দিনের বড় একটি সময় এখন স্মার্টফোন বা ল্যাপটপের স্ক্রিনেই কাটে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রিলস দেখা, পডকাস্ট শোনা কিংবা প্রিয়জনের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা বলা সব মিলিয়ে ডিজিটাল ডিভাইস আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। তবে এই অভ্যাস যে নিছক বিনোদন নয়, বরং ধীরে ধীরে শরীর ও মনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে সাম্প্রতিক গবেষণা সে দিকেই ইঙ্গিত করছে।
আরও পড়ুনঃ iPhone 18 Pro-এ আসছে বড় আপগ্রেড, ছোট Dynamic Island ও নতুন A20 Pro চিপ
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম কেবল চোখের ক্ষতি করে না, বরং এটি মানুষের মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটায় এবং রোগ প্রতিরোধক্ষমতাও দুর্বল করে দিতে পারে।
স্মার্টফোন বা ল্যাপটপের এলইডি স্ক্রিন থেকে নির্গত নীল আলো মানবদেহের জৈবিক ঘড়ির ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। এই আলো শরীরে মেলাটোনিন হরমোনের উৎপাদন কমিয়ে দেয়, যা মূলত ঘুম নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ফলে রাতে ঘুমের সমস্যা দেখা দেয় এবং ঘুমের ঘাটতি দীর্ঘমেয়াদে মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যকে বিপর্যস্ত করে তোলে।
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, এই নীল আলো মস্তিষ্কের নিউরনের ডেনড্রাইটিক স্পাইন ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। এই অংশেই স্মৃতি সংরক্ষণ হয়। ফলে অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহারের কারণে মানুষের শেখার ক্ষমতা এবং স্মৃতিশক্তি ধীরে ধীরে কমে যেতে পারে।
এছাড়া, রাত জেগে ফোন ব্যবহারের ফলে শরীরে প্রদাহ বা ইনফ্লামেশন বাড়ে। এর প্রভাব হিসেবে অনেকেই খিটখিটে মেজাজ, উদ্বেগ কিংবা বিষণ্ণতায় ভুগতে পারেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, দীর্ঘদিন ধরে এই অবস্থা চলতে থাকলে তা মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও আয়ারল্যান্ডে পরিচালিত একাধিক গবেষণায় উঠে এসেছে আরও উদ্বেগজনক তথ্য। গবেষকরা জানিয়েছেন, অতিরিক্ত ফোন ব্যবহারের ফলে আমাদের অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়া বা মাইক্রোবায়োমের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায়। অথচ মানবদেহের প্রায় ৯০ শতাংশ সেরোটোনিন যা সুখের অনুভূতির জন্য দায়ী পাকস্থলীতেই উৎপন্ন হয়।
ঘুমের অভাব এবং অনিয়মিত জীবনযাত্রার কারণে এই ভারসাম্য নষ্ট হলে তা সরাসরি মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলে। ফলে বিষণ্ণতা, উদ্বেগ এবং মানসিক ক্লান্তি বাড়তে থাকে।
বিশেষজ্ঞ জন লা পুমা এই অবস্থাকে ‘ডিজিটাল ওবেসিটি’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, আধুনিক মানুষ তথ্যের ভারে অতিরিক্ত চাপে থাকলেও শারীরিক বিশ্রাম ও পুষ্টির ঘাটতিতে ভুগছে। এর ফলে মস্তিষ্কে দীর্ঘমেয়াদি প্রদাহ তৈরি হচ্ছে, যা একধরনের ‘প্রদাহজনিত বার্ধক্য’-এর দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
এছাড়া কৃত্রিম আলোর প্রভাবে অন্ত্রের দেয়াল দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। এতে ক্ষতিকর উপাদান রক্তে মিশে মস্তিষ্কে পৌঁছায়, যা ভবিষ্যতে আলঝেইমারস বা ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি বাড়াতে পারে বলে সতর্ক করেছেন গবেষকরা।
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো প্রতিটি নোটিফিকেশন আমাদের মস্তিষ্কে ক্ষুদ্র পরিমাণ ডোপামিন নিঃসরণ ঘটায়। এই ডোপামিনের কারণে মানুষ বারবার ফোন চেক করতে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে, যা ধীরে ধীরে এক ধরনের আসক্তিতে পরিণত হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রবণতা অনেকটাই মাদকের আসক্তির মতো আচরণ তৈরি করতে পারে।
তবে আশার কথা হলো, এই ক্ষতিকর প্রভাব থেকে ফিরে আসা অসম্ভব নয়। বিজ্ঞানীরা বলছেন, জীবনযাত্রায় কিছু সহজ পরিবর্তন আনলেই শরীরের স্বাভাবিক ছন্দ আবার ফিরে আসতে পারে।
ঘুমানোর অন্তত এক ঘণ্টা আগে সব ধরনের স্ক্রিন ব্যবহার বন্ধ রাখা, বিকেল তিনটার পর চা বা কফি এড়িয়ে চলা এবং প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানোর অভ্যাস গড়ে তোলা এসব অভ্যাস শরীর ও মনের সুস্থতা ফিরিয়ে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
আরও পড়ুনঃ- বাংলাদেশে শুরু Galaxy S26 সিরিজের প্রি-অর্ডার, দাম কত জানুন
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔









