বিদেশে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখা হাজারো শিক্ষার্থীর জন্য বড় সুখবর দিতে যাচ্ছে সরকার। আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে যাতে কোনো মেধাবী শিক্ষার্থী বিদেশে পড়াশোনার সুযোগ হারিয়ে না ফেলেন, সে লক্ষ্যেই নতুন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, বিদেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত জামানতবিহীন ব্যাংক গ্যারান্টি দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।
আরও পড়ুন-ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য চালু হলো ক্রেডিট কার্ড, কী সুবিধা পাবেন ও কীভাবে আবেদন করবেন
সাম্প্রতিক এক মন্ত্রিসভা বৈঠকে এই প্রস্তাব উত্থাপন করেন তারেক রহমান। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বিদেশে উচ্চশিক্ষা অর্জনের পথে বড় ধরনের আর্থিক বাধা দূর হবে এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষাক্ষেত্রে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ আরও বাড়বে।
সরকারি সূত্র জানিয়েছে, বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার ক্ষেত্রে অধিকাংশ দেশ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ব্যাংক সলভেন্সি বা আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ দেখানো বাধ্যতামূলক। শিক্ষার্থীর পড়াশোনা ও জীবনযাত্রার খরচ বহনের সক্ষমতা আছে কিনা, তা যাচাই করতেই এই গ্যারান্টি চাওয়া হয়। কিন্তু অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী প্রয়োজনীয় আর্থিক কাগজপত্র বা ব্যাংক গ্যারান্টি দেখাতে না পারায় ভর্তি নিশ্চিত করতে পারেন না।
বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েন। অনেক সময় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি নিশ্চিত হওয়ার পরও শুধু ব্যাংক সলভেন্সি দেখাতে না পারায় তাদের বিদেশে যাওয়ার স্বপ্ন থেমে যায়। সরকার মনে করছে, নতুন এই সুবিধা চালু হলে এমন পরিস্থিতি অনেকটাই কমে আসবে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, একজন শিক্ষার্থী বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য প্রয়োজন হলে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যাংক গ্যারান্টি সুবিধা পাবেন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই সুবিধা নিতে কোনো ধরনের সম্পদ বা স্থাবর জামানত দিতে হবে না। অর্থাৎ শিক্ষার্থীদের পরিবারকে জমি, বাড়ি বা ব্যাংক ডিপোজিট বন্ধক রাখতে হবে না।
এ বিষয়ে নুরুল হক নুর বলেন, বিদেশে পড়াশোনার ক্ষেত্রে আর্থিক গ্যারান্টি বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। সরকারের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে অনেক শিক্ষার্থী সহজেই ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারবেন। বিশেষ করে যেসব শিক্ষার্থী স্কলারশিপ পেলেও ব্যাংক সলভেন্সির কারণে সমস্যায় পড়েন, তারা বড় উপকার পাবেন।
তিনি আরও জানান, সরকার শুধু ব্যাংক গ্যারান্টি নয়, ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের জন্য স্বল্পসুদে শিক্ষা ঋণের বিষয়টিও বিবেচনা করছে। এতে বিদেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ আরও বিস্তৃত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
শিক্ষাবিদরা বলছেন, বর্তমানে প্রতিবছর বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষার জন্য কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, মালয়েশিয়া ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে যাচ্ছেন। কিন্তু বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে টিউশন ফি ছাড়াও ব্যাংক স্টেটমেন্ট, আর্থিক গ্যারান্টি ও স্পনসরশিপ সংক্রান্ত জটিলতা বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়।
অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, শিক্ষার্থী মেধার ভিত্তিতে ভর্তি বা আংশিক স্কলারশিপ পেলেও প্রয়োজনীয় ব্যাংক ডকুমেন্ট দেখাতে না পারায় ভিসা আবেদন বাতিল হয়ে যায়। নতুন এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে শিক্ষার্থীরা সেই চাপ থেকে অনেকটাই মুক্তি পাবেন বলে মনে করছেন তারা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদেশে উচ্চশিক্ষা শুধু ব্যক্তিগত উন্নয়ন নয়, দেশের অর্থনীতির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা গ্রহণ করে দেশে ফিরে আসা শিক্ষার্থীরা প্রযুক্তি, গবেষণা, চিকিৎসা, ব্যবসা ও প্রশাসনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারেন। ফলে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে এই উদ্যোগ দীর্ঘমেয়াদে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
তারা আরও বলছেন, বর্তমানে দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশই বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন আর্থিক সহায়তা দিয়ে থাকে। বাংলাদেশেও যদি রাষ্ট্রীয়ভাবে এ ধরনের সহায়তা কার্যকরভাবে চালু হয়, তাহলে আন্তর্জাতিক শিক্ষাক্ষেত্রে দেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে।
তবে অর্থনীতিবিদদের মতে, এই প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও সঠিক যাচাই-বাছাই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে। যাতে প্রকৃত মেধাবী ও প্রয়োজনীয় শিক্ষার্থীরাই সুবিধা পান, সেদিকে নজর দিতে হবে। একই সঙ্গে বিদেশে পড়তে যাওয়ার পর শিক্ষার্থীদের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ এবং নির্ধারিত নীতিমালা মেনে সুবিধা প্রদান নিশ্চিত করাও জরুরি।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, বর্তমানে এই পরিকল্পনার নীতিগত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা চলছে। কোন প্রক্রিয়ায় শিক্ষার্থীরা আবেদন করবেন, কোন ব্যাংকের মাধ্যমে গ্যারান্টি দেওয়া হবে এবং কী ধরনের শর্ত প্রযোজ্য হবে—এসব বিষয় চূড়ান্ত করার কাজ চলছে।
সব মিলিয়ে, বিদেশে উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী শিক্ষার্থীদের জন্য ১০ লাখ টাকার জামানতবিহীন ব্যাংক গ্যারান্টির এই উদ্যোগকে বড় ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন শিক্ষাবিদ ও অভিভাবকরা। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে দেশের মেধাবী শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক শিক্ষার সুযোগ আরও সহজ হবে এবং ভবিষ্যতে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সূত্র: মন্ত্রিসভা বৈঠকের আলোচনা, সংশ্লিষ্ট সরকারি সূত্র ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট তথ্য।
আরও পড়ুন-প্রাইম ব্যাংকের জিরো ক্রেডিট কার্ড -কোন ফি নেই, সব প্রিমিয়াম সুবিধা
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔










