সাইবার নিরাপত্তার মতো খাতকে আরও শক্তিশালী করা।
সাইবার নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে জাতীয় তথ্য ও ডিজিটাল অবকাঠামো সুরক্ষায় দ্রুত উন্নয়নের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
এছাড়া তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য অনুদান, ঋণ ও স্কেল-আপ সহায়তা বাড়ানোর পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন উপদেষ্টা। তার মতে, বাংলাদেশের তরুণ জনগোষ্ঠী এবং প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতাকে কাজে লাগাতে পারলে আগামী কয়েক দশকে দেশ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত হতে পারে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী Fakir Mahbub Anam, বিটিআরসি চেয়ারম্যান Bangladesh Telecommunication Regulatory Commission–এর চেয়ারম্যান এমদাদ উল বারী এবং মোবাইল অপারেটর খাতসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিনিধি।
📌 সূত্রঃ টিআরএনবি গোলটেবিল আলোচনা ও আইসিটি উপদেষ্টার বক্তব্য
আরও পড়ুনঃ- সিটিসেল ফিরে এলে বাংলাদেশের টেলিকম দুনিয়ায় কী পরিবর্তন আসতে পারে?










