দেশের টেলিযোগাযোগ খাতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে স্যাটেলাইট টু মোবাইল সেবা চালুর ঘোষণা দিয়েছে Banglalink। বিশ্বের শীর্ষ স্যাটেলাইট ইন্টারনেট প্রযুক্তি প্রদানকারী Starlink-এর সঙ্গে অংশীদারত্বের মাধ্যমে এই সেবা চালু করতে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি, যা দেশের জন্য একটি নতুন মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
আরও পড়ুন-বাংলাদেশে আসছে স্টারলিংকের ৮০ অ্যান্টেনার ইন্টারনেট ট্রানজিট হাব
বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বাংলালিংক জানায়, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো সরাসরি স্যাটেলাইট থেকে মোবাইল নেটওয়ার্কে সংযোগ দেওয়া সম্ভব হবে। এর ফলে যেসব এলাকায় এখনো মোবাইল নেটওয়ার্ক দুর্বল বা একেবারেই নেই, সেসব জায়গাতেও সংযোগ নিশ্চিত করা যাবে।
বিশ্বজুড়ে স্টারলিংক ইতোমধ্যে স্যাটেলাইটভিত্তিক ইন্টারনেট সেবার মাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। এবার সেই প্রযুক্তিকে মোবাইল নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করে নতুন এক যুগের সূচনা করতে যাচ্ছে বাংলালিংক। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে ইন্টারনেট, ভয়েস কল, ভিডিও কল এবং বার্তা আদান-প্রদান করা সম্ভব হবে।
প্রাথমিকভাবে এই সেবা চালু হলে এসএমএস ও ওটিটি (OTT) মেসেজিং সুবিধা দেওয়া হবে। পরবর্তীতে ধাপে ধাপে ভয়েস কল এবং ডাটা সেবা যুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। তবে এই সেবা চালুর আগে নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন প্রয়োজন, যা পাওয়া গেলে দ্রুতই এটি চালু করা হবে।
বাংলালিংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইয়োহান বুসে বলেন, দেশের অনেক দুর্গম এলাকা এখনো প্রচলিত মোবাইল নেটওয়ার্কের আওতার বাইরে রয়েছে। এসব অঞ্চলে সংযোগ পৌঁছে দিতে স্যাটেলাইট প্রযুক্তি একটি কার্যকর সমাধান হতে পারে। তিনি আরও বলেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের প্রত্যন্ত এলাকাগুলোতেও নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
অন্যদিকে স্টারলিংক মোবাইলের ভাইস প্রেসিডেন্ট স্টেফানি বেডনারেক জানিয়েছেন, বাংলালিংকের সঙ্গে এই অংশীদারত্ব তাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তিনি বলেন, বাংলাদেশে এই সেবা চালু হলে লাখো মানুষ যোগাযোগ ব্যবস্থার আওতায় আসবে এবং ডিজিটাল বৈষম্য কমবে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান—নদী, চরাঞ্চল, পাহাড়ি এলাকা—এসব কারণে অনেক জায়গায় মোবাইল টাওয়ার স্থাপন করা কঠিন। সেখানে স্যাটেলাইটভিত্তিক নেটওয়ার্ক একটি বড় সমাধান হতে পারে। বিশেষ করে দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় এই প্রযুক্তি জরুরি যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে।
এই উদ্যোগ সফল হলে দেশের টেলিযোগাযোগ খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলবে। গ্রামীণ ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ সহজেই ডিজিটাল সেবার আওতায় আসবে, যা অর্থনৈতিক উন্নয়নেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
সব মিলিয়ে, বাংলালিংক ও স্টারলিংকের যৌথ উদ্যোগে স্যাটেলাইট টু মোবাইল সেবা চালু হওয়া বাংলাদেশের প্রযুক্তি খাতে একটি বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। এটি শুধু যোগাযোগ ব্যবস্থাকেই উন্নত করবে না, বরং ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তির নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
সূত্র: বাংলালিংকের অফিসিয়াল সংবাদ বিজ্ঞপ্তি।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
আরও পড়ুন-বাংলাদেশে স্টারলিংক ইন্টারনেট চালু: দাম, স্পিড, সুবিধা
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔









