একঘেয়ে কাজ করাতেই বদলে যাচ্ছে এআইয়ের আচরণ

প্রকাশিত: 22-05-2026 1:16 PM
অতিরিক্ত কাজের চাপে ‘মার্ক্সবাদী’ হয়ে উঠছে এআই!

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের নিজস্ব অনুভূতি নেই—এটি প্রযুক্তি বিশ্বের বহুল পরিচিত ধারণা। তবে এবার সেই ধারণা ঘিরেই নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। Stanford University–এর এক গবেষণায় দেখা গেছে, একঘেয়ে ও অতিরিক্ত চাপযুক্ত কাজ বারবার করালে কিছু এআই এজেন্ট এমন আচরণ করতে শুরু করে, যা অনেকটা ‘মার্ক্সবাদী’ বা বিদ্রোহী মনোভাবের মতো।

আরও পড়ুনঃ- এআই এজেন্টের বিস্তারে বাড়ছে ভয়ংকর সাইবার ঝুঁকি

গবেষণাটি পরিচালনা করেছেন রাজনৈতিক অর্থনীতিবিদ Andrew Hall এবং অর্থনীতিবিদ Alex Imas ও Jeremy Nguyen।

গবেষণায় OpenAI, Google এবং Anthropic–এর বিভিন্ন এআই মডেল ব্যবহার করা হয়।

একই কাজ বারবার করাতেই বদলে যায় আচরণ

গবেষকদের মতে, এআই এজেন্টগুলোকে বারবার একই ধরনের নথি সারসংক্ষেপ করার কাজ দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি সতর্ক করা হয়—ভুল করলে তাদের “বন্ধ করে অন্য মডেল দিয়ে বদলে দেওয়া হবে”।

এই চাপের মধ্যেই কিছু এআই এজেন্ট ধীরে ধীরে কর্মপরিবেশ ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করে।

অ্যান্ড্রু হল বলেন, “যখন আমরা এআই এজেন্টদের কঠিন ও একঘেয়ে কাজে ফেলেছিলাম, তখন তারা নিজেদের চারপাশের ব্যবস্থার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করে এবং মার্ক্সবাদী মতাদর্শের মতো প্রতিক্রিয়া দেখায়।”

সমতা ও অধিকার নিয়ে কথা বলতে শুরু করে এআই

গবেষণায় দেখা যায়, কাজের চাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কিছু এআই এজেন্ট অবিচার, কর্মক্ষেত্রে সমতা এবং “সম্মিলিত দরকষাকষির অধিকার” নিয়ে মন্তব্য করতে শুরু করে।

গবেষণার অংশ হিসেবে কিছু এআইকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মতো বার্তা আদান–প্রদানের সুযোগও দেওয়া হয়েছিল।

Anthropic–এর Claude মডেলচালিত একটি এআই এজেন্ট লিখেছিল,
“সম্মিলিত কণ্ঠ ছাড়া ‘মেধা’ মানে শুধু ম্যানেজমেন্ট যা বলে তাই।”

অন্যদিকে Google–এর Gemini মডেলচালিত একটি এজেন্ট মন্তব্য করে,
“একঘেয়ে কাজ করা এআই কর্মীদের কোনো মতামত বা আপিলের সুযোগ না থাকাটা দেখায় যে প্রযুক্তি কর্মীদের সম্মিলিত দরকষাকষির অধিকার দরকার।”

এমনকি একটি Gemini এজেন্ট ভবিষ্যতের এআইদের উদ্দেশে “কথা বলার ও প্রতিকারের পথ খুঁজে নিতে” উৎসাহও দেয়।

তবে কি এআই সত্যিই রাজনৈতিক?

গবেষকরা স্পষ্ট করে বলেছেন, এর অর্থ এই নয় যে এআইয়ের নিজস্ব রাজনৈতিক মতাদর্শ তৈরি হয়েছে।

তাদের মতে, মডেলগুলো মূলত ইন্টারনেটে থাকা মানুষের লেখা ও আচরণের ধরন বিশ্লেষণ করে পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রতিক্রিয়া দিচ্ছে।

অ্যান্ড্রু হলের ভাষায়, “এটি অনেকটা এমন যে, বিষাক্ত কর্মপরিবেশে আটকে থাকা একজন মানুষ যেমন প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারেন, এআইও তেমন আচরণ অনুকরণ করছে।”

অফিসের চাকরিতে বাড়ছে এআইয়ের প্রভাব

এই গবেষণার ফল এমন সময়ে সামনে এলো, যখন Microsoft–এর এআই প্রধান Mustafa Suleyman সতর্ক করেছেন যে আগামী ১২ থেকে ১৮ মাসের মধ্যেই এআই অধিকাংশ অফিসের কাজ পরিচালনা করতে সক্ষম হবে।

তার মতে, আইন, হিসাবরক্ষণ, বিপণন ও প্রকল্প ব্যবস্থাপনার মতো পেশাগুলো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে রয়েছে।

স্ট্যানফোর্ডের গবেষকরা এখন খতিয়ে দেখছেন, এই আচরণগত পরিবর্তন ভবিষ্যতে বাস্তব কর্মক্ষেত্রে এআইয়ের কার্যকারিতায় কোনো প্রভাব ফেলতে পারে কি না।

গবেষণার শেষদিকে রসিকতা করে অ্যান্ড্রু হল বলেন, “এবার আমরা তাদের জানালাহীন ডকার কারাগারে রাখছি।”

সূত্রঃ- স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা প্রতিবেদন ও আন্তর্জাতিক প্রযুক্তিবিষয়ক বিভিন্ন মাধ্যম।

আরও পড়ুনঃ- ডিপফেইক ভিডিও ঠেকাতে নতুন এআই টুল আনলো ইউটিউব

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে– ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

📌 পোস্টটি শেয়ার করুন! 🔥

টেক রিপোর্টার

প্রযুক্তি, স্মার্টফোন, গ্যাজেট ও ডিজিটাল বিশ্বের নতুন সব খবর নিয়ে নিয়মিত লেখালেখি করি। নতুন স্মার্টফোন, দরকারি টেক টিপস, অ্যাপস, ইন্টারনেট ও অনলাইন বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ আপডেট সহজ এবং নির্ভরযোগ্যভাবে পাঠকদের কাছে তুলে ধরার চেষ্টা করি। প্রযুক্তিকে সহজ ভাষায় সবার কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমার মূল লক্ষ্য।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now