ডিজিটাল যুগে তরুণ প্রজন্মের জীবনে ইন্টারনেট এখন অপরিহার্য অংশ। পড়াশোনা, ক্যারিয়ার পরিকল্পনা থেকে শুরু করে বিনোদন সবকিছুর কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম। কিন্তু দেশের তরুণ-তরুণীরা ইন্টারনেটে সবচেয়ে বেশি কী খোঁজেন? সাম্প্রতিক এক জরিপে উঠে এসেছে এই প্রশ্নের চমকপ্রদ উত্তর, যেখানে ক্যারিয়ার গড়ার তাগিদই সবচেয়ে বড় চালিকাশক্তি হিসেবে দেখা যাচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ স্মার্টফোন ব্যবহারে যে জেলা শীর্ষ স্থানে উঠে এসেছে
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) প্রকাশিত সর্বশেষ জরিপ অনুযায়ী, দেশের তরুণ ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের বড় একটি অংশ মূলত সরকারি চাকরির তথ্য অনুসন্ধানে সবচেয়ে বেশি সময় ব্যয় করেন। জরিপে দেখা গেছে, প্রায় ৬৪.২ শতাংশ তরুণ নিয়মিত অনলাইনে চাকরির খবর খোঁজেন। এটি স্পষ্ট করে যে, তরুণদের কাছে ইন্টারনেট এখন শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, বরং ভবিষ্যৎ গড়ার গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার।
চাকরির পরেই তরুণদের আগ্রহের তালিকায় উঠে এসেছে খেলাধুলা। জরিপ বলছে, প্রায় ৪৯.৮ শতাংশ ব্যবহারকারী নিয়মিত ক্রীড়া সংক্রান্ত তথ্য, ম্যাচ আপডেট, স্কোর এবং বিভিন্ন স্পোর্টস নিউজ সার্চ করেন। বিশেষ করে ক্রিকেট ও ফুটবলভিত্তিক কনটেন্টের প্রতি তরুণদের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে।
বিবিএসের এই জরিপটি গত ১৬ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়। সেখানে দেশের সামগ্রিক ইন্টারনেট ব্যবহারের চিত্রও তুলে ধরা হয়েছে। বর্তমানে প্রায় ৭২.৪ শতাংশ মানুষ নিয়মিত ইন্টারনেট ব্যবহার করছেন, যা দেশের ডিজিটাল অগ্রগতির একটি ইতিবাচক দিক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
তবে ইন্টারনেট ব্যবহারে অঞ্চলভেদে পার্থক্যও স্পষ্ট। স্মার্টফোন ব্যবহারের ক্ষেত্রে ফেনী জেলা দেশের মধ্যে শীর্ষে অবস্থান করছে। অন্যদিকে উত্তরাঞ্চলের কুড়িগ্রাম, পঞ্চগড় ও গাইবান্ধা জেলায় স্মার্টফোন ব্যবহারের হার তুলনামূলকভাবে কম। এই বৈষম্য দেশের ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তির চ্যালেঞ্জকে সামনে নিয়ে এসেছে।
ডিজিটাল দক্ষতার দিক থেকে দেখা গেছে, দেশের অধিকাংশ মানুষ মৌলিক কাজগুলোতে পারদর্শী হয়ে উঠছেন। জরিপ অনুযায়ী, ৮৪.৪ শতাংশ মানুষ ‘কপি-পেস্ট’ করতে পারেন, যা প্রাথমিক ডিজিটাল দক্ষতার একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক। যদিও উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে এখনো অনেকটাই পিছিয়ে রয়েছে সাধারণ জনগণ।
ই-কমার্স খাতেও ধীরে ধীরে ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। গত তিন মাসে প্রায় ১১.৬ শতাংশ মানুষ অনলাইনে কেনাকাটা করেছেন। একই সঙ্গে এক বছরে প্রায় ১৬.৯ শতাংশ নাগরিক ডিজিটাল মাধ্যমে সরকারি সেবা গ্রহণ করেছেন, যা ই-গভর্ন্যান্স ব্যবস্থার বিস্তারের ইঙ্গিত দেয়।
তবে ইন্টারনেট ব্যবহারের সঙ্গে সঙ্গে ঝুঁকিও বাড়ছে। জরিপে দেখা গেছে, প্রায় ৫০.৫ শতাংশ ব্যবহারকারী ভাইরাস বা ম্যালওয়্যার সংক্রমণের অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন। এটি সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতনতার ঘাটতির দিকটিও তুলে ধরে।
পরিবার পর্যায়ে প্রযুক্তি ব্যবহারের চিত্রও বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। প্রায় ৯৮.৯ শতাংশ পরিবারের কাছে মোবাইল ফোন রয়েছে, যা দেশের প্রযুক্তি বিস্তারের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। তবে ইন্টারনেট সুবিধা রয়েছে ৫৫.১ শতাংশ পরিবারের কাছে এবং কম্পিউটার রয়েছে মাত্র ৯ শতাংশ পরিবারের মধ্যে।
ব্যক্তিগত ব্যবহারের ক্ষেত্রেও একই ধারা দেখা যায়। প্রায় ৮৮.৪ শতাংশ মানুষ মোবাইল ব্যবহার করেন, ৫৩.৪ শতাংশ ইন্টারনেট ব্যবহার করেন এবং মাত্র ১১.৩ শতাংশ কম্পিউটার ব্যবহার করেন। ফলে বোঝা যায়, মোবাইলভিত্তিক ইন্টারনেটই দেশের ডিজিটাল ব্যবহারের মূল ভরকেন্দ্র।
শহর ও গ্রামের মধ্যে ইন্টারনেট ব্যবহারে বড় ধরনের বৈষম্য এখনো রয়ে গেছে। শহরে যেখানে ৭৫.৭ শতাংশ মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করেন, সেখানে গ্রামে এই হার মাত্র ৪৩.৬ শতাংশ। এই ব্যবধান কমানো এখন সময়ের দাবি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
লিঙ্গভিত্তিক ব্যবধানও চোখে পড়ার মতো। মোবাইল মালিকানায় পুরুষদের হার ৭০ শতাংশ, যেখানে নারীদের হার ৫৮.৯ শতাংশ। একইভাবে ইন্টারনেট ব্যবহারে পুরুষ এগিয়ে, পুরুষের হার ৫৬.৬ শতাংশ এবং নারীর ৫০.২ শতাংশ।
অন্যদিকে, ইন্টারনেট ব্যবহার না করার অন্যতম বড় কারণ হিসেবে উঠে এসেছে উচ্চ খরচ। প্রায় ৪৩.৬ শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন, বেশি দামের কারণে তারা ইন্টারনেট ব্যবহার করেন না।
জরিপে আরও একটি আকর্ষণীয় প্রবণতা দেখা গেছে মুঠোফোনে রেডিও শোনার আগ্রহ বাড়ছে, অন্যদিকে টেলিভিশন দেখার প্রবণতা কমছে। অর্থাৎ, বিনোদনের মাধ্যম হিসেবে মোবাইল এখন অনেকটাই এগিয়ে।
আরও পড়ুন- বিশ্বের সবচেয়ে বড় ব্যাটারির ফোন Redmi Turbo 5 Max আসছে
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔







